শিরোনাম :

  • রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
ব্যাবসার আড়ালে প্রতারণা (পর্ব -১)
দক্ষিণখানে সিকিউরিটি কোম্পানির বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ
মিজানুর রহমান
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৪:৪৩:৪৭
প্রিন্টঅ-অ+

বাহিরে থেকে বোঝার উপায় নেই কি কাজ চলে এই অফিসে। সামনে সিকিউরিটি কোম্পানির আড়ালে চলছে চাকুরির নামে প্রতারণার এক ভয়াবহ ফাঁদ। চাকুরি প্রত্যাশিদের কাছ থেকে ভর্তির কথা বলে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। অপরদিকে গ্রামের সহজ সরল যুবকরা এসে প্রতারিত হয়ে শুন্য হাতে ফিরছেন। এমনই একটি প্রতিষ্ঠান রাজধানীর দক্ষিণখানের ট্রান্সমিটার এলাকার র‌্যাপিড সেফ সিকিউরিটি কোম্পানি।


কোম্পানিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, চাকুরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে চাকুরি দেবার নাম করে জনপ্রতি ১৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। এরপর তাদের মধ্য থেকে যারা থেকে খেয়ে মাসের পর মাস অবস্থান করতে পারে তাদের কয়েকজনকে চাকুরি দিলেও অধিকাংশই রিক্ত হাতে ফিরে যাচ্ছে।


সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অফিসের বাহিরে র‌্যাপিড সেফ সিকিউরিটি সার্ভিস কোম্পানীর একটি ফেস্টুন ঝুলিয়ে রাখা থাকলেও ভিতরে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।


প্রতিবেদক নিজেই অনুসন্ধানের স্বার্থে নাম পরিচয় গোপন রেখে চাকরির খোঁজে মার্কেটিং অফিসার আরাফাতের নিকট ফোন করলে তিনি বলেন, প্রথম ভর্তি হওয়ার সময় ৩হাজার ৫শ’ টাকা জমা দিতে হবে। পরে আপনার নামে একটি একাউন্ট করে দিবো। আপনি কাগজপত্র নিয়ে অফিসে আসেন। কিন্তু সঠিক ঠিকানা না দিয়ে জয় নামের একজনকে দিয়ে কথা বলায়। এই জয়কে পরিচয় দেওয়া হয়েছে কোম্পানির এজিএম হিসেবে। কিন্তু এজিএমের ভিজিটিং কার্ডে দেখা গেছে সে স্মার্ট সিকিউরিটি সার্ভিস নামে অপর একটি কোম্পানির হয়ে কাজ করছেন। 


একপর্যায়ে অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিস সহকারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, যারা চাকুরী করতে ইচ্ছুক তাদের প্রত্যেকেই ১৫হাজার টাকা জমা দিয়ে জয়েন্ট করেছে। এরকম শতশত লোকের কাছ থেকে এভাবেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


এ বিষয়ে অফিসে কর্মরত এজিএম জয়ের বলেন, আমি কোন সাংবাদিকের সাথে কথা বলতে চাই না। আমি প্রয়োজন হলে সম্পাদকের সাথে কথা বলবো। আমাদের এত সময় নেই, চাকুরী দেয়ার নামে প্রতারণার মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। উল্টো খারাপ আচরন করে ফোন রেখে দেন। 


এ বিষয়ে স্মার্ট সিকিউরিটি সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বপনের সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা টাকা নিচ্ছি শুনেছেন? কিন্তু কেন নিচ্ছি শুনেন নাই? এই টাকা আমরা তাদের জন্য ফেইসবুক বুষ্টিং করে তাদের পিছনে খরচ করি এবং আমরা প্রত্যেকের নিকট ষ্ট্যাম্প লিখিত নেই এই টাকা অফেরৎযোগ্য বলে। আমার বাপের কি জমিদারি আছে যে আমি বাড়ি থেকে এনে খরচ করবো। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে প্রভাবশালী কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলেন, আমার সাথে সাংবাদিক পুলিশ আছে।


আপনি এক কোম্পানির নাম ব্যবহার করে অন্য নামে কাজ করছেন এবং এত টাকা নিচ্ছেন, সরকার টাকা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন কি? এমন সব প্রশ্নের কোন জবাব না দিয়ে বিভিন্ন অযুহাত দাড় করান। এক পর্যায়ে বলেন, এক সময় ফোন দিয়ে আমার অফিসে আসবেন বলে ফোনটি কেটে দেন।


এই সকল প্রতারণার বিষয় দক্ষিণ খান থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এর আগেও বি এলার্টের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেয়া হয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে গণমাধ্যমে বেশি বেশি সচেতনতামূলতক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরো পড়ুন