শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং কমতে পাড়ে
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ জুন, ২০২২ ১৭:১৬:০৯
প্রিন্টঅ-অ+


আমদানিকরা বিলাসী পণ্য যেমন-বডি স্প্রে, প্রসাধনী পণ্য, জুস, প্যাকেটজাত খাদ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমদানিতে নতুন করে শুল্ক আরোপ হতে পারে। যদিও ইতোমধ্যে গত ২৩ মে এক প্রজ্ঞাপনে বিদেশি ফল, বিদেশি ফুল, ফার্নিচার ও কসমেটিকসজাতীয় প্রায় ১৩৫টি এইচএস কোডভুক্ত পণ্যের ওপর আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান ৩ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে ওই তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে।

তামাকজাত পণ্য

অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণে এবার বৃদ্ধি পাচ্ছে তামাকজাত পণ্যের মূল্য। স্ল্যাব অনুসারে শুল্ক আরোপ হয়েছে।

স্মার্টফোন

দেশীয় পণ্য সুরক্ষায় শুল্ক আরোপে আমদানি করা স্মার্ট মোবাইল ফোনের দাম আরেক দফায় বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে সুবিধা পাবে দেশীয় কোম্পানিগুলো।

রেলের টিকিট

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত/তাপানুকুল সার্ভিসের পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির রেলওয়ে সেবার ওপর ১৫ শতাংশ মূসক আরোপের প্রস্তাব করায় রেল ভ্রমণে লাগবে বাড়তি খরচ। তবে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উড়োজাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে আগাম কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সোলার প্যানেল

বর্তমানে সোলার প্যানেল আমদানিতে শূন্য শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রযোজ্য রয়েছে। দেশীয় সোলার সেক্টরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি করা সোলার প্যানেলের ওপর বিদ্যমান আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিদেশি কফি

বাড়ছে বিদেশ থেকে আমদানি করা কফির দামও।

বিলাসবহুল গাড়ি

মূল্যবৃদ্ধি তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বিলাসবহুল গাড়ি। ৪০০০ সিসির ওপর বিলাসবহুল রিকন্ডিশন গাড়িতে সম্পূরক শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ও আগাম কর এবং ভ্যাট মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৮০০ শতাংশে করহার প্রস্তাব করা হয়েছে।

রেফ্রিজারেটর

রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে অব্যাহতি প্রত্যাহার করে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এতে ফ্রিজের দাম বাড়তে পারে।

অবশ্য ফ্রিজ তৈরির উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানি এবং স্থানীয় ক্রয়ের ক্ষেত্রে কর ছাড় সুবিধা রয়েছে। তা ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বাটার ও চিজ

বাটার ও চিজ বা পনির পণ্য দুটি সমজাতীয় উল্লেখ করে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বাটার আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বিদ্যমান থাকলেও চিজ আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক আরোপিত নেই। তাই বাটারের মতো চিজ আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মুঠোফোনের বিদেশি চার্জারে

দেশে উৎপাদিত মুঠোফোন উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানকে আরও বিকশিত করার লক্ষ্যে বিদেশি চার্জারের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।

গ্যাস লাইটার

বর্তমানে দেশে গ্যাস লাইটার বা দেশলাই উৎপাদিত হচ্ছে। তাই দেশীয় শিল্পের সুরক্ষার জন্য পণ্যটি আমদানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই বিবেচনায় লাইটারের যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ওয়াটার পিউরিফায়ার

বাসাবাড়িতে পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য ব্যবহৃত ওয়াটার পিউরিফায়ারের আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

ক্যাশ রেজিস্ট্রার

ব্যবসার ক্যাশ রেজিস্ট্রার আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ। অপরদিকে টিকিট ক্যালকুলেটিং যন্ত্রের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ। মেশিন দুটি প্রায় একই ধরনের হওয়ায় শুল্কহার সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। তাই ক্যাশ রেজিস্ট্রারের ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

বিদেশি পাখি

বর্তমানে দেশে বিলাসবহুল পাখি আমদানি হচ্ছে। উক্ত পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রযোজ্য রয়েছে। পাখিগুলো বিলাসবহুল বিধায় আলোচ্য ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের আকার হচ্ছে ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এবারের বাজেটের আকার যেমন বড়, তেমনি এ বাজেটে ঘাটতিও ধরা হয়েছে বড়।

অনুদান বাদে এই বাজেটের ঘাটতি দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির সাড়ে ৫ শতাংশের সমান। অনুদানসহ বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দুই লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৪০ শতাংশের সমান।

এটি বর্তমান সরকারের ২৩তম এবং বাংলাদেশের ৫১তম ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীর চতুর্থ বাজেট। বাজেটে সঙ্গত কারণেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষিখাত, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান ও শিক্ষাসহ বেশকিছু খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।







২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে দেশের বাজারে এসব পণ্যের দাম কমতে পারে।

কম্পিউটার সামগ্রীর মধ্যে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টার ও অন্যান্য কম্পিউটার এবং আইসিটি পণ্যে ৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে স্থানীয় শিল্পের বিকাশে এ শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কম্পিউটার ও আইসিটি পণ্যের দাম কমতে পারে।

একই কারণে কমছে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত কৃষি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের দাম। সমাজকল্যাণমূলক সেবা হিসেবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পড়ার উপকরণ ব্রেইল মুদ্রণের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি প্রস্তাব করা হয়েছে। শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য কানে শোনার যন্ত্রে ব্যবহৃত ব্যাটারির ওপর প্রযোজ্য শুল্ককর হ্রাস করার প্রস্তাব করায় কানে কম শোনার যন্ত্রের দাম কমছে।

শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য বিশেষায়িত হুইল চেয়ার আমদানিতে বিদ্যমান সব ধরনের শুল্ককর বিলোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মেডিটেশন সেবার ওপর বিদ্যমান মূসক অব্যাহতি প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এ সম্পর্কিত পণ্য ও সেবার দাম কমবে।

ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা পাচ্ছে দেশীয় গাড়ি তৈরির শিল্প। ফলে মোটরগাড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের পাশাপাশি ৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে দেশে তৈরি গাড়ি তুলনামূলক কম দামে মিলবে।

মুড়ি ও চিনির ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে বাজারে এ দুটি পণ্যের দাম কমতে পারে। বিদেশ থেকে আমদানি করা কাজুবাদামের ওপর শুল্ককর প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে দেশের কাজুবাদামের দাম কমবে।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের শুল্ক ও ভ্যাট সুবিধা ভোগ করে আসছে। যেখানে আমদানি করা হ্যান্ডসেটের ওপর ৫৮ শতাংশ শুল্ককর প্রযোজ্য। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ও অ্যাসেম্বলড হ্যান্ডসেটের জন্য কর দিতে হয় যথাক্রমে ১৩ ও ১৮ শতাংশ।

প্রস্তাবিত বাজেটেও এ সুবিধা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। সেই হিসেবে আমদানি কর মোবাইলের তুলনায় আগামী অর্থবছরের তুলনামূলক কম দামে ফিচার ফোন (বাটন ফোন) মিলতে পারে।

গ্যালভানাইজড আয়রন শিট বা স্টিলজাত পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত এইচ আর কয়েল এবং জিঙ্ক জাতীয় কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে করহার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন মন্ত্রী। ফলে কমবে স্টিলজাত পণ্যের দাম।

জুয়েলারি শিল্পের প্রসারে স্বর্ণ আমদানিতে অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে স্বর্ণালঙ্কার আগের তুলনায় কম দামে মিলতে পারে।

শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের শ্রবণসহায়ক যন্ত্রের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে বাজারে শ্রবণ যন্ত্র কম দামে পাওয়া যেতে পারে।

হুইল চেয়ারে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ১০ শতাংশ অগ্রিম কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় কমতে পারে হুইল চেয়ারের দাম।

স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের ব্যয় সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার ও টার্নওভার কর শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ করায় আইটি সেবায় ব্যয় কমবে।

সব ধরনের পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিক ব্যাগ (ওভেন প্লাস্টিক ব্যাগসহ) ও মোড়কে কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে দেশের বাজারে এসব পণ্যের দাম কমবে।

এছাড়া শুল্ক কমানোর প্রস্তাবে দাম কমতে পারে পানির ফিল্টার, বিমানের জন্য ব্যবহৃত টায়ার।


আরো পড়ুন