শিরোনাম :

  • বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে ‘৮ থেকে ১০ ঘণ্টা’ ঢাকায় বিদ্যুৎ স্বাভাবিক ‘রাত ৮টার মধ্যে, চট্টগ্রামে ৯টায়’দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুমআফগান ক্রিকেট বোর্ডের সিইওকে বিদায় দিল তালেবান
কর্তৃপক্ষ জানালো নেই বরাদ্দ
তিতুমীরের ছাত্রাবাসে নেই পড়ার ঘর
মোহাম্মদ রায়হান, তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধিঃ
২৬ আগস্ট, ২০২২ ১৪:৫১:৪৯
প্রিন্টঅ-অ+

ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীরা পড়া-লেখা করতেই থাকেন। কিন্তু সেই ছাত্রবাসে যদি পড়ার কোন নির্দিস্ট ঘরই না থাকে তাহলে বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধতো বটেই। তেমনি রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রাবাসে সব হলেও সেখানে নেই একটি রিডিং রুম। 


‘তিতুমীর কলেজ এ কতো কিছু হলো। আককাসুর রহমান আঁখি ছাত্রাবাস এ একটা রিডিং রুম হবে হচ্ছে বলে এখন ও হলো না!- এ ছিলো সরকারি তিতুমীর কলেজের আককাসুর রহমান আঁখি হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্ট। ছাত্রাবাস আছে, শিক্ষার্থী আছে, যেখানে নেই কেবল একটি রিডিং রুম।’


ছাত্রদের জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট নতুন একটি হলের উদ্ধোধন হলেও প্রায় ২৫০ আসন বিশিষ্ট এই আককাসুর রহমান আঁখি ছাত্রনিবাসই তিতুমীর কলেজের ছাত্রদের সচল একমাত্র হল। তবে ছাত্রাবাসটিতে এখন অব্দি রিডিং রুমের ব্যবস্থা হয়নি।  সরেজমিনে দেখা যায়, হলের কক্ষে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের গড়ে ১টি করে টেবিল চেয়ার নেই৷ প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে একজনের টেবিল অন্যজন ও ব্যবহার করে থাকেন।


কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের কাছে নেই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ। গত ২ আগষ্ট  সরকারী তিতুমির কলেজ অধ্যক্ষ কার্যালয় থেকে শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর হলের বিভিন্ন আসবাবপত্র চেয়ে প্রেরিত চিঠির একট কপি সূত্রে জানা গেছে, হলের  হলের ১টি গেইট নির্মান, হলের লাইব্রেরিতে ১০০টি পড়ার টেবিল ও চেয়ার, ৩০টি বুক সেলফ, ১২০টি ফ্যান, ১৮৪টি কাঠের চৌকি বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।  চিঠিতে আরো দেখা যায়, ১৮৪টি পড়ার টেবিল ও চেয়ার দেওয়ার কথা ও উল্লেখ ছিলো। এর আগেও কলেজ কর্তপক্ষ থেকে শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তর বরাবর চিঠি পাঠানো হয়।  তবে এখন পর্যন্ত আশানুরূপ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি৷ 


ঠিক কবে নাগাদ কিংবা কখন ছাত্রাবাসের জন্য পাঠানো সামগ্রীর বরাদ্দ পাওয়া যেতে পারে, এ প্রসঙ্গে কথা বললে ছাত্রাবাসের দায়িত্বরত হোস্টেল সুপার ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক অধ্যাপক কাজী মোঃ আল নূর বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে আমাকে জানিয়েছে  তারা এ বিষয় গুলো নিয়ে কথা বলছে।  শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এর অফিসের স্থান পরিবর্তন হওয়ায় চিঠিটা হারিয়ে ফেলেছে অধিদপ্তর।  এবং কলেজ থেকে  নতুন করে পুনরায় চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক আল নূর।


শিক্ষার্থীদের জন্য রিডিং রুম এর স্থাপনের ব্যাপারে কাজের অগ্রগতি নিয়ে কথা বললে অধ্যাপক আল-নূর জানান, হলের ডাইনিং এর একটি অংশ এবং হল মসজিদ সংলগ্ন একটি খালি জায়গায় ঘিরে হলের শিক্ষার্থীদের জন্য রিডিং রুমের ব্যবস্থা করা হবে।


শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বলছেন টেবিল নেই বলে তাদের মসজিদের মেঝেতে বসে পড়াশোনা করতে হয়। কেউ কেউকে বিছানা কিংবা মেঝেতে বসেও পড়তে দেখা যায়। তবে, রিডিং রুমের আশু সমাধান চায় ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা৷  রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পড়ার পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে শিক্ষার্থীরা মসজিদেও পড়াশোনা করে।  তাছাড়া রিডিং রুম থাকলে শিক্ষার্থীরা সব সময় পড়াশোনা করতো। রিডিং রুম না থাকায় শিক্ষার্থীরা এদিক সেদিক আড্ডা দেয়, ঘুরাঘুরি করে, এতে তাদের মাদকাসক্ত হয়ে যাওয়ার ও ভয় থাকে। একটা রিডিং রুম হয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সাথে সংযুক্ত থাকতে পারে।’


একাধিক শিক্ষার্থী সুত্রে জানা যায়, হলে রিডিং রুম স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত রিডিং রুম স্থাপনের কোনো উদ্যোগ তারা লক্ষ্য করেননি৷

আরো পড়ুন