শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
গরু পালনে হিমশিম খাচ্ছেন খামারিরা
২১ মার্চ, ২০২২ ১৩:৪৯:৫৪
প্রিন্টঅ-অ+

গো-খাদ্যের সংকট এবং ওষুধের দাম দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় জামালপুরে গরু খামারিরা গরু পালনে হিমশিম খাচ্ছেন। এ বিষয়ে খামারিরা জানান, এ অবস্থায় খামার চালানো সম্ভব হবে না। প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা কোনো সহযোগিতা করছেন না। তবে খামারিদের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রাণিসম্পদ বিভাগের দাবি, তারা খামারিদের সব ধরনের সহায়তা করে যাচ্ছে।


গো-খাদ্যের সংকট এবং ওষুধের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গরু লালন-পালনে হিমশিম খাচ্ছেন খামারিরা।


এ বিষয়ে খামারিরা জানান, গরুর খাদ্যের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। যে ভুসি ৮০০ টাকা ছিল, তা বর্তমান বাজারে কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে। খৈল ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ২০০ টাকা। প্রতিদিন খামার থেকে যে দুধ পাওয়া যায়, তাতে পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। বাজারে দুধের যে দাম, তাতে কর্মচারীর বেতনও উঠছে না।


সরকারের সহযোগিতা না পেলে খামার ধরে রাখা সম্ভব নয় মন্তব্য করে খামার মালিকরা অভিযোগ করেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ কোনো সহযোগিতা করছে না। ভ্যাকসিন নিতে গেলে কর্মকর্তারা বলেন সরবরাহ নেই।


এদিকে বিপাকে পড়া খামার কর্মচারীরা বলেন, ‘খামার মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এতে খামার বন্ধ হয়ে গেলে আমরা বেকার হয়ে পড়ব।’


শহরের রশিদপুর এলাকার ২ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় সেভেন স্টার ডেইরি ফার্ম। প্রথমে ২টি গরু দিয়ে শুরু করে দুই বছরে ৬০টি গরু নিয়ে খামারে তোলা হয়। তবে কর্মচারী সংকট, গো-খাদ্য ও ওষুধের দাম বেশি হওয়ায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। খামারের মালিক আশরাফুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘খামার চালানো সম্ভব নয়। কর্মচারী পাওয়া যায় না। গরুর ওষুধপত্রসহ খাদ্যের দাম দিয়ে পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। এ কারণে খামার বন্ধ করে দিয়েছি।’


তবে জামালপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারের নিয়মানুযায়ী খামরিদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। খামারিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে খামার পরিদর্শন করে তাদের সব ধরনের পরার্মশ দেওয়া হচ্ছে।


খামারিদের অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো খামারি যদি অসহযোগিতার অভিযোগ করেন, সেটা আমার জানা নেই। গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।’


উল্লেখ্য, জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২৪ হাজার ৯১২টি ডেইরি খামার রয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিবন্ধন রয়েছে ৬৮৯টির।

আরো পড়ুন