শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কী বন্ধ হচ্ছে
১০ জানুয়ারি, ২০২২ ১৬:১৫:৪০
প্রিন্টঅ-অ+

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বন্ধের পর গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলে। তবে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ফের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হবে কিনা তা নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে।


এমনকি এ ব্যাপারে বৈঠকও করছে করোনা সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটি। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে উদ্বেগ জানিয়েছে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় কী করা উচিত তা জানার চেষ্টা করেছে দৈনিক আমার বার্তা। শিক্ষাবিদদের সাথে কথা বলে লিখেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক রাসেল মাহমুদ।


যতদিন সম্ভব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে চাই: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি


শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষার অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজন হলে অবশ্যই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ইচ্ছা আপাতত নেই। আমরা এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার বিষয়ে ভাবছি না। যতদিন সম্ভব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে চাই। পরামর্শক কমিটির সভায় সার্বিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করবো। আমরা যেমন একদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চাই না, ঠিক তেমনই সবার স্বাস্থ্য বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে যদি বন্ধ করতে হয় তাহলে অবশ্যই আমরা বন্ধ করব।


গত দুই বছরে আমাদের অভিজ্ঞতা ছিল মার্চ মাসের দিকে করোনা বাড়ে। কিন্তু এ বছর করোনার সংক্রমণ জানুয়ারিতেই শুরু হয়ে গেছে। আমাদের সবাইকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। আমরা ভেবেছিলাম সংক্রমণ চলেই গেছে। কারণ, বিশ্ব যখন পর্যুদস্ত ছিল তখন বাংলাদেশের অবস্থা ভালোই ছিল। হয়তো সে কারণে আমাদের এখানে এক প্রকার আত্মবিশ্বাস জন্মে গিয়েছিল যে, আর করোনার সমস্যা নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার বার সতর্ক থাকার কথা বলেছেন। আমরা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলব। ১২ বছরের কম বয়সীদের টিকা দেয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আপাতত তাদের টিকা দেয়া হবে না।


ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন রক্ষাই প্রাথমিক দায়িত্ব: সাবেক ভিসি, ঢাবি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে ক্ষতি হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এটা আমাদের মেনে নিতেই হবে। তবে করোনার ওমিক্রন ভেরিয়েন্টটা বিশ^ব্যাপী দ্রæত ছড়িয়ে পড়ছে। এটা যদি বাংলাদেশেও উদ্ভট পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তাহলে ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন রক্ষা করাটা আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব। শিক্ষাটা নিশ্চয় আমরা চাইব, তারমানে এই নয় যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু রেখে আমরা শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মুখে ফেলব। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ যারা আছেন তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনাও আছে। যথাসময়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই সরকারের দায়িত্ব। সরকার নিশ্চয় এটা নজরে রাখবে। যদি টিকা দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখা যায় এটা সবচেয়ে ভালো। টিকা দিয়েও যদি সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করা না যায় সে ক্ষেত্রে কিছু দিনের জন্য বন্ধ করা ছাড়া উপায়ও নাই। তবে বিকল্প উপায় আমাদের ভাবতে হবে। 


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও পড়ালেখা যেন বন্ধ না হয়: সাবেক ভিসি, জবি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান


প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর আমরা স্কুল কলেজ খোলার সুযোগ পেয়েছি। এখন পুরোদমে ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে। আবার লকডাউন হবে কিনা তার সিদ্ধান্ত নেবে পরামর্শক কমিটি। সারা দুনিয়াতে সংক্রমণের হার যেভাবে বাড়ছে, বিশেষ করে আমাদের পাশর্^বর্তী দেশে যেভাবে বাড়ছে, তাতে মনে হচ্ছে আমাদের রক্ষা পাওয়ার পথ নেই।  সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিলে বন্ধও করে দিতে হতে পারে। তবে আমি যেটা বলব, গত দুই বছরে আমরা যে সিস্টেম ডেভেলপ করেছি বিশেষ করে অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। একটা সময় অনেকের ডিভাইস ছিল না, নেটওয়ার্কের সমস্যা ছিলো, শিক্ষকরা প্রশিক্ষিত ছিল না, শিক্ষার্থীরা অভ্যস্ত ছিল না। কিন্তু গত এক বছরে সে সমস্যা অনেকাংশে দূর হয়েছে। তাই অনলাইনে শিক্ষার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। 


শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ব্যাপারে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ স্কুল-কলেজ-বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ রাখলে যে পরিমাণ ক্ষতি হয় এটা পরিমাপ করলে দেখা যায় আমাদের অর্থনীতির ক্ষতি তিন গুণ বেড়ে যায়। এছাড়া জনশক্তি তৈরিতে বড় ক্ষতি হয়, মানবসম্পদ তৈরিতে ক্ষতি হয়। এবার কোনো কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও যেন পড়ালেখা বন্ধ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে যে ডুয়েল সিস্টম চালু করেছি তা অব্যাহত রাখতে হবে। স্কুল-কলেজ খোলা রাখার সাথে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার যদি সরাসারি সম্পর্ক থাকে তাহলে হয়তো বন্ধই করতে হবে। তবে এটা নিয়ে গবেষণা করা দরকার। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে বড় ধরনের জটলা, সমাবেশ যদি নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং সবাইকে মাস্ক পরা নিশ্চিত করা যায় এবং ১২ বছরের উপরের সবাইকে টিকার আওতায় আনা গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা বেশি প্রয়োজন পড়বে না বলে আমি মনে করি। 

আরো পড়ুন