শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
হাওরে তলিয় গেছে ২১ হাজার টন বোরো ধান
২০ এপ্রিল, ২০২২ ১২:৪৬:৪৭
প্রিন্টঅ-অ+

পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে দেশের হাওর অঞ্চলে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর বোরো জমি আক্রান্ত। এসব জমির কোনোটি পুরোপুরি, কোনোটি আংশিক তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে অন্তত সাত হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করছে কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর। সে হিসাবে এ বছর হাওরে বোরো ধানের উৎপাদন কম হবে অন্তত ২১ হাজার টন।


এদিকে, হাওরে এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। এখন পুরোদমে ধান কাটা চলছে। কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর বলছে, এখন পর্যন্ত আশঙ্কার তুলনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম।


জানতে চাইলে কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. বেনজীর আলম বলেন, হাওর এলাকায় ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। এর মধ্যে নেত্রকোনায় ৬৫ শতাংশ, কোথাও কোথাও ২৭ শতাংশ আবার কোথাও ২০ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।


গত ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিলের ঢল নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, এই তিন দিনের পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা ছিল। তবে আশার কথা, সেই অর্থে তেমন ক্ষতি হয়নি। নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। সবমিলিয়ে হাওর এলাকায় এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৯০০ হেক্টর জমি। আমরা ধরে নিচ্ছি ৭ হাজার হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে হিসাবে হাওরে এবার ২১ হাজার টন ধান কম উৎপাদন হতে পারে। ক্ষতির পরিমাণ ১ শতাংশের কিছু বেশি।


এই ক্ষতিকে তেমন বড় কোনো ক্ষতি বলে মনে করছেন না বলে জানান কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক। বলেন, ‘বলা যায়— আমরা অনেকটাই রক্ষা পেয়েছি।’


সুনামগঞ্জে ১৭টি হাওর ও বিলের ৫ হাজার ৫১০ হেক্টর জমির বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। হবিগঞ্জে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ধান।


উজান থেকে আসা ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জে একের পর এক বাঁধ ভেঙে ও উপচে হাওরের বোরো ধান তলিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ রোববার রাতে দিরাই উপজেলায় বাঁধ ভেঙে হুরামন্দিরা হাওরে পানি ঢোকে। এর আগে ওই দিন বিকেলে তাহিরপুর উপজেলার গুরমার হাওরের ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। হবিগঞ্জের কয়েকটি হাওরেও ঢলের পানিতে ফসলহানি হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় হাওরগুলোর আধা পাকা ধানই কেটে নিচ্ছেন কৃষকেরা।


এটা কৃষি বিভাগের মনগড়া হিসাব। হাওর থেকে গরুকে খাওয়ানোর কিছু ধান ছাড়া আর কোনো ধানই কাটা যায়নি। সব ধান কাঁচা ছিল


সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি বিভাগ গত সোমবার বলেছে, জেলায় এ পর্যন্ত ছোট-বড় ১৭টি হাওর ও বিলের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ৫ হাজার ৫১০ হেক্টর। অন্যদিকে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, গত দুই দিনে উজানের পানি কালনী ও মেঘনা নদী হয়ে উপজেলার হাওরগুলোতে ঢুকেছে। এতে লাখাই সদর, বামৈ ও বুল্লা ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ হেক্টরের ধান তলিয়ে গেছে।


কৃষি বিভাগের হিসাবে, ১ হেক্টর জমিতে ধান হয় ৬ মেট্রিক টন। ১ কেজি ধানের দাম ২৭ টাকা ধরে ৬ মেট্রিক টন (৬ হাজার কেজি) ধানের দাম হয় ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। সে অনুযায়ী সুনামগঞ্জে ৮৯ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার টাকার ধানের ক্ষতি হয়েছে। হবিগঞ্জে ৫০০ হেক্টর ধরলে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ৯৭ কোটি ৩৬ লাখ ২০ হাজার টাকার বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে।


তবে এ হিসাব মানতে নারাজ স্থানীয় কৃষক ও হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা। তাঁরা বলছেন, গত সোমবার পর্যন্ত হাওরে অন্তত ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো বিভিন্ন হাওরে পানি ঢুকছে। তাই ক্ষতি আরও বাড়বে।


ইউনিয়নের সব মানুষের ধান ছিল চাপতির হাওর ও হুরামন্দিরা হাওরে। সব ধান তলিয়ে গেছে। চাপতির হাওরে কোনো ধানই কাটা যায়নি। হুরামন্দিরা হাওরে আধা পাকা কিছু ধান লোকজন কেটেছেন, সেটা অর্ধেকের বেশি হবে না


৩০ মার্চ থেকে উজানের ঢল নামছে। ২ এপ্রিল প্রথম সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি এলাকার বাঁধ ভেঙে ফসলহানি ঘটে। এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সবচেয়ে বড় হাওর দিরাই উপজেলার চাপতির হাওর। এটির বাঁধ ভেঙে ফসলহানি ঘটে ৭ এপ্রিল। তখনো হাওরের ফসল পাকেনি। এখানে ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। কৃষি বিভাগ ক্ষতি দেখিয়েছে, ৩ হাজার ৫০০ হেক্টরের। স্থানীয় চÐীপুর গ্রামের কৃষক আবুল খয়ের বলেন, ‘এটা কৃষি বিভাগের মনগড়া হিসাব। হাওর থেকে গরুকে খাওয়ানোর কিছু ধান ছাড়া আর কোনো ধানই কাটা যায়নি। সব ধান কাঁচা ছিল।’


গত রোববার রাতে একই উপজেলার হুরামন্দিরা হাওরের বাঁধ ভেঙে ফসলহানি ঘটে। কৃষি বিভাগ বলছে, এখানে জমি আছে ১ হাজার হেক্টর, ক্ষতি হয়েছে ২০০ হেক্টরের। সেখানকার জগদল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ুন রশিদ বলেন, ‘ইউনিয়নের সব মানুষের ধান ছিল চাপতির হাওর ও হুরামন্দিরা হাওরে। সব ধান তলিয়ে গেছে। চাপতির হাওরে কোনো ধানই কাটা যায়নি। হুরামন্দিরা হাওরে আধা পাকা কিছু ধান লোকজন কেটেছেন, সেটা অর্ধেকের বেশি হবে না।’

আরো পড়ুন