শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
জবির পরিবেশ উন্নয়ন কমিটি, স্থবির হয়ে পড়ে আছে তাদের কার্যক্রম
মাহতাব লিমন, জবি প্রতিনিধি
১৩ মার্চ, ২০২২ ১৩:১৮:৩১
প্রিন্টঅ-অ+


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে গত বছরের ৩১ অক্টোবর "পরিবেশ উন্নয়ন কমিটি" নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটির ছয় মাস অতিক্রম হলেও চোখে পড়ার মত ছিলো না তাদের কোন কার্যক্রম। তাদের উপর যে সকল কাজ অর্পন করা হয়েছিলো তার মধ্যে নিয়মিত ড্রেন পরিস্কার, ক্যাম্পাসের দেয়ালগুলোতে চিত্রাঙ্কন, নিয়মিত শহীদ মিনার পরিস্কার, এবং ক্যাম্পাসের অব্যবহৃত স্থান সমূহে ফুলের গাছ লাগানো ইত্যাদি। কিন্তু এ ছয় মাসে তার একটি কার্যক্রমও সম্পন্ন করতে পারে নি এ কমিটি। 


পুরো ক্যাম্পাস সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ক্যাম্পাসের উন্নয়ন বর্ধনের কাজে ব্যবহৃত মালামালের অবশিষ্ট অংশ যেখানে সেখানে পড়ে আছে। সেগুলো মাসের পর মাস পড়ে থাকলেও অপসারণ করার নেই কোন উদ্যোগ। এসব অব্যবহৃত মালামাল যেখানে সেখানে থাকার কারণে সেগুলো ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশকে করেছে ক্ষুন্ন। এছাড়াও কাজ শেষ হওয়ার পরও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্য করা গেছে একাধিক বালুর স্তুপ । 


সরেজমিনে আরও দেখা যায় ক্যাম্পাসের মূল ফটক থেকে শুরু করে নতুন ভবনের দেয়াল, ভাষা শহীদ রফিক ভবন, গনিত ভবন, ক্যাফেটেরিয়ার দেয়ালে লাগানো হয়েছে রাজনৈতিক পোস্টার নিয়োগ বিঞ্জপ্তি, বাসা ভাড়া, রুমমেট চাই সহ নানা ধরনের পোস্টার। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ, উন্মুক্ত পাঠাগার, কলা ভবন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ভবন, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র বিজ্ঞান ভবনে ছেয়ে আছে নানা রং বেরংয়ের পোস্টার। পোস্টার লাগানোর জন্য শান্ত চত্বর, কেন্দ্রীয় মসজিদ, বিজ্ঞান অনুষদের সামনে চারটি বিলবোর্ড থাকলেও আসছে না কোন কাজে। 


এমন কি সমগ্র ক্যাম্পাস জুড়ে একটিও ডাস্টবিন লক্ষ্য করা যায় নি। ডাস্টবিন না থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের ময়লা ফেলতে পড়তে হয় বিপাকে। এমন একটি অবস্থায় পড়ার কারনে তাদের বাধ্য হয়ে যেখানে সেখানে ময়লা আর্বজনা ফেলতে হয়। 


এ ছাড়াও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য নেই  পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। এ কমিটি গঠনের পরে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও তারা যেন এসব কার্যক্রমের কথা ভুলেই গেছে। 


ক্যাম্পাসের একাধিক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে একটা পরিবেশ থাকে তার নূন্যতম পরিবেশ আমাদের ক্যাম্পাসে নেই। আমরা ক্লাস শেষ করে কোথাও যে একটু মন খুলে আড্ডা দিবো তার ব্যবস্থা ১৭ বছরেও করতে পারে নি কর্তৃপক্ষ। এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। 


ক্যাম্পাস পরিস্কার পরিছন্নতা বিষয়ে পরিবেশ উন্নয়ন কমিটি একাধিক সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ক্যাম্পাসে ৯ জনের পরিছন্ন কর্মী রয়েছে। তাদের ক্যাম্পাস পরিস্কারের যে দায়িত্ব রয়েছে তাতে তাদের প্রচন্ড গাফেলতি রয়েছে। 


বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন ক্যাম্পাসকে পরিস্কার পরিছন্ন রাখার জন্য যে পরিমানে লোকবল প্রয়োজন তা আমাদের নেই। আর আমাদের কমিটির আহবায়ক বিদেশে থাকার কারণে আমরা এ মুহুর্তে ডাস্টবিন সহ আরও কিছু জিনিসের কাজ করতে পারছি না। স্যার দেশে আসলে আমরা এ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 


এ বিষয়ে উক্ত কমিটির আরেক সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন ক্যাম্পাসে যেখানে সেখানে যে বালুর স্তুপ ও ইট পাথরের কঙ্কর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেগুলো অতি দ্রুতই অপসারণ করা হবে। 



 

আরো পড়ুন