শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
মুভি রিভিউ
পরান জুড়িয়েছে...
আলিফ খান
২৬ জুলাই, ২০২২ ১১:২৩:২৬
প্রিন্টঅ-অ+

রোমান্টিক মুভি দেখলেই ঘুম আসে আমিও সেই দলেরই একজন ব্যাক্তি। তবে "The classic" "Dia" "Be With You" "Colour Photo" "96" মুভিগুলো আমাকে ঘুমাতে দেয় নি এদের গল্প আর মেকিং এবং অভিনয় গুনে। 


"পরান" একটি বাংলাদেশি মুভি। খুব বেশি এক্সপেকটেশন নিয়ে দেখা শুরু করি নি তবে "রিফাত-মিন্নি-নয়ন" এই ৩ জন ভদ্রলোক এবং ভদ্রমহিলার সুবাদে গল্পটা আগে থেকেই জানা ছিল।


গল্পটা একদম মফস্বলের গল্প। প্রতিনিয়ত আপনি আপনার চারপাশে যেসব ঘটনা দেখেন ঠিক সেরকম ই একটি গল্প। গল্পে আইটেম সং কিংবা নায়ক নায়িকা বিদেশে লাফানো না রাখাতে আপনি একদম গল্পটা ফিল করতে পারবেন। গল্পটার একটু একটু করে গড়ে উঠা আপনার চোখে লেগে থাকবে। হুটহাট নায়িকাকে গুন্ডাদের থেকে বাচিয়ে নায়ক নায়িকার প্রেম হয়ে যাওয়া এখানে দেখানো হয় নি। সবকিছুই ছিল গল্পের অংশ। বাংলাদেশি সিনেমায় গল্প কিংবা মেকিং এর যেই আক্ষেপটা আমাদের ছিল সেটা অনেকটাই ওভারকাম করতে পেরেছে পরান। একটা জানা গল্পকেও পরিচালক যেভাবে উপস্থাপন করেছে সেজন্য সে প্রশংসা পেতেই পারে। আমার ব্যাক্তিগত ভাবে যেটা সবচাইতে ভাল্লাগছে সেটা হলো "শেষ টুইস্টটা" এটা আমি একেবারেই প্রেডিক্ট করতে পারি নি ভাই। 


অভিনয়ের কথায় যদি আসি তাহলে আমাদের সিনেমায় ওভার এক্টিং এবং এক্সট্রা আর্টিস্টদের যা তা অভিনয় খুবই প্যারা দেয়। এক্ষেত্রে পরান খুব ভালো করেছে। প্রতিটি চরিত্র গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে। ছোট ছোট চরিত্র গুলো ও খুব ভালো অভিনয় করেছে। শহীদুজ্জামান সেলিম স্যারের কথা আলাদা করে বলতেই হয় খুব ভালো করেছেন উনি। 


এছাড়া রাশেদ মামুন অপু এবং পুলিশ অফিসার সহ বাকিরাও খুব ভালো করেছে। সিফাত চরিত্রে থাকা ইয়াশ রোহানকে আমি প্রথম দেখি স্বপ্নজাল মুভিতে। তার চেহারার মধ্যেই একটা সফট ব্যাপার আছে।


অনন্যা চরিত্রে থাকা বিদ্যা সিনহা মিম যে কতটা সুন্দরী সেটা বড়পর্দায় না দেখলে বুঝা যায় না। মারাত্মক অভিনয় করেছে এই সুন্দরী। 


এবার আসা যাক যেই ছেলেটা সবচাইতে বেশি নজর কেড়েছে সেটা হচ্ছে "শরীফুল রাজ"। বাংলাদেশের নায়কদের মধ্যে হিরো হিরো ব্যাপারটা ঠিক পাওয়া যায় না এরকম অভিযোগ উঠে। বাংলাদেশের নায়কদের রাগান্বিত কন্ঠ মানেই দুনিয়া কাপিয়ে " ওই" বলে ধমক কিন্তু এই ছেলেটা পুরো মুভিতে একটা চিতকার ও দেয় নি তবুও সে স্ক্রিনে আসলেই নড়ে চড়ে বসতে হয়েছে। রাফ এন্ড টাফ লুকে এবং সাইকো টাইপ অভিনয় জাস্ট চোখে লেগে আছে। এই ছেলে কিন্তু রেদোয়ান রনির আবিস্কার। একে প্রোপার সুযোগ দিলে ভালো কিছু পাবে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি। উনি কার জামাই আমি সেসব নিয়ে ভাবতেও চাই না আমি তার কাজের প্রশংসা করছি যেটা তার প্রাপ্য। শরীফুল রাজের "আইসক্রিম" "ন-ডরাই" "নেটওয়ার্ক এর বাইরে" কাজ গুলো চমৎকার ছিল।


একটা ব্যাপার শেয়ার করতে চাই। আমি যখন মুভি দেখি তখন খুব ছোট ছোট ব্যাপার গুলো ও খেয়াল করি। পরান এতটাই বাস্তবিক গল্পের মুভি যে "একজন মধ্যবিত্ত বাবা তার মেয়ের পাশ করেছে শুনে মিষ্টি কেনার জন্য ২ কেজি চাউল কম কিনছেন" এই ধরনের কিছু বাস্তবিক সিন ও আপনার চোখে ধরা দিবে।


উপস্থিত দর্শককে পরান এতটাই গল্পের সাথে মজে নিয়েছিল যে একটি দৃশ্যে অনন্যার শাশুড়ি অনন্যাকে বলছিল " রুটি বানাতে পারো না,ডিম ভাজতে পারো না,ভাত রান্না করতে পারো না, তাহলে পারোটা কি? "


পিছন থেকে এক দর্শক উচ্চস্বরে বলে উঠে " ছেলেদের খেয়ে ছেড়ে দিতে পারে "


পরান মুভির পুরো শুটিং ময়মনসিংহে হয়েছে তাই লোকেশনে একদম দেশি মাটির ঘ্রান পাওয়া গিয়েছে। গান গুলো আমি বড়পর্দায়ই প্রথমবার শুনেছি। "চল নিরালায়" গানটা খুবই সুন্দর ছিল।


মানুষ মাত্রই ভুল। দুনিয়ার বড় বড় ইন্ডাস্ট্রির মেকার্সরা ভুলে ভরা মুভি বানায়। সেদিক বিবেচনা করলে পরানেও কিছু নেগেটিভ দিক আমার চোখে পড়েছে কিন্তু সেসব নিয়ে আলোচনা করতে চাই না।কারন পরান ভালো এবং ভিন্ন কিছু দেখাতে চেয়েছে এটা অব্যাহত থাকুক।


সামনে "হাওয়া" আসছে আবার আমায় বড়পর্দা টানবে। "পরান" "হাওয়া" এর মতো ভিন্নধর্মী মুভি হোক এবং আমাদের বড়পর্দা টানুক বাংলাদেশি সিনেমা এগিয়ে যাক।


"পরান" ব্যাক্তিগত রেটিং ৭/১০

আরো পড়ুন