শিরোনাম :

  • বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে ‘৮ থেকে ১০ ঘণ্টা’ ঢাকায় বিদ্যুৎ স্বাভাবিক ‘রাত ৮টার মধ্যে, চট্টগ্রামে ৯টায়’দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুমআফগান ক্রিকেট বোর্ডের সিইওকে বিদায় দিল তালেবান
গ্যারেজের জায়গা সঙ্কটে সোহরাওয়ার্দী কলেজে নিজস্ব পরিবহন হচ্ছে না!
সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিনিধি:
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১১:৫১:১৭
প্রিন্টঅ-অ+

রাজধানী পুরান ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ মোহসিন কবীর বলেন, সোহরাওয়ার্দী কলেজে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থার সংকটের মূল কারণ জায়গা সংকট।


তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটা কলেজেই কি বাস আছে? অবশ্যই তা নেই! এখন ক্যাম্পাসে যদি দুটি বাস আনা হয় তাহলে তার সাথে দুজন চালক এবং দুজন হেল্পপার লাগবে। গাড়ি রাখার জন্য প্রয়োজন হবে একটি স্থায়ী গ্যারেজের। কিন্তু এখানে গ্যারেজ তৈরী কারার মতো কোন জায়গা নেই। 


এছাড়াও তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে বাস আনলে হয়তো ৩০% (শতাংশ) ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে কাভার করা সম্ভব হবে কিন্তু বাকি ৭০% (শতাংশ) ছাত্র-ছাত্রীদের কি হবে? যদি দুটি বাস আনা হয় সেক্ষেত্রে সেগুলো কোন কোন রুটে চলাচল করবে?


এছাড়াও বাস আসলে পরিবহন খরচ বাবদ বাধ্যতামূলক সকল ছাত্র- ছাত্রীদের কাছে থেকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ফ্রি আদায় করা হবে।


তখন অনেকেই ক্যাম্পাসের নিকটস্থ বাসা-বাড়ি কিংবা মেসে থাকে তারা বলবে আমরা তো বাস ব্যবহার করি না, তবে আমরা কেন পরিবহন ফি দিব? এসব দিকও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হয়। 


সর্বশেষ প্রথমে আমাদের জায়গা সংকট নিরসন করতে হবে। এই জায়গার সংকট নিরসন না হওয়া পর্যন্ত কোনকিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না।


এদিকে যাতায়াতের জন্যে ক্যাম্পাসে পরিবহন সংকটের কারণে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। রাজধানী কিংবা রাজধানীর আশেপাশে থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস করতে এসে চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। যেখানে নারী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির মাত্রাটা যেন তুলনামূলকভাবে একটু তীব্র।


ক্যাম্পাস প্রতিনিধির সূত্র অনুযায়ী জানা যায়, অত্র কলেজে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও রাজধানীর আশেপাশে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, সাভার এবং গাজীপুর থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করতে আসছেন। 


দূর্ভোগের শিকার জোবাইদা আমান লিজা জানান, আমি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে নিয়মিত ক্লাস করতে আসি। সকালে বাসা থেকে অটো রিক্সা করে নদীর ঘাট পর্যন্ত পৌঁছাই। তারপর নদী পার হয়ে সেখান থেকে একটি বাসে করে নতুন বাজার পর্যন্ত আসি। নতুন বাজার থেকে বাসে করে সদরঘাট নেমে আবার সেখান থেকে হেঁটে কলেজ পর্যন্ত আসি।  পরে আরো বলে আমার যাতায়াত করতে খুবই সমস্যা হয়, আসা যাওয়া মিলিয়ে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘন্টা খরচ হয়। ক্লাস করার জন্য সকাল ৬ টায় রওনা হয়ে ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে কোন কোন দিন রাত ৮ টা বেজে যায়! 


গাজীপুর থেকে আসা দূর্ভোগের শিকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, ''ক্যাম্পাসে বাস না থাকায় ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন ক্লাস করতে পারি না। একদিন ক্লাস করতে আসলে বাসায় যেয়ে খুবই ক্লান্ত হয়ে যাই। আসা-যাওয়া করতে ব্যস্ততম নগরীর যানজটের জন্য ব্যয় হয় ৫-৬ ঘন্টা। এছাড়াও সকাল ১১ টা ক্লাস ধরতে বাসা থেকে বের হতে হয় সকাল ন'টায়। অফিসের সময় হওয়ার মাঝে মাঝে বাসে অতিরিক্ত ভীড় এবং চাপে বাসে উঠতে কষ্ট হয়। এছাড়াও মোবাইল হারানো, টাকার ব্যাগ হারানো নিত্যদিনের সঙ্গী।''


সাভার থেকে ক্লাস করতে আসা শিক্ষার্থী ফিওনা এষা সরকার জানান, ''বাসওয়ালারা হাফ ভাড়া নিতে চায় না স্টুডেন্ট আইডি কার্ড দেখানো হলেও করা হয় দুর্ব্যবহার। মেয়ে শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে ব্যস্ততম সময়ে বাসে নিতেও আপত্তি করে, দাঁড়িয়ে ধাক্কাধাক্কি করে আসতে হয়। অনেক সময়, ঠিক জায়গায় নামাতেও ঝামেলা করে। সে আরোও জানান যে, প্রতিদিন আসা যাওয়া করতে প্রায় সময় লাগে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা।''


ক্যাম্পাসের অন্যান্য শিক্ষার্থী যারা আশেপাশের উত্তরা, খিলগাঁও,  বাড্ডা, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর থেকে যাতায়াত করে তাদের থেকে জানা যায়, এমনও দিন কেউ কেউ সকাল ন'টার ক্লাস করার জন্য সকাল ৬ টায় বাসা থেকে বের হয়েও ক্লাসে এসে দেখে ক্লাস শেষ হয়ে গেছে। যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে অপূরনীয় ক্ষতি। হাফ ভাড়া নিয়ে প্রতিদিনের বাক-বিতন্ডা এখন নিত্যদিনের বিষয়ে পরিনত হয়েছে। আবার অপমান, লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। 


মাত্র ১ একর জমির উপর উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে ১৭ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ। লাল ইটের বাতিঘরের ৭৩ তম বর্ষে দাঁড়িয়ে পরিবহন সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী হারিয়ে ফেলছে ক্যাম্পাসে ক্লাস করবার আগ্রহ। যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফলে।


এছাড়াও সরকারি সাত কলেজের সোহরাওয়ার্দী কলেজ বাদে বাকী ছয়টি কলেজেই রয়েছে একাধিক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা।

আরো পড়ুন