শিরোনাম :

  • রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৪:৩৯:২৮
প্রিন্টঅ-অ+


বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৩তম প্রয়াণ দিবস আজ। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ইহলোক ত্যাগ করেন বাংলা গানের এই মহাজন। প্রতিবছর নানান আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে দিবসটি পালিত হলেও হাওর অঞ্চলে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা পরবর্তী নানান কারণে এবার তা আর হচ্ছে না। বাউল সম্রাটের প্রয়াণ দিবসে স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমি বা উপজেলা প্রশাসনের কোনো কর্মসূচি নেই। বলা চলে পারিবারিক ও ঘরোয়া আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগীতের এই মহান রাজাকে স্মরণ করছেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা।

শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলায় পিতা ইব্রাহিম আলী ও মা নাইওরজানের সংসারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে একজন সংগীতশিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সংগীতের শিক্ষক। তিনি বাউল সংগীতকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। কর্মজীবনে তিনি পাঁচ শতাধিক গান রচনা করেছেন। বাংলা গানে বহুল প্রতিভার সাক্ষর রাখায় তাকে ‘বাউল সম্রাট’ হিসাবে সম্বোধন করা হয়।

শাহ আবদুল করিমের লেখা ও গাওয়া উল্লেখযোগ্য গান :

বন্দে মায়া লাগাইছে, আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম, গাড়ি চলে না, রঙের দুনিয়া তোরে চায় না, তুমি রাখো কিবা মারো, ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ুরপঙ্খী নাও, তোমার কি দয়া লাগে না, আমি মিনতি করি রে, তোমারও পিরিতে বন্ধু, সাহস বিনা হয় না কভু প্রেম, মোদের কী হবে রে, মানুষ হয়ে তালাশ করলে, আমি বাংলা মায়ের ছেলে, আমি কূলহারা কলঙ্কিনী, কেমনে ভুলিব আমি বাঁচি না তারে ছাড়া, কোন মেস্তরি নাও বানাইছে, কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু, সখী তোরা প্রেম করিও না, মন মজালে ওরে বাউলা গানসহ শত শত গান।

বাউল শাহ আবদুল করিম ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন। বাংলা একাডেমি তার দশটি গানের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করে। এ ছাড়াও শাকুর মজিদ তাকে নিয়ে নির্মাণ করেছেন ‘ভাটির পুরুষ’ নামে একটি প্রামাণ্য চিত্র। সুবচন নাট্য সংসদ তাকে নিয়ে শাকুর মজিদের লেখা ‘মহাজনের নাও’ নাটকের ৮৮টি প্রদর্শনী করেছে।

উল্লেখযোগ্য পুরস্কার ও সম্মাননা :

একুশে পদক (২০০১), কথাসাহিত্যিক আবদুর রউফ চৌধুরী পদক (২০০০), রাগীব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার (২০০০), লেবাক অ্যাওয়ার্ড (২০০৩), মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার আজীবন সম্মাননা (২০০৪), সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস আজীবন সম্মাননা (২০০৫), বাংলাদেশ জাতিসংঘ সমিতি সম্মাননা (২০০৬), খান বাহাদুর এশিয়া পদক (২০০৮), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা (২০০৮), হাতিল অ্যাওয়ার্ড (২০০৯) ও এনসিসি ব্যাংক এনএ সম্মাননা (২০০৯)


আরো পড়ুন