শিরোনাম :

  • প্রথম ওভারেই নাসুমের আঘাত করোনায় একদিনে পুরুষের চেয়ে নারীর মৃত্যু দ্বিগুণ নাঈম-মুশফিকের অর্ধশতকে ১৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর‘তিস্তায় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে
নাটোরে উত্তরা গণভবনের প্রকৃতি ফিরে পেল লক্ষ্মীপেচা বর্ণ!
নাটোর প্রতিনিধি
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৮:৩৫:৩০
প্রিন্টঅ-অ+

নাটোরে উত্তরা গণভবনের প্রকৃতি ফিরে পেল লক্ষ্মীপেচা বর্ণ! সপ্তাহ খানেক আগে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া লক্ষ্মীপেঁচা ‘বর্ণ’ চিকিৎসার জন্য খাঁচায় বন্দি হয়ে ছিল। পরে সপ্তাহ শেষে সুস্থ্য হয়ে সে ফিরে গেছে আবার নিজের প্রকৃতির মাঝে! ‘বর্ণ’ সুস্থ হওয়ার পরে উত্তরা গণভবনের পাখি অভয়াশ্রমে তাকে অবমুক্ত করা হয়।


উত্তরা গণভবনের বিশাল প্রকৃতি জুড়ে বাসকারী পাখিদের সুরক্ষা দিতে এবং পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ১৫ জুন উত্তরা গণভবনে পাখি অভয়াশ্রম উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় উদ্বোধনকৃত এই অভয়াশ্রমে পাখিদের উপযোগী অসংখ্য গাছ রোপন, পাখির আবাস তৈরীসহ কার্যকরি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করার ফলে গণভবনে পাখির সংখ্যা বাড়ছে। বিলুপ্ত প্রায় গয়ার বা সাপ, পাখি ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় পাখির কূজনে মুখর এখন গণভবন। বিশেষ করে পাখিদের আবাস হিসেবে গাছে গাছে মাটির কলস স্থাপনের ফলে পেঁচার সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণে। দিনে কলসে বাস করলেও খাবারের সন্ধানে ওরা বের হয় দিনের শেষে। পেঁচাদের উপস্থিতিতে গণভবনের সন্ধ্যা হয়ে ওঠে স্নিগ্ধ।


গত ১৫ সেপ্টেম্বর গণভবনের পাখি ফুল গাছের নীচে উদ্ধার করা হয় অসুস্থ্য এক পেঁচাকে। আঘাতজনিত কারনে পেঁচাটি উড়তে পারছিল না। উত্তরা গণভবনে পাখিদের অবস্থান নিয়ে কাজ করা ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার মূর্তজা সারওয়ার এর কাছে খবর গেলে পাখিটির নতুন আশ্রয় হয় ঐ ফটোগ্রাফারের বাড়ি। পাখি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে পেঁচাটিকে দেওয়া হয় গ্লুকোজ পানি। পরে ভেটেরিনারী সার্জনের পরামর্শে দেওয়া হয় কিছু ভিটামিন আর স্যালাইন। পথ্য হিসেবে দেওয়া হয় মুরগীর মাংসের টুকরো। 


গাছ থেকে পড়ে গিয়ে পা আহত হওয়া অসুস্থ্যতাকে খধসবহবংং বলে জানান পশু হাসপাতালে পেঁচাটাকে চিকিৎসা প্রদানকারী নাটোর সদর উপজেলা ভেটেরিনারী সার্জন ডাঃ এস এম মেহেদী হাসান। সাতদিন ধরে ফটোগ্রাফার মূর্তজা সারওয়ারের সাথে ঐ পেঁচাটির চলে সখ্যতা। পরম মমতায় খাবার দিয়ে, ্ওষুধ সেবন করিয়ে, কোলে তুলে নিয়ে বাড়িতে পাখি পালন করেন তিনি। পেঁচার নাম রাখেন ইধৎহ ড়ষি, তাই বর্ণ!


গণভবনে কর্মরত নুর মহম্মদ জানান, অবমুক্ত করার পরে বর্ণ বেশ কিছুক্ষণ গণভবনের মূল প্রবেশ দ্বারের ভেতরের দুই পাশে থাকা লোহার বেড়ায় বসে ছিলো, এরপর উড়ে যায় নিজের পরিবারের খোঁজে! নিশ্চয়ই পাখিটা ওর স্বজনদের খুঁজে পেয়েছে। 


বর্ণের সাথে সখ্যতায় আবেগ তাড়িত মূর্তজা সারওয়ার বলেন,‘বর্ণের সাথে সাত দিন আর সাত রাতে জমেছে অনেক স্মৃতি। এর আগে কখনো প্রাণিজগতের কাউকে পোষার অভিজ্ঞতা ছিলো না আমার। প্রাণিদের মুক্তভাবে বিচরণ করতে দেখলেই শান্তি লাগে। মুক্তভাবে বিচরণ করতে থাকা প্রাণিদের ছবি তোলা আর পোষ মানিয়ে সাথে রাখা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। এবার প্রথম কোন প্রাণির সাথে বেশ কিছুটা সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা হলো!


নাটোরের জেলা প্রশাসক এবং উত্তরা গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, গণভবনে আহত পাখিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা প্রদান করে সুস্থ্যতার পরে আবারো অবমুক্ত করে দেওয়ার এই কার্যক্রম অসাধারণ। পাখির জন্যে ভালবাসার এই বোধে আমি মুগ্ধ। আমাদের উদ্যোগ এবং সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আশাকরি গণভবন সমৃদ্ধ পাখির অভয়াশ্রমে পরিণত হবে। 


আমার বার্তা/ সি এইচ কে

আরো পড়ুন