শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
মিলছে না মাথাপিছু আয় বাড়ার সুফল
২৬ এপ্রিল, ২০২২ ১১:৩৩:৫৬
প্রিন্টঅ-অ+

নিত্যপণ্যের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে পরিমাণে কম কিনে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাচ্ছে সাধারণ মানুষ। থাকা-খাওয়ার মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাওয়া নি¤œ ও মধ্যবিত্তরা বলছেন, তাদের জানা নেই ঠিক কতদিন পর কাটবে তাদের এমন দুরবস্থা।


বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈষম্য কমাতে না পারলে মিলবে না মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির সুফল; স্বস্তি ফিরবে না নি¤œ ও মধ্যবিত্তের ঘরে। আয়বৈষম্যকে চরম বাস্তবতা উল্লেখ করে তা নিরসনে সরকার উদ্যোগী বলে জানালেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। 


সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন তাদের হিসাব করে খাদ্যপণ্য কিনতে হচ্ছে। গরু-খাসির মাংস খাওয়া এক রকম ছেড়ে দিয়েছেন তারা। বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়া কিংবা বিনোদনের সামগ্রী কেনা এখন পরিণত হয়েছে একধরনের বিলাসিতায়। দিন যত যাচ্ছে, মুদ্রাস্ফীতিতে জীবনধারণ তত কঠিন হয়ে পড়েছে। 


উচ্চমূল্যের বাজারে পরিমাণে কম কিনে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানোর এই তত্ত¡ই যেন শেষ ভরসা নি¤œ ও মধ্যবিত্তের। শুধু তো খাদ্যপণ্য নয়, এর বাইরেও রয়েছে মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যয়ের ব্যাপ্তি। কীভাবে মিটছে শিক্ষা-চিকিৎসা, বাসস্থান আর বিনোদনের পেছনে ব্যয়?


গল্পটা কোথাও কোথাও আরও করুণ। আয় কমে এখন আর সন্তানের সঙ্গে মজার খাবার নিয়ে গল্প করারও সাহস পান না অনেক বাবা। 


অথচ শক্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে দ্রæত বর্ধমান মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৯১ ডলারে। তারপরও নিত্যপণ্যের বাজারে কেন অসহায় হয়ে পড়ছে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত। কারণ হিসেবে ক্রমবর্ধমান আয়বৈষম্যকে সামনে আনছেন অর্থনীতিবিদরা।


এ ব্যাপারে অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ বলেন, ‘আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে আয়বৈষম্য। এতে দেখা দিয়েছে বিপত্তি।’


পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালের পর যেখানে দরিদ্র মানুষের আয় বাড়েনি, সেখানে গত বছর দৈনিক ২২ জনের বেশি কোটিপতি হয়েছেন উচ্চ আয়ের মানুষ। উন্নয়নের সুফল ভাগাভাগির পথে আয়বৈষম্যের মতো বাধা দূর করতে সরকার কাজ করছে বলে জানালেন পরিকল্পনামন্ত্রী।


মন্ত্রী বলেন, ‘বৈষম্য জীবনের অন্যতম সত্য। তবে আমরা বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করছি। গ্রাম ও শহরের বৈষম্য কমে এসেছে।’


বাজারে স্বস্তি ফেরাতে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আয় বৃদ্ধিতে জোর দেয়ার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব মতে, করোনাভাইরাসে দেশের অর্থনীতির বিভিন্নখাতে স্থবিরতা দেখা দিলেও বেড়েছে মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ। মাথাপিছু আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার হয়েছে।


বিবিএস ২০২০-২১ অর্থবছরের সাময়িক আর এর আগের অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরের চূড়ান্ত জিডিপির হিসাব প্রকাশ করেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২০২৪ মার্কিন ডলার।


সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সম্মানীয় ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, স্বল্প জিডিপি প্রবৃদ্ধির মধ্যেও আয় বৈষম্য বেড়েছে। ফলে গরিবসহ অনেকেই নতুনভাবে দরিদ্র হয়েছেন। তাদেরকে দারিদ্র্য থেকে টেনে তুলতে সরকারকে লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি নিতে হবে।


বিবিএসের সদ্য প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি চূড়ান্ত হিসেবে বেড়েছে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা সাময়িক হিসেবে ছিল ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ।


উল্লেখ্য, মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেলেও জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে ধ্বস নেমেছে। বিবিএস এর প্রতিবেদন বলছে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে জুন-জুলাই মাসে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে হয়েছে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। অথচ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। ফলে করোনা সংকটে এক বছরেই প্রবৃদ্ধি কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরেও প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

আরো পড়ুন