শিরোনাম :

  • বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে ‘৮ থেকে ১০ ঘণ্টা’ ঢাকায় বিদ্যুৎ স্বাভাবিক ‘রাত ৮টার মধ্যে, চট্টগ্রামে ৯টায়’দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুমআফগান ক্রিকেট বোর্ডের সিইওকে বিদায় দিল তালেবান
সেবা গ্রহনে অগ্রাধিকার পাবে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ
রিসাত রহমান, জবি প্রতিনিধি:
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৩:১৪:৩৬
প্রিন্টঅ-অ+

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলার পথ,বাজার কিংবা পাবলিক প্লেসগুলোতে কিছু মানুষকে দেখতে পাই যাদের সাথে হরহামেশাই সাধারণ মানুষের বাদানুবাদ লেগে থাকে।যারা মূলত সঠিক কর্মসংস্থানের অভাবে কিংবা অভ্যাসগত কারণেই এসব জায়গা থেকে টাকা তুলেই জীবিকা নির্বাহ করেন। আর এখান থেকেই শুরু হয় তাদের প্রতি বৈষম্য। বাংলাদেশ সরকার তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ এবং বৈষম্য দূরীকরণের উদ্দেশ্য তাদেরকে ২০১৩ সালে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসেবে ঘোষণা করেন। কিন্তু তারপরও থেমে নেই বৈষম্য। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাঁরাও হয়ত অযাচিত ও অশোভন আচরণ করে থাকেন।আর এর পিছনে দায়ী তাঁদের ছোট বেলার দুঃসহ স্মৃতি এবং তাদেরকে সমাজের মূল স্রোতে জায়গা না দেয়া।তাঁদের প্রতি একটু সহানুভূতিশীল আচরণ হয়ত তাঁদেরকে ফিরিয়ে আনতে পারে সঠিক পথে।


তাদের প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী নিয়েছেন অসাধারণ একটি উদ্যোগ।


৮ই সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার দেশে প্রথমবারের মতো কোন হাসপাতালে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়। এই লক্ষ্যে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এর টিকিট কাউন্টার এ ” তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পাবে " সূচক স্টিকার লাগানো হয়। এতে করে এখন থেকে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিরা ঐ টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে অতীতে যে সমস্যার সম্মুখীন হতেন তা থেকে রেহাই পাবেন। 


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিঞ্জান বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ  বর্ষের একদল শিক্ষার্থী একই বিভাগের শিক্ষার্থী  সাদিকাতুন নিসার নেতৃত্বে, দি হাংগার প্রজেক্ট এর আওতায় লিড বাংলাদেশ এর একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেন। এর পরবর্তীতে গত মার্চ মাসে তারা সোশ্যাল একশন প্রজেক্ট গ্রহণ করেন যার মূল লক্ষ্য ছিলো তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ। এরই অংশ হিসেবে তারা স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের টিকেট কাউন্টারে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের হেনস্তা হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এই প্রজেক্টের অংশ হিসেবে তারা অনলাইন ও অফলাইনে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেন, মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ও গণস্বাক্ষরতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। অবশেষে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এর ডিরেক্টর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী রশিদ-উন-নবীর অনুমোদন সাপেক্ষে টিকেট কাউন্টারে স্টিকার স্থাপন করেন। এই বিষয়ে সাদিকাতুন নিসা বলেন, " ভবিষ্যতে এ বিষয় নিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এ নয়, সারা দেশে সকল হাসপাতালেই যেন এ ব্যবস্থা করা যায় সে বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে পরবর্তী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে"।

আরো পড়ুন