শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
কর্মী পাঠাতে আরো ২৫০ এজেন্সিকে অনুমোদন দিল মালয়েশিয়া
২০ জুন, ২০২২ ২০:১৩:৪৯
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠাতে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে মনোনীত করেছে মালয়েশিয়া সরকার। এদের অধীনে রাখা হবে ১০টি করে সহযোগী কম্পানি। সবমিলিয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে নিযুক্ত থাকছে ২৭৫টি এজেন্সি। আগে এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল ১০টি এজেন্সি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) দিকনিদের্শনা বজায় রাখাসহ বিদেশি কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণের স্বার্থে এ ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দেশটি। রবিবার মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম সারাভানান এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতির তথ্যানুযায়ী, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ১ হাজার ৫২০টি এজেন্সির তালিকা দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। আগেই ২৫টি এজেন্সি মনোনীত করা হয়েছিল। তালিকা থেকে নতুন করে ২৫০টি এজেন্সিকে বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছে মালয়েশিয়া। সারাভানান বলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমসমস্যা কঠোরভাবে মোকাবিলা করব। কেননা, শ্রমবাজার ইস্যু আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের অবস্থানকে কলঙ্কিত করছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রথমত মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় শুধুমাত্র ২৫টি কম্পানির সঙ্গে লেনদেন করবে। এগুলো একটি কাঠামোর মধ্যে কাজ করবে। এসব কম্পানিকে মন্ত্রণালয় থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার দিক-নির্দেশনাগুলো মেনে শ্রমিকদের কল্যাণ মেনে চলা হয়, বিশেষ করে বিদেশি কর্মীদের জীবনযাত্রা এবং কাজের অবস্থানের ক্ষেত্রে। যে ২৫০ কম্পানি কর্মী পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত হবে, তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণ এবং মন্ত্রণালয়ের শর্ত পূরণের নিশ্চয়তা থাকবে ২৫ কম্পানির হাতে।

তিনি বলেন, ২৫টির আগে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে ১০টি কম্পানি জড়িত ছিল। কর্মীদের কল্যাণ ও জীবিকা রক্ষার জন্য মনোনীত ২৫টি কম্পানিতে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স মেকানিজম’ প্রয়োগ করা হয়েছে। কর্মীদের কল্যাণেই ১০টি থেকে কম্পানির সংখ্যা ২৫টি করা হয়েছে।

এখন থেকে বিদেশী কর্মী নিয়োগের অনুমোদন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে আসতে হবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি আরও জানান, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ওয়ান স্টপ সেন্টার চালু করা হয়েছে, যেটি আগে স্বরষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত ছিল। মালয়েশিয়ায় ব্যবসাবাণিজ্য ও শিল্পখাতে বিরাজমান শ্রমিক সংকট সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এখন সংশিস্নষ্ট কম্পানির দায়িত্ব হলো মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত কর্মীদের জন্য ‘লেভি’ পরিশোধ করা এবং মেডিকেল রিপোর্ট জমাদানপূর্বক ভিসা জোগাড় করা, যাতে করে কোম্পানিসমূহ আমাদের উদ্যোগের ফল ভোগ করতে পারে।

বিবৃতির শুরুতে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সংশিস্নষ্ট থাকার যেকোন ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। তার সঙ্গে সাক্ষাত ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কমী নিয়োগের বিষয়ে আমার বক্তব্য ভিন্নভাবে ব্যাখা করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার সাক্ষাতে মালয়েশিয়ায় বিদেশী কর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং কর্মপরিবেশের উন্নতির জন্য আমার মন্ত্রণালয়ের নেয়া উদ্যোগগুলির বর্ণনা করা হয়েছে।

এর আগে, গত ২ জুন ঢাকা এসে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের সঙ্গে যৌথ পরামর্শক সভা করেন। সেখানে চলতি জুন মাসের মধ্যেই মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। যৌথ পরামর্শক সভার পরে সেদিন সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী ইমরান আহমদ জানান, প্রথম বছরেই দুই লাখ কর্মী যাওয়ার কথা। এ ছাড়া পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ কর্মী যাওয়ার কথা। কিন্তু তাদের চাহিদা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী আশাকরি পাঁচ লাখ কর্মী আমরা দ্রুত পাঠিয়ে দিতে পারব।


আরো পড়ুন