শিরোনাম :

  • সাহারা খাতুনের মরদেহ ঢাকায় আনা হয়েছে আজ দেশের ১৯ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস তুরস্কের হাজিয়া সোফিয়ায় ৮৬ বছর পর আজানের ধ্বনি
‘টক অ্যাবাউট ডিপ্রেশন’
আমার বার্তা ডেস্ক:
২৯ জুন, ২০২০ ১৫:৫২:৩৩
প্রিন্টঅ-অ+


একটি স্লোগান ছিল—‘টক অ্যাবাউট ডিপ্রেশন।’ চলুন, অবসাদ নিয়ে আমরা কথা বলি। মনের ভাব প্রকাশ করি। এবার সত্যিই সময় এসেছে কথা বলার, কারণ আত্মহত্যা কোন সমাধান নয়। জীবন হল ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ দান ।‘উইনার্স নেভার কুইট।’কিছুই না করে নিজেকে শেষ করে দেওয়াটা চরম বোকামি।



একাকিত্ব, আর্থিক সমস্যা এবং সমাজের নানাবিধ চাপে মানুষের মন খারাপ হয়।দু’চার দিন মনখারাপ থাকতেেই পারে। কিন্তু যদি দেখেন যে, সেই মনখারাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না, ক্রমশ তা গ্রাস করছে আপনার অস্তিত্বকে, তখনই কিন্তু সচেতন হতে হবে। কারণ শতকরা নব্বই ভাগ ক্ষেত্রে আত্মহত্যার পিছনে মানসিক রোগ বা সমস্যা যুক্ত থাকে। মন খারাপ বা ডিপ্রেশনের সমস্যা এগুলির মধ্যে অন্যতম।অথচ সেই মনের রোগকেই আমরা আমল দিই না। মনখারাপের স্থায়িত্ব, আগ্রহ হারিয়ে ফেলার সঙ্গে এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলেই বুঝতে হবে যে, ডিপ্রেশন তাঁকে গ্রাস করছে। তখনই কিন্তু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। অনেক সময়ে বন্ধুবান্ধব বা মা-বাবার কাছে রোগী স্বীকার করেন যে, তাঁর মন ভাল নেই। তখন অনেকেই ভাবেন, ওর কীসের অভাব আছে? বা কী এমন ঘটেছে যে মন ভাল নেই কেন? এ সব ভেবে তা উড়িয়ে দেন। কোনও অভাব না থাকলেও ডিপ্রেশন দেখা দিতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে একটি মানুষের জীবন ঠিকঠাক চলছে মনে হলেও কিন্তু ডিপ্রেশন বাসা বাঁধতে পারে তাঁর মনে।

মানসিক সমস্যাগুলি বরাবরই যেন আমাদের কাছে অবহেলিত। আমরা বুক ফুলিয়ে নিজের ‘ওপেন হার্ট সার্জারি’র কথা সবাইকে জানালেও সামান্য মন খারাপের কথাও সবার থেকে লুকিয়ে রাখি। যদিও মন খারাপের চিকিৎসা তুলনায় অনেক সহজ। পরিসংখ্যান বলে বিশ্বজুড়ে ফি বছর প্রায় আট লাখ মানুষ আত্মহত্যা করেন। অর্থাৎ, প্রতি এক লাখে সংখ্যাটা প্রায় এগারো জন। অন্য ভাবে দেখলে প্রতি তিন সেকেন্ডে এক জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ও প্রত্যেক চল্লিশ সেকেন্ডে এক জন আত্মহত্যা করেন। আবার, আত্মহত্যার যত ঘটনা ঘটে, তার দুই-তৃতীয়াংশই উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ঘটতে দেখা গিয়েছে। দেখা গিয়েছে, আত্মঘাতী কোনও ব্যক্তি কুড়ি শতাংশ ক্ষেত্রে আগেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। ২০০৮-০৯ এর হিসাব ধরলে, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর বিভিন্ন কারণগুলির মধ্যে আত্মহত্যা দশম স্থানে রয়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলি জানান দেয় সমস্যা কতটা গুরুতর।ডিপ্রেশন ছাড়াও আরও কিছু মানসিক রোগ,  যেমন—‘বাইপোলার ডিসঅর্ডার’, বিভিন্ন ধরনের নেশার প্রবণতা, ব্যক্তিত্বের সমস্যা (পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার), স্কিৎজ়োফ্রেনিয়া, ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার এক্টিভিটি ডিসঅর্ডার’ ইত্যাদি আত্মহত্যার প্রবণতা অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে।

আবার সব মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঠিকমতো হয় না, তাঁরা অনেক সময়ে আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে পড়েন। ব্যক্তিত্বের সমস্যা বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যেমন— কেউ কেউ অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হন। আবেগের বশে হঠাৎ করে তাঁরা আত্মহত্যার চেষ্টা করে বসেন। কেউ কেউ আবার আশপাশের পরিবেশকে একটু অন্য চোখে দেখেন। তাঁদের কাছে মানুষ দু’রকমের হয়ে ওঠে— হয় খুব ভাল, না হলে খুব খারাপ। মানুষ যে দোষে-গুণেই সম্পূর্ণ, তা তাঁরা বোঝেন না। এঁরা নিজেদের সব সময়ে বঞ্চিত মনে করেন। সহজেই সব শেষ হয়ে গিয়েছে ভেবে নেন এবং বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন।

কেউ কেউ আবার সমস্ত কাজ বাঁধাধরা ছক অনুযায়ী করতে ভালবাসেন। নিয়মের বাইরে কিছু ঘটলে তা মানিয়ে নিতে সমস্যায় পড়েন তাঁরা। ব্যক্তিত্বের এমন নানান সমস্যা তীব্রতর হয়ে উঠলে সেগুলি মানুষকে আত্মহত্যাপ্রবণ করে তুলতে পারে।



আত্মহত্যার প্রবণতাকে অনেকটা রোধ করা যাবে তবে এর জন্য একটু শরীর চর্চা করা দরকার। আমরা যদি রোজ আধ ঘম্টা শরীরচর্চা করি, ব্যায়াম করি, প্রাণায়াম ও জগিং করি, তা হলে মস্তিষ্ক একটি রাসায়নিক তৈরি করে। তাতে শরীরে সুখানুভূতি তৈরি হয়। অনেক রোগ কমে। উচ্চ রক্তচাপ কম হবে, ডায়াবেটিস হবে না, আরথ্রাইটিস হবে না, হার্টের রোগ কম হবে। মনের ভাল লাগাটাও বাড়়বে। সব কাজে উৎসাহ আসবে।



সাফল্য-ব্যর্থতা, ভাল থাকা-মন্দ থাকা জীবনের অঙ্গ। ঘুরে-ফিরে সবই আসে। সময়ের উপর ধৈর্য রাখুন। আজ না হলে কাল সাফল্য আসবেই। ভালো কিছু কারও ক্ষেত্রে তাড়়াতাড়়ি হয়, কারও তা দেরিতে আসে। মনের কথা খুলে বলুন ভরসার লোককে। সে রকম কেউ না থাকলে মনোবিদের কাছে যান। আমার ভাল থাকা কেউ আটকাতে পারবে না। এই কথাটি মন্ত্রের মতো জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে নিতে হবে।



আমার বার্তা/ ২৯জুন,২০২০/এসএফসি


আরো পড়ুন