শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
পরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে দেশে চা উৎপাদনে রেকর্ড
২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:৪০:৪৯
প্রিন্টঅ-অ+

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : অনুক‚ল আবহাওয়ায় এবার দেশে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন হয়েছে। অনুক‚ল আবহাওয়া এবং সরকারের চা শিল্পে উল্লেখযোগ্য পরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে দেশে চায়ের উৎপাদন বেড়েই চলেছে। ফলে এবার দেশে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।


বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্র (বিটিআরআই) ও বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে দেশের ১৬৭টি চা বাগান এবং ক্ষুদ্রায়তন চা বাগান থেকে রেকর্ড ৯৬ দশমিক ৫০৬ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ উৎপাদন। সরকারি সহায়তা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে চা শিল্পের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে চা শিল্প সংশ্লিরা জানিয়েছেন।


বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২০ সালে দেশে ৮৬ দশমিক ৩৯৪ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়। যা গত ২০২০ সালের চেয়ে ১০ দশমিক ১১১ মিলিয়ন কেজি বেশি। এই হিসেব কেবল ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। অন্যদিকে শুধুমাত্র উত্তরা লের প গড়ের চা বাগান থেকেও ২০২১ সালে রেকর্ড পরিমাণ ১৪ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন কেজি চা জাতীয় উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। ২০২০ সালে উৎপাদন হয়েছিল ১০ দশমিক ৩০ মিলিয়ন কেজি। এর পাশাপাশি ২০১৯ সালে দেশে রেকর্ড পরিমাণ ৯৬ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল।


বাংলাদেশ টি ট্রেডার্স এন্ড প্লান্টার্স এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক জহর তরফদার জানান, চা শিল্পে সরকারি নানা প্রনোদনা সহায়তা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে চা শিল্পের অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের পর চায়ের নিলাম হাউজ শ্রীমঙ্গলে প্রতিষ্ঠা হওয়ায় অল্প সময়ের ব্যবধানে চা বাজারজাত হচ্ছে, এতে চায়ের গুনগত মানও অক্ষুন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে। আর গুনগত মান ঠিক রেখে উন্নয়নে ধারা অব্যাহত রাখা গেলে অদূর ভবিষ্যতে চা শিল্প আরো এগিয়ে যাবে-এমনটা মনে করেন তিনি।


ফিনলের মালিকানাধিন ভাড়াউড়া চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজার জি এম শিবলী জানান, এসব চায়ের দুই তৃতীয়াংশ উৎপাদন হয় মৌলভীবাজারের ৯২টি চা বাগানে। সংশ্লিষ্ট চা বাগান কর্তৃপক্ষ ও চা বোর্ডের নানামুখি উদ্যোগের ফলে চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।


শ্রীগবিন্দপুর চা বাগানের স্বত্বাধিকারী মহসিন মিয়া মধু জানান, মৌসুমের শুরু অনুক‚ল আবহাওয়া থাকায় চারে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছরও উৎপাদনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।


বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, কোভিড পরিস্থিতি সামনে রেখে চা উৎপাদনের এ ধারাবাহিকতা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, চা শিল্পের সক্ষমতা অনেকাংশে বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের সব চা বাগানের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। সরকারের আর্থিক প্রণোদনা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের নিয়মিত মনিটরিং ও পরামর্শ প্রদান, বাগান মালিক ও শ্রমিকদের নিরলস প্রচেষ্টা, স্বল্প মূল্যে সার বিতরণ, স্বাস্থ্য বিধি মেনে চা নিলাম কেন্দ্র চালু, চা শ্রমিকদের মজুরি, রেশন এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের ফলে ২০২১ সালে দেশের চা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

আরো পড়ুন