শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
জামদানি পল্লী : দেড়ঘণ্টায় বিক্রি হয় কয়েক কোটি টাকার শাড়ি
১৭ এপ্রিল, ২০২২ ১১:৩৯:৫০
প্রিন্টঅ-অ+

রূপগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জামদানি পল্লী ঈদকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছে। হাটে প্রতিটি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। মহামারির কারণে দু’বছরের লোকসান পুষিয়ে নেয়ার আশা তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ীদের।


ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে সরগরম নারায়ণগঞ্জের জামদানি শাড়ির হাট। ঈদ উপলক্ষে জমজমাট জামদানির বেচাকেনা।


রূপগঞ্জ উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার জামদানি পল্লীতে প্রতি শুক্রবার ভোর ৬টায় বসে সাপ্তাহিক হাট। মাত্র দেড়ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে যায় কয়েক কোটি টাকার শাড়ি।


নতুন তৈরি জামদানি শাড়ি তাঁতীরা হাটে তোলার সঙ্গে সঙ্গে কিনে নিচ্ছেন পাইকাররা। করোনার কারণে গত দু'বছর স্থবির হয়ে পড়া জামদানি পল্লী আবার নতুনভাবে জমে উঠেছে বলে জানান তারা।


তবে, মন খারাপ কারিগরদের। শ্রম অনুযায়ী মজুরি না পাওয়ার অভিযোগ তাদের। তাদের অভিযোগ, করোনার আগে পাতলা একটা শাড়ি বুনলে পাঁচ হাজার টাকা বিল পাওয়া যেত, এখন সেটা চার হাজার করে পাওয়া যায়। পরিশ্রম অনুযায়ী মজুরি মিলছে না। 


এরমধ্যে তাঁত ঋণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কোনো কোনো কারিগর। বলেন, তারা সরকারের কাছ থেকে তাঁত ঋণ পাওয়ার কথা কেবল শুনেছেন। বাস্তবে ঋণ পাননি। 


তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি সহজশর্তে ব্যাংক ঋণ ও প্রণোদনা। বিষয়টি লিখিতভাবে জানালে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেন জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের। 


জেলা প্রশাসক বলেন, তাদের দাবি যৌক্তিক। তারা দাবি জানালে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা করব।


রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার পথ পেরুলেই রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভা। শীতলক্ষা নদীর কোল ঘেঁষা নোয়াপাড়া জামদানি পল্লী এ পৌরসভারই অন্তর্গত। এক সময় এটি ছিল অজোপাড়াগাঁ। জামদানী শিল্প এ গ্রামের চেহারা বদলে দিয়েছে। জামদানি শিল্পের গ্রাম হিসেবে এলাকাটি এখন সবার পরিচিত। জামদানী পল্লী হিসেবেই মানুষ একে চেনে এখন। এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এক সময়ের বিশ্বখ্যাত মসলিন শাড়ি তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ইংরেজরা এ শিল্পকে ধ্বংস করে দেয়ার পর গ্রামের মানুষ আবার ফিরে যান কৃষি পেশায়। বৃটিশদের পতনের পর মসলিন শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের বংশধররা আবারো মসলিন তৈরির কাজে হাত দেন। কিন্তু তারা মসলিন বানাতে ব্যর্থ হন। ওই আদলেই তৈরি করেন নতুন এক শাড়ি। যা আজকের জামদানি। এ জামদানিও আজ জগত বিথ্যাত। লাভজনক হওয়ার কারণে গ্রামের অনেকেই এগিয়ে আসেন জামদানি তাঁত প্রতিষ্ঠায়। 


রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার পথ। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তৈরি হচ্ছে এ বাহারি শাড়ি। গ্রামের রাস্তাটা বেশ আঁকাবাকা নদীর সঙ্গে খেই মিলিয়ে চলেছে। রাস্তার দু’ধারেই অসংখ্য তাঁত চোখে পড়বে। গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারই কোননা কোনোভাবে জামদানি শিল্পের সঙ্গে জড়িত। কেউ সরাসরি কাপড় উৎপাদন করেন, কেউ তাঁতী; কেউ সুতা বিক্রেতা; আবার কেউ বিদেশে কাপড় রফতানির কাজে জড়িত। প্রতি পরিবারেই গড়পরতা ২/১টি তাঁত রয়েছে। তাঁতিরা সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত। একটু ফিরে তাকানোরো যেন ফুরসত নেই তাদের। এখানকার জামদানি তাঁতীদের অধিকাংশেরই বয়স ১২ থেকে ৩০ এর মধ্যে। বয়স্ক তাঁতী নেই তা নয়। তবে কম বয়সী তাঁতীরাই জামদানির কাজের সঙ্গে জড়িত।


জামদানি শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত তারা অত্যন্ত ধৈর্যশীল। অলস কেউ এ শিল্পে টিকে থাকতে পারেন না। অত্যন্ত সূ² ও নিখুঁত কাজ সারা দিন করার মানসিকতা অনেকের থাকে না। তাই অল্প বয়স্করাই এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হন। সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জের কিছু কিছু এলাকায়ও এ শিল্পের মহিমা ছড়িয়ে আছে। মূলত জামদানি শাড়ির কী দেশ কী বিদেশ কোথাও কোনো প্রতিদ্ব›দ্বী নেই।

আরো পড়ুন