শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
এক মণ পেঁয়াজে একজন শ্রমিকের মজুরি
০৯ এপ্রিল, ২০২২ ১২:২৯:২২
প্রিন্টঅ-অ+

এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মজুরির টাকাও দিতে পারছে না এমন অভিযোগ করছে রাজবাড়ীর পেঁয়াজ চাষিরা। প্রতিদিনই বাজারে কমছে পেঁয়াজের দাম। তাই লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। 


গতকাল শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নে বৃত্তিডাঙ্গা পেঁয়াজের বাজার ছিল। এ দিন বাজারে ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হয়। 


পেঁয়াজ বিক্রি করে আসা কৃষক সুভাষ বসাক জানান, আজকে বাজারে সব থেকে ভালো পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০০ টাকা মণ করে। আর একটু ছোটটা প্রতিমণ ৫৫০ টাকা। কিন্তু একজন শ্রমিকের মজুরি ৬৫০ টাকা। ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলে বাড়িতে এনে কাটার জন্যই দিতে হয় ৩৫ টাকা করে। তাহলে পেঁয়াজ আবাদ করে কিভাবে বেঁচে থাকবো। 


তিনি আরও জানান, এক মণ পেঁয়াজ বাজার পর্যন্ত নিতে খরচ হয় এক হাজার টাকার বেশি। সেখানে ৫৫০ টাকায় একমন পেঁয়াজ বিক্রি করে আমি শ্রমিকের দামই দিতে পারবো না। আমার সারের দোকানে বাঁকি, তেলের দোকানে বাঁকি এসব দেনা কিভাবে শোধ করবো। 


বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কৃষক রহিম মÐল জানান, এ বছর তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলাম। সব মিলিয়ে পেঁয়াজ হয়েছে একশ মণ। বর্তমান বাজারে বিক্রি করলে আমি ৬০ হাজার টাকার বেশি পাবো না।  কিন্তু আমার খরচ হয়েছে এক লাখ ১০ হাজার টাকা। তাহলে আমি কি ভাবে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকবো। সরকারকে অনুরোধ দ্রæত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করা হোক।


বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। পেঁয়াজ রোপণের সময় শ্রমিকে মজুরি ছিল ৬০০টাকা করে। দুই সেচ দিতে হয়। পেঁয়াজ ক্ষেত কোপাতে হয়। সার কীটনাশক ও চাষ মিলে এই খরচ। সেখানে এ বছর বিঘা প্রতি পেঁয়াজ হয়েছে ৩০ থেকে ৩৮ মণ করে। ফলে বর্তমান বাজারে বিক্রি করে খরচের অর্ধেক টাকা পাচ্ছে না কৃষক।


গেল বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী পৌর সভার মিলনায়তনে কৃষি বিপণন ও উৎপাদন নিয়ে মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। সেখানে রাজবাড়ীর কৃষি বিভাগ জানায়, রাজবাড়ীতে এ বছর ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে, যা দেশের মোট উৎপাদিত পেঁয়াজের ১৪ ভাগ। প্রতিদিন রাজবাড়ীর বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে গড়ে এক হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। 


মতবিনিময় সভায় কৃষকেরাও মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখার। কৃষকরা আরও বলেন, এ বছর বৈরি আবহাওয়ার কারণে পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়নি। এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ অন্য বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বাজারে নিয়ে আমরা খরচের অর্ধেক দামও পাচ্ছি না।


এসময় কৃষিমন্ত্রী কৃষকদের বলেন, আপনারা একটু ধৈর্য ধরেন।  এখন রমজান মাস। সবার পরিবারে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি। সামনেই পেঁয়াজের দাম বাড়বে।


এসময় রাজবাড়ী ২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জিল্লুল হাকিম কৃষকদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, আমাদের দেশের কৃষককে আগে বাঁচাতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনে পেঁয়াজ আমদানি মৌসুমে বন্ধ রাখা হোক। আর যেহেতু দেশে পেঁয়াজের একটা ঘাটতি থাকে সেটি সঠিক ভাবে নির্ধারণ করে ঠিক সেই পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে। আর তা না হলে এভাবে লোকসান গুনতে গুনতে একটা সময় কৃষক পেঁয়াজ আবাদই বন্ধ করে দিতে পারে।

আরো পড়ুন