শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
৭ মাসে ৭ জোড়া যমজ শিশুর জন্ম, ৭ ছেলে-৭ মেয়ে
০৯ আগস্ট, ২০২১ ১৩:৩২:৫৭
প্রিন্টঅ-অ+


দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানের দ্য আহমেদ আল-কাদি প্রাইভেট হাসপাতালে সাত যমজ শিশুর জন্ম হয়েছে। তাদের মধ্যে সাত ছেলে ও সাত মেয়ে জন্ম নিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে চলতি বছরের জুলাই মাসে, যা আবার বছরের সপ্তম মাসে।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ইব্রাহিম আসমাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় গণমাধ্যমে জানান, জন্ম নেয়া শিশুদের মধ্যে তিন জোড়া মেয়ে ও তিন জোড়া ছেলে। আর একটি যমজ এক ছেলে ও এক মেয়ে জন্ম নেয়।

জোড়া সন্তান জন্ম দেয়া এক মা নাজিয়া বক্স বলেন, এটি তার এবং বাচ্চাদের বাবার জন্য একটি অভিজ্ঞতা। যমজ আমাদের জন্য পরিপূর্ণতার সংজ্ঞা। আমি চিকিৎসক নার্সসহ হাসপাতালের সব প্রসূতি বিভাগের কর্মীদের তাদের চমৎকার সেবার জন্য ধন্যবাদ জানাই।

আরেকজন যমজ সন্তান জন্ম দেয়া মা অতিনা লাওয়েলা বলেন, এটি ছিল তার প্রথম গর্ভধারণ। তিনি দুই ছেলে শিশু সন্তান জন্ম দেন। তাদের নাম রাখেন স্টিভেন ও রেজিস। তারা দুই জন সুস্থ আছে। ছেলেদের জন্ম দিয়ে ধন্য হয়েছেন জানান তিনি।

কাকতালীয়ভাবে জোড়া শিশুর জন্মের ঘটনায় আহমদ আল-কাদি হাসপাতালের কর্মীরা বলেছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এটা আমাদের মাধ্যমে ঘটেছে যা বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতিকে ছাড়িয়ে গেছে। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে ঝুঁকি মোকাবিলা করে আমরা জয়ী হয়েছি। শিশুদের নিরাপদ রাখতে পেরেছি। এই ঘটনা আমাদের মধ্যে সহানুভূতি জাগিয়ে ঐক্যবদ্ধ সৃষ্টি করেছে।

এটি একটি দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. কাসিমকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমরা প্রায় ১০ দিন হাসপাতালে ছিলাম এবং সবকিছুই ভালো ছিল। আমরা আমাদের ছেলেদের জন্য ইশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই। হেলেনগিওই সাবা জুলাই মাসে হাসপাতালে যমজ শিশু জন্ম দেন।

তিনি ডা. ডেভিড এনগোথো এবং হাসপাতালের কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। তাদের পেশাদারিত্বের জন্য এবং তার স্বামী যারা তাদের হাসপাতালের ব্যাগ গোছাতে এবং শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা করার জন্য ছুটে এসেছিলেন কারণ শিশুরা প্রত্যাশার চেয়ে ১৮ দিন আগে প্রসব হয়েছিল।

আয়সেগুল কায়গুসুজ জুলাই মাসে যমজ শিশু জন্ম দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তার যমজ সন্তান জন্ম দেয়া ছিল একটি অলৌকিক ঘটনা।

মা হওয়া ইশ্বরের এমন একটি উপহার যা যে কোনও নারীর কাছে অকল্পনীয়। যাদের জীবনে সন্তান নেই তারা জানে একটি সন্তান জন্ম দেয়া কতটা সুখময় অনুভূতি দেয়। এটি সত্যিই একটি অসাধারণ উপহার এবং একটি বিশেষাধিকার যা আমি আমার হৃদয়ের খুব কাছে রেখেছি।

আয়সেগুল কায়গুসুজ বলেন, মা হওয়া মানে ক্লান্ত হওয়া, আমার শরীর, আমার সময়, আমার অর্থ, আমার ঘুম, এবং আমার মানসিক স্বাস্থ্যকে আমার বাচ্চাদের বড় করার জন্য উৎসর্গ করা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি মূল্যবান হবে। কারণ জীবন আর আমার সম্পর্কে নয় এবং আমি মনে করি যদি আপনার যমজ সন্তান থাকে তার মানে আপনি সেই সমস্ত জিনিসকে গুণ করবেন।

আমি হাসপাতালের চিকিৎসক এবং নার্সদের তাদের প্রচেষ্টার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই কাইগুসুজ বলেন।

উমিনাথী এবং ইমিনাথী এমবাথাও জুলাই মাসে এএকে হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাদের মা ইয়ান্দিসওয়া ম্যাকিংওয়েন বলেছেন, তারা ইশ্বরের আশীর্বাদপ্রাপ্ত। তাদের নামের অর্থ ইশ্বর আমাদের সঙ্গে আছেন।





এএকে হাসপাতালের প্রসূতি কর্মীরা তাদের ডা. এনগোথোর সঙ্গে মিলে পুরো অভিজ্ঞতাকে খুব ইতিবাচক করে তুলেছেন। তারা খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহায়ক। আমি খুব ঘাবড়ে গিয়েছিলাম এবং তৃতীয় দিন তাদের সাহায্যে আমি ছিলাম আমার বাচ্চাদের সঙ্গে বাড়ি যেতে পেরে খুশি এবং আত্মবিশ্বাসী তিনি বলেছিলেন।

এএকে হাসপাতালে ম্যাটারনিটি ওয়ার্ডের ইউনিট ম্যানেজার সিস্টার কাঁথা নাইডু বলেন, এই জাদুকরী সময়ের অংশ হতে পেরে তিনি এবং তার দল অত্যন্ত গর্বিত।

তিনি বলেন, বছরের সপ্তম মাসে সাতটি সুন্দর ছেলে এবং সাতটি মেয়ে নিয়ে গঠিত সাতটি যমজ বাচ্চা। আমরা হাসতে পারি এবং এমন চমৎকার এবং জাদুকরী স্মৃতি উপভোগ করতে পারি।

সিস্টার নাইডু বলেন, মাসের শুরুতে এএকে হাসপাতালে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জন্ম নেয়া ১০ শিশুকন্যাকে স্বাগত জানায়।

ডারবানের দ্য আহমেদ আল-কাদি প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ইব্রাহিম আসমাল বলেন, একটি শিশুর জন্ম একটি হৃদয় উষ্ণ সময়। তারা আশা, আনন্দ, সুখ এবং সব কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত নিয়ে আসে। আমরা এই গৌরবময় সময়ের অংশ হতে পেরে আনন্দিত। যারা আমাদের এই বিশেষ সেবা নিয়ে গর্বিত করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই। যমজ শিশুদের ভবিষ্যৎ যাত্রা সুন্দর ও সুখী হোক।

আমার বার্তা/এইচ এইচ এন


আরো পড়ুন