শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
রাবিতে ৩৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক একজন!
০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১০:৪১:১৪
প্রিন্টঅ-অ+


শিক্ষার্থীর সংখ্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এখন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ। অথচ শিক্ষক অনুপাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রকাশিত ৪৭তম বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।


গত ১০ জানুয়ারি ইউজিসি প্রকাশিত তথ্য মতে, দেশের চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাবিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৯ হাজার ৩৮৩ জন যার বিপরীতে শিক্ষক সংখ্যা ২ হাজার ৪২১ জন। অন্যদিকে রাবিতে ৩৮ হাজার ২৯১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রায় ঢাবির সমান হলেও শিক্ষক সংখ্যা ১ হাজার ৯৭ জন, যা ঢাবির তুলনায় অর্ধেকেরও কম।


শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতে অন্য দুই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও পিছিয়ে রাবি। জাবি ও চবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:২২, যেখানে রাবিতে অনুপাত ১:৩৫। এছাড়া ঢাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:১৬।


বিশ্বব্যাপী উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গড় অনুপাতের ন্যূনতম মানদÐ ধরা হয় ১:২০। অর্থাৎ প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে শিক্ষক থাকতে হবে। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে দেখা গেছে প্রতি ৩৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র একজন শিক্ষক।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস  বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৩৫ হওয়ায় শিক্ষাব্যবস্থায় সমস্যা হবে বলে আমি মনে করি না। তবে শিক্ষকের অনুপাত কমিয়ে আনা উচিত। বিভিন্ন জটিলতায় শিক্ষক নিয়োগ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় রাবিতে শিক্ষক সংখ্যার অনুপাত অনেকটাই কম। সামনের দিনগুলোতে শিক্ষকের অনুপাত কমিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করছে প্রশাসন।


তবে শিক্ষক নিয়োগ বাড়লেই যে শিক্ষক অনুপাত কমে আসবে এমনটাও মানতে নারাজ এ অধ্যাপক।


তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী যাতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় সে ব্যাপারে শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। যাচাই করে কোনে ডিপার্টমেন্টে কতজন শিক্ষক প্রয়োজন, সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষক বাড়াতে হবে।


শিক্ষক নিয়োগ দিলেই যে শিক্ষার মান বেড়ে যাবে, বিষয়টা এমন নয় জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, আমাদের যে সংখ্যক শিক্ষক আছে তারা সঠিকভাবে শিক্ষার্থীদের পরিচর্যা করলে শিক্ষক সংখ্যার অনুপাত খুব একটা প্রভাব পড়বে না।


তিনি আরও বলেন, কোনো ডিপার্টমেন্টে যদি শিক্ষক সংকট থাকে তাহলে ওই বিভাগের সভাপতি মূল্যায়ন করে প্রশাসনকে জানাবেন। এছাড়া দ্রæত সময়ে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা পাশ হয়ে গেলে শিক্ষক অনুপাতের সংখ্যা কিছুটা কমে আসবে।



 

আরো পড়ুন