শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
সামু ভাইয়ের ওকালতি আখতারুজ্জামান নিশান
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১১:৪৮:৩৮
প্রিন্টঅ-অ+

সামু ভাইয়ের নতুন নাম রটে গেছে ‘এটেম্পট টু মার্ডার’! আমরাও তাকে এড়িয়ে চলছি ইদানীং। কারণ বিপদে পড়ার কোনো মানে হয় না। এমনিতেই সামু ভাই সবসময় উদ্ভট সব কাÐ করে ঝামেলায় ফেলে দেন। এবার অবশ্য সেরকম ঝামেলা না হলেও বিষয়টা অতটা সহজ নয়। বিষয়টা খুলেই বলি। সামু ভাই তার সহপাঠী অরণি আপুকে পছন্দ করেন। সেটা এলাকার অনেকেই জানেন। বিষয়টা এমন নয় যে, হুট করে এটা সবাই জেনে গেছে। সামু ভাই নিজেই তার পরিচিত কাছের লোকজনকে আলাদা করে ডেকে খুব গোপনে বিষয়টা জানিয়েছেন। বলার সময় সবাইকে বলেছেন, ‘বিষয়টা খুব গোপন। শুধু তুই-ই জানিস। আর কেউ যেন না জানে।’ এই তো গত মাসের কথা। হুট করে সামু ভাই এক বিকেলে আমাদের ডাক দিলেন। আমরা অনেক্ষণ ধরে বসে আছি। তারপর হুট করেই যেন খেয়াল করলেন বিষয়টা-এমন একটা ভাব নিয়ে বললেন, ‘সামু এন্ড ব্রাদার্স-এর সবাই হাজির?’


আমি বললাম, ‘জি ভাই।’


ফজলু বলল, ‘বান্দা হাজির।’


সামু ভাই তার দিকে চোখ গরম করে বললেন, ‘ফাজলামো করিস? কান মলে দিব কিন্তু।’


আমি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ভাই, জরুরি কাজ বললেন-বিষয়টা কী?’


ইবু বলল, ‘ভাই কি বিয়ে করবেন নাকি?’


সামু ভাই যেন ধাক্কা খেলেন। বললেন, ‘হুম। কিন্তু তুই জানলি কীভাবে?’


সামু ভাই বিয়ে করবেন শুনে এবার আমরা ধাক্কা খেলাম। তিনি বিয়ে করলে আমাদের সঙ্গে তো আর আড্ডা দিবেন না।


সামু ভাই পরিষ্কার করলেন বিষয়টা। বললেন, ‘অরণির ব্যাপারটা তো তোদের কাউকে জানাইনি আগে।’


আবির হুট করে কিছু বলতে চাইল। আমি তার হাতে চিমটি কাটলাম। আবির কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বলল, ‘অরণি আপুর ব্যাপারটা তো আমরা জানি।’


সামু ভাই বলেই যাচ্ছেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অরণিকে বিয়ে করব।’


আমি বললাম, ‘ভাই, আপনি তো কিছু করেন না।’


সামু ভাই খুব গম্ভীরভাবে জানালেন, ‘সেই ব্যবস্থা হয়েছে।’


সামু ভাই এক উকিলের অ্যাসিস্ট্যান্ট হয়েছেন। ওকালতি না পড়েও কেউ উকিলের অ্যাসিস্ট্যান্ট হতে পারে সেটা তখন জানলাম মাত্র।


সামু ভাইয়ের এই উকিলের অ্যাসিস্ট্যান্ট হওয়াটা আমাদের জন্য কাল হলো। আমাদের না শুধু, মহল্লার সবার জন্য। কারণ প্রতিদিন উকিলের চেম্বার থেকে এসে সামু ভাই যাকে পান তাকেই আইনের ধারা বোঝানো শুরু করেন।


কেউ একজন এসে হয়তো বলল, ‘ভাই, আমার মাথা ব্যথা।’


ব্যস, আর যায় কোথায়! সামু ভাই অমনি বলে ওঠেন, ‘মাথা ব্যথা তো খারাপ জিনিস। এটা থেকে মেজাজ খারাপ হয়। মেজাজ খারাপ অবস্থায় কাউকে যদি আঘাত করতে যাও সেটা কিন্তু এটেম্পট টু মার্ডার! খুব জটিল বিষয়।’


একদিন আবির বলল, ‘ভাই, আজকে বাজারে একটা লোকের হাত থেকে ডিম পড়ে ভেঙে গেছে।’


সামু ভাই আবিরকে এক ঘণ্টা লেকচার দিয়ে বোঝালেন, ডিম ভাঙার ঘটনাটা কীভাবে এটেম্পট টু মার্ডার হয়! কারণ ডিম ভেঙে যাওয়ায় লোকটা যখন খালি হাতে বাসায় ফিরবেন, তখন তার স্ত্রী রেগে গিয়ে হাতের কাছে যা পাবে তা-ই ছুড়ে মারবেন। এতে লোকটা মাথা বাঁচিয়ে সরে গেলেও, এই


যে কিছু ছুড়ে মারাটা-এটাই এটেম্পট


টু মার্ডার!


তারপর থেকে আমরা সামু ভাইকে এড়িয়ে চলছি। এলাকায় সামু ভাইয়ের নতুন নাম এখন ‘এটেম্পট টু মার্ডার’!


আমরা সামু ভাইকে এখনো বলিনি যে, তার নতুন নাম ‘এটেম্পট টু মার্ডার’ হয়েছে। কারণ সেটা বলতে গেলে হয়তো দেখা যাবে, তিনি আমাদের ওপর রেগে যে এটেম্পট নেবেন, সেটাই আবার নতুন করে ‘এটেম্পট টু মার্ডার’ হয়ে যাবে!

আরো পড়ুন