শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
ন’গ্ন নারীরা প্রবেশ করতে পারে,পুরুষ প্রবেশে শাস্তি।
০১ জুলাই, ২০২১ ১৩:৪৪:৩৯
প্রিন্টঅ-অ+


শুধু মেয়েদেরই প্রবেশের অনুমতি রয়েছে। এমনই একটি জায়গা হচ্ছে টোনোটিওয়াট। যার অর্থ ‘ফিমেল ফরেস্ট’ বা নারীদের অরণ্য। অবশ্য টোনোটিওয়াটের অর্থ ম্যানগ্রোভে স্বাগতও হতে পারে। এই ম্যানগ্রোভটি ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়ায় অবস্থিত। খবর আনন্দবাজারের।

পাপুয়ার মানুষের পছন্দের খাবার ঝিনুক এবং নানা রকম ফলের জোগান দেয় এই অরণ্য। সেসব সংগ্রহ করে আনার কাজও মেয়েরাই করে থাকে। রাজধানী জয়পুরার ক্যামপাং এনগ্রোসের মাঝামাঝি ওই ম্যানগ্রোভ অরণ্য ছড়িয়ে আছে প্রায় ৮ হেক্টর এলাকা জুড়ে।





এই অরণ্যে পুরুষরা প্রবেশ করতে পারে শুধু কাঠ সংগ্রহের জন্য। তবে তার আগে তাদের নিশ্চিত হতে হয় যে জঙ্গলে কোনও নারী নেই। নারী থাকতে কোনও পুরুষ জঙ্গলে প্রবেশ করে ধরা পড়লে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় উপজাতি আদালতে। অপরাধ প্রমাণ হলে শাস্তির পাশাপাশি দিতে হয় জরিমানাও।

জরিমানার পরিমাণও কম নয়। জঙ্গলে প্রবেশ করার জন্য ১০ লাখ রুপাইয়া জরিমানা দিতে হয়। নারীদেরও জঙ্গলে প্রবেশের কিছু নিয়ম আছে। এখানে মেয়েরা সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে প্রবেশ করে। জঙ্গল, জলাভূমিতে দল বেঁধে ঘোরেন। জঙ্গলে প্রবেশের পর একত্রিত হয়ে শপথ নেন জঙ্গলে থাকাকালীন কেউ কাউকে ছেড়ে যাবেন না।

তবে কবে থেকে এই নিয়ম চলে আসছে তা জানেন না কেউ। যদিও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তাদের মা, নানীদের কাছেও এই একই কাহিনি শুনে আসছেন তারা। প্রচলিত কাহিনী থেকেই জেনেছেন এই জঙ্গলের সঙ্গে স্থানীয়দের সখ্যতা ১৮০৮ সাল থেকে।

সমুদ্র লাগোয়া জঙ্গলের জলাভূমিতে নেমে ঝিনুক সংগ্রহ করেন মেয়েরা। কাদা জলে পোশাক নষ্ট হতে পারে ভেবেই হয়তো চালু হয়েছিল নগ্ন নামার এই নিয়ম। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যেহেতু মেয়েদের এই জঙ্গলে নগ্ন হতে হয়, তাই হয়তো পুরুষদের দূরে রাখার নিয়ম চালু হয়েছিল।

জঙ্গলে থাকার আরও একটি নিয়ম আছে। যতক্ষণ জঙ্গলে থাকেন ততক্ষণ গলা ছেড়ে গান করেন নারীরা। এই গান আসলে জঙ্গলে ভুল করে ঢুকে পড়া পুরুষের প্রতি সঙ্কেত। গান গেয়েই বলা ‘দূরে যাও, আমরা আছি।’ এই জঙ্গল এখন বিপন্ন। শহরের আবর্জনা ক্রমে এসে জড়ো হচ্ছে ম্যানগ্রোভের চারপাশে।

উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার ৩৪টি প্রদেশের একটি হল পাপুয়া। এর উত্তরে প্রশান্ত মহাসাগর দক্ষিণে আরফুরা সমুদ্র। নারীরা জানিয়েছেন, ভাটার সময় কাঠের নৌকায় চেপে বেরিয়ে পড়েন তারা। সারাদিন থাকেন জঙ্গলেই। লম্বাটে কাঠের ওই নৌকার নাম ‘কোলে কোলে’। সারাদিন ঝিনুক সংগ্রহ করে পরে সেগুলো বিক্রি করেন স্থানীয় বাজারে।

আমার বার্তা/ এইচ এইচ এন


আরো পড়ুন