শিরোনাম :

  • বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে ‘৮ থেকে ১০ ঘণ্টা’ ঢাকায় বিদ্যুৎ স্বাভাবিক ‘রাত ৮টার মধ্যে, চট্টগ্রামে ৯টায়’দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুমআফগান ক্রিকেট বোর্ডের সিইওকে বিদায় দিল তালেবান
গণতন্ত্রের মানসপুত্রের জন্মবার্ষিকীতে সোহরাওয়ার্দী কলেজে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল
সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিনিধি :
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০১:৪৯:৩৭
প্রিন্টঅ-অ+

বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২২) গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ১৩০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জোহর মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। 


১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম হয় উপমহাদেশের প্রতিভাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর।


গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে গেছেন। সাংবিধানিক শাসনে বিশ্বাসী ও বাস্তববাদী রাজনীতিবিদ হিসেবেও তিনি এ দেশের গণসংগ্রামের ইতিহাসে সুপরিচিত।


সোহরাওয়ার্দী তার গৌরবোজ্জ্বল রাজনৈতিক জীবনে ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম লীগকে বাংলায় সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং এর অগ্রযাত্রায় রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। 


এছাড়াও ১৯২৪ সালে কলকাতা করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্যমন্ত্রী, ১৯৪৩-৪৫ সালে খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী, ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


১৯৪৯ সালের ২৩ জুন তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম ও প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। 


১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রথম প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক বিজয়ের পেছনেও সোহরাওয়ার্দী গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। এ বিজয়ের পর ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভার আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন এ নেতা।


হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন অবিভক্ত পাকিস্তানের ৫ম প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দায়িত্বকাল ছিল ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ থেকে ১১অক্টোবর ১৯৫৭ পর্যন্ত।


পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের সংবিধান প্রণয়নেও সোহরাওয়ার্দী তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাকিস্তানে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) গঠন করে তিনি ১৯৬২-৬৩ সালে আইয়ুব বিরোধী সম্মিলিত জোটের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।


গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, তাই সুধী সমাজ কর্তৃক ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলে আখ্যায়িত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক শিক্ষা গুরু। 


বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে পুরান ঢাকার লক্ষীবাজারে অবস্থিত কায়েদ-ই আজম কলেজটির নাম পরিবর্তন করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামানুসারে কলেজটির নাম রাখা হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ। 


এছাড়াও মহান এ নেতার নামে রয়েছেন মেডিকেল কলেজ, উদ্যানসহ একাধিক ছাত্রাবাস।


গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ১৩০তম জন্মবার্ষিকীতে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ পরিবার এবং সোহরাওয়ার্দী কলেজ সাংবাদিক সমিতি (সোকসাস) এর পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।

আরো পড়ুন