শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
শিক্ষক উৎপল হত্যাকারীদের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ
আব্দুল্লাহ আল নোমান, আশুলিয়া:
২৮ জুন, ২০২২ ১৮:৫৮:৪৭
প্রিন্টঅ-অ+

ঢাকার আশুলিয়ার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এ অঞ্চলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এরই মধ্যে হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার চেয়ে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেছে চিত্রশাইল এলাকার বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং এর আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।


আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রধান আসামি আশরাফুল ইসলাম জিতুকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিসহ ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবি আদায়ে এরই মধ্যে আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আন্দোলনে যোগ দিয়েছে এবং অন্যান্যদের মাঝে গণসংযোগ চালাচ্ছে।


নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার এঙ্গেলদানি গ্রামের মৃত অজিত সরকারের ছেলে। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এবং শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম জিতু চিত্রশালাই এলাকার উজ্জ্বল হাজীর ছেলে এবং ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।


জানা গেছে, শনিবার শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনার পর থেকেই হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। উৎপল কুমার সরকার মারা গেছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা সাড়ে ১১টার দিকেই ওই প্রতিষ্ঠানের সামনে শত শত শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। যতক্ষণ বখাটে ওই ছাত্র গ্রেপ্তার না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে ঘোষণা দেয়। এক পর্যায়ে শিক্ষকরাও এই বিক্ষোভে অংশ নেন।


হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, উৎপল স্যার শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ইভটিজিংয়ের বিষয়ে শাসন করতেন। কয়েকদিন আগে এক ছাত্রীকে উত্যক্ত করার কারণে ওই ছাত্রকে শাসন করেন উৎপল স্যার। সেই ক্ষোভ থেকে প্রকাশ্যে স্যারের ওপর হামলা চালিয়েছে সে। ঘটনার দিন জিতুসহ আরও দুই থেকে তিনজন সকাল থেকেই স্ট্যাম্প হাতে নিয়ে ঘোরাঘুরি করে। জিতুর সঙ্গে তারাও অপরাধী। ঘটনার ২০ মিনিটের মধ্যে জিতুর বাবা ঘটনাস্থলে এসে প্রভাব খাটিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। কিন্তু নিহত শিক্ষক কিংবা তার পরিবারকে আর্থিক বা মানুষিক সাপোর্ট তিনি দেননি। বরং তিনি ও তার পরিবার জিতুকে পালিয়ে থাকতে সহায়তা করছেন। তারা নিজেরাও পলাতক রয়েছেন। এতে করে আমরা অনুধাবন করতে পারি জিতুর বাবাসহ তার পরিবারের প্রত্যেকটা সদস্যও অপরাধী। মারধরের পরেও সন্ধ্যায় দাপট দেখিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে ঘুরাঘুরি করেছে। জিতু সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। এই এলাকা থেকে কিশোর গ্যাং নির্মূল করতে সমস্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে আমরা পাশে চাই। আমরা দায়িত্ববোধ থেকে এই আন্দোলন করছি। যেটা পুরো শিক্ষক সমাজের করার কথা ছিল। এই হত্যার বিচার চাই আমরা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বখাটে ওই ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতুকে গ্রেপ্তার করা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানায় শিক্ষার্থীরা। এদিকে শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে হত্যার প্রতিবাদে সাভার স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের ব্যান্যারে সাভার উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন স্কুল এবং কলেজের শিক্ষকগণ। 


ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুমায়ুন কবির বলেন, হামলার শিকার আহত শিক্ষক মারা যাওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামি বখাটে ছাত্রকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি আরো বলেন, এমন নির্মম ঘটনা এড়াতে আগামী প্রজন্মকে পারিবারিক শিক্ষা দিতে হবে এবং সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবাইকে সচেতন হতে হবে।

আরো পড়ুন