শিরোনাম :

  • রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
পুলিশ চাইলে সবই পারে
সাইফুল ইসলাম, ঢাকা:
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৭:৫৭:৩৮
প্রিন্টঅ-অ+

ছিনতাই হয়ে যাওয়ার পর ফোনটি হাত বদল হয়েছে ৪ বার। লাখ টাকার ফোন বিক্রি হওয়া শুরু হয় ১৮ হাজার টাকায় এবং সবশেষ হাতে যায় ২৩ হাজার টাকায়। এরপরও ফোনটি উদ্ধার হয়েছে প্রতিটি পার্টে (অংশে) খোলা অবস্থায়। এমনিভাবে আলোচিত ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনার বিবরণ দিলেন উদ্ধারকারী আনসার সদস্য সাঈয়ান মোরশেদ।


গত ৩১ আগষ্ঠ রাতে গাড়িতে বসে ফোনে কথা বলা অবস্থায় পথে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের শিকার হয় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। এ ঘটনায় ওই রাতে বিমান বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন জিএম কাদেরের একান্ত সহকারী তৈয়ব আলী। বিমানবন্দর থানার তৎপরতায় ৮ দিনে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিংমল থেকে ফোনটি উদ্ধার করেন বিমানবন্দর থানার এসআই রুবেল শেখ ও আনসার সদস্য মোঃ সাঈয়ান মোরশেদসহ সঙ্গীয় ফোর্স। উদ্ধারের পর ফোন পেয়ে জাপা প্রেসিডেন্ট বললেন, পুলিশ চাইলে সবই পারে।


সাঈয়ান মোরশেদ আমার বার্তাকে বলেন, গত এক মাসে বেশি-কিছু চুরি-ছিনতাই বা হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছেন। জিএম কাদেরের ফোনটি ছিনতাইকারী চক্রে ৪ বার বিক্রি হয়ে হাত বদল হয় ফোনটি। লাখ টাকার মোবাইল মামলার পরপরই বিমানবন্দর থানার এস আই রুবেল শেখ ও আনসার মোঃ সাঈয়ান মোরশেদ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসপাশের মানুষের কাছে ছিনতাইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলেও হতাশ হচ্ছিলেন। কিন্তু পরে সোর্স দিয়ে তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী চক্রের মোঃ আজিজুল (২১), নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে আজিজুল বলেন ছিনতাই করেছি আমি কিন্তু ফোনটি আমার সাথে থাকা সহযোগী আজিজের কাছে আছে। এরপর অভিযান চালিয়ে মোঃ আজিজ (১৯) কে বসুন্ধরা মার্কেটের পিছনের একটি বাড়ি থেকে আটক করেন তারা। কিন্তু ফোনটি তখন এরই মধ্যে আজিজ ফোনটি মোহাম্মদ ইসমাইল (২৪) নামক এক ব্যাক্তির কাছে ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে। পরবর্তীতে ইসমাইলকে গ্রেফতারের পর সে জানায় ফোনটি বসুন্ধরা মার্কেটের পঞ্চম তলার ৯৩ নাম্বার দোকানে মোঃ  সানাউল্লাহ (৩২) এর কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এরপর বসুন্ধরা মার্কেটে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। কিন্তু ফোন মেলেনি সেখানেও। সানাউল্লাহ ফোনের লক খুলতে না পেরে ২৩ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন পাশের দোকানী সুবল চন্দ্র ঘোষ (৩২)এর কাছে। সবশেষে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ফোনটি কয়েক অংশে সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় উদ্ধার করে। তারই সাথে সুবল চন্দ্র ঘোষকেও আটক করে।


তার মতে হারানো মোবাইল ফোন ফিরে পেতে অনেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেও তা উদ্ধার করার সংখ্যা খুবই কম। তবে সম্প্রীতি সময়ে আলোচিত কিছু মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে আশা তৈরী হচ্ছে। পরিকল্পনা মন্ত্রী, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানসহ এমনি নামী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির ফোনও ছিনতাই হচ্ছে। আর এসব ফোন উদ্ধারের পর জানা যাচ্ছে অভিনব সব পদ্ধতিতে ছিনতাইকৃত ফোনের হাতবদল।


পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এখন প্রযুক্তির কল্যানে পুলিশ চাইলে যে কোন মোবাইল সেট আইএমইআই নাম্বার ছাড়াও খুঁজে পেতে পারে। নিজেদের সোর্স আর পুরনো অনুসন্ধান পদ্ধতিতে প্রযুক্তিকে যুক্ত করে হারানো ফোন উদ্ধারে এগিয়েছে পুলিশ। তারই ধারাবাহিতকায় সম্প্রতি সময়ে বেশ কিছু ছিনতাইকৃত ও হারানো ফোন উদ্ধার করতে পেরেছেন তারা। তিনি বলেন, মোবাইল ফোন ফিরে পেতে ভুক্তভোগীরা যখন থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন, তখন সেখানে মোবাইল ফোনের নম্বর, কোন অপারেটরের সেট ও সেটের আইএমইআই নম্বর উল্লেখ করতে হয়। আইএমইআই নম্বর উল্লেখ করতে না পারে তাতেও কোন সমস্যা নেই ফোন নম্বর দিয়েও সেট উদ্ধার করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ওই পুলিশ ও আনসার সদস্য। তারা বলছেন, চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি যদি অন্য কেউ ব্যবহার করে তাহলে সহজেই সেটি উদ্ধার করা সম্ভব। তবে সবসময় উদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে।


বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে জিএম কাদেরের বাসায় গিয়ে বিকালে পুলিশ সদস্যরা আইফোনটি তার হাতে তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মোর্শেদ আলম, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার তাপস কুমার। মোবাইল ফোন ফেরত পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন জিএম কাদের। তিনি পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

আরো পড়ুন