শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
`এক হাত দিয়ে ইজিবাইক চালাতে আর পারছি না'
লিখন মুন্সী,মাদারীপুর
০৪ আগস্ট, ২০২২ ১৫:০০:২৭
প্রিন্টঅ-অ+

জীবন যুদ্ধের লড়াইয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে সব বাধা বিপত্তিকে পেছনে ফেলে বেছে নিয়েছেন ইজিবাইক। নিজের প্রচেষ্টা থাকলে সব কিছু করা সম্ভব, এমনটাই প্রমাণ করলেন মাদারীপুরের প্রতিবন্ধী ইজিবাইক চালক আলমগীর বেপারী । প্রতিবন্ধী হয়েও এ মানুষটি জীবনের দুঃখ-কষ্ট পেছনে ফেলে আনন্দ খুঁজে নিয়েছেন কাজের মধ্যে। প্রতিবন্ধী হয়েও কারো কাছে হাত না পেতে দীর্ঘ  ২২বছর ধরে ইজিবাইক চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। এবং শত প্রতিবন্ধকতায়ও থেমে নেই তাঁর জীবন।


মাদারীপুর সদর উপজেলা কুলপদ্দী এলাকার  পঞ্চাশেরর্ধ্ব আলমগীর বেপারী । বয়সের ভারে কমে গেছে তার শক্তি।শেষ বয়সের পরিসীমা শরীরটা নিয়ে স্বাভাবিক গতিতে চলতে ফিরতেও কষ্ট হয়। কিন্তু এ বয়সেও থেমে নেই আলমগীর বেপারী । জীবন সংগ্রামী এ বৃদ্ধ ইজিবাইক  চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।


আলমগীর বেপারীর দুই ছেলে তিন মেয়ে। মেয়ে তিনটির অনেক আগেই বিয়ে হয়েছে। এরমধ্যে ছেলেরা বিয়ে করে যে যার মতো করে চলে। ছেলেরা পরিবার বিচ্ছিন্ন। বাবা-মায়ের কোন খোঁজ নেয় না। তাই বৃদ্ধ স্ত্রী, এক মেয়ে  তিনজনের সংসার চালাতে হয় আলমগীর বেপারীর।


প্রতিবন্ধী ইজিবাইক চালক মো.আলমগীর বেপারী বলেন,১৯৮২ সালে মাদারীপুর পুরান বাজার পরান দাসের তেলে মিলে কাজ করা অবস্থা মেশিনের মধ্যে হাত ঢুকে রয়ে যায় হাতের অংশ। সেখান থেকে বানবতার জীবন নিয়ে হাল ধরে হয় সংসারের চাকা।ইজিবাইক চালানো অনেক ঝুঁকিপূর্ন তা যেনেও  নিজের জীবন বাজি রেখে সংসারের তারনায় এক হাত দিয়ে চালায় ইজিবাইক।এক হাত দিয়ে ইজিবাইক চালানো দেখে মাঝে মাঝে লোকজন আমার ইজিবাইকে উঠে না তখন কন্ঠকে কাজে লাগিয়ে মাইকিং প্রচার প্রচারনা করে থাকি। এখন আর নিজের জীবনের কোন পরোয়া করি না।বাঁচতে হলে কিছু করতে হবে। সংসারের ঘানি টানতে টানতে ক্লান্ত আমি। কিন্তু কিছুই করার নাই। সংসারে তিন-চারটি মুখের খাবার আমাকেই প্রতিদিন জোগাড় করতে হয়। এক হাত দিয়ে ইজিবাইক চালাতে আর পারছি না,


কি আর বলবো  বলতে অনেক কষ্ট হয়।কান্না আসে কিন্তু এ কান্না দেখার কেহ নেই। সরকার ও বিত্তশীল লোকের কাছে দাবি জানাই তারা যেন আমাকে একটি দোকান বা স্থায়ী কাজের ব্যবস্হা করে দেয়।তাহলে আমি এই বৃদ্ধ বয়সে আমার ছেলে সন্তান ও পরিবার পরিজনকে নিয়ে দুমুঠো খেয়ে বাঁচতে পারব।


,‘ভিক্ষা করা মহা পাপ, তাই ভিক্ষা করি না’- বলেন আত্মমর্যাদাবান এই মানুষটি।


প্রতিবন্ধী ইজিবাইক চালকের স্ত্রী জাহেদা বেগম অশ্রু ভেজা কণ্ঠে  বলেন, আমার স্বামীর হাত চলে যাওয়ার কারণে সে  রিকশা ইজিবাইক ভ্যান এগুলো চালিয়ে সংসার চালাচ্ছে। এখন তার বয়স বাড়ার সাথে সাথে সে এখন এগুলো করতে পারতেছেন। আমাদের এখন চলাফেরা করতে খাবার খাইতে অনেক কষ্ট হয়। সরকার যদি আমাদের একটা ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আমরা দুমুঠো খেয়ে বাঁচতে পারব। 


স্থানীয়রা জানান, জীবন বাঁচানোর তাগিদে প্রতিদিন ইজিবাইক  নিয়ে বাইরে যেতে হয় আলমগীর বেপারীর। দ্রুত এক হাত দিয়ে ইজিবাইক চালাতে পারে না বলে তার ইজিবাইকে কেউ উঠতেও চায়না। সব মিলিয়ে দিনে তার মাত্র ৭০০থেকে ৮০০টাকা কামাই করে এর মধ্যে আবার ইজিবাইকের ভাড়া দিতে ৪৫০ টাকা হয়। তার ইজিবাইকের জমার টাকা দিয়ে থাকে ২৫০ টাকা। এ সামান্য উপার্জন দিয়ে কোনরকম সংসার চলে। কোন কোন দিন না খেয়েও থাকতে হয় তাদের। এত কষ্ট তবুও তিনি ভিক্ষা করেন না, কারো কাছে হাত পাতেন না। আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতে চান। সরকার যদি তাকে  স্থায়ী কাজের ব্যবস্হা করে দেয়। তাহলে সে ঠিক জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।


প্রতিবন্ধী ইজিবাইক চালকের প্রতিবেশী আশরাফ আলী  বলেন, সে যেভাবে কাজ করে এটা আসলে একটা জীবন মরণের খেলা। এত কষ্ট করে সংসার চালায় আমারা তাকে মাঝে মাঝে  তাকে সাহায্য সহযোগিতা করি। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ কতক্ষণ তাকে সাহায্য সহযোগিতা করব। সরকার যদি তাকে স্হায়ী কাজের ব্যবস্থা করে দেয়। তাহলে সে ঠিক মত বাঁচতে পারবে। 


আরেক ইজিবাইক চালক কাজী জগলুর বলেন,আমরা দুহাত দিয়ে  ইজিবাইক চালায়  তাতে আমাদের কন্ট্রোল করতে অনেক কষ্ট হয়। আর আলমগীর ভাই কিভাবে এক হাত দিয়ে ইজিবাইক চালায় তা দেখে আমাদের অনেক খারাপ লাগে। সরকার ও বিত্তশালী লোকজনের কাছে আমাদের দাবি  তাকে একটি দোকান দিয়ে দেয়। তাহলে সে সন্তান ও পরিবার নিয়ে খেয়ে বাঁচতে পারবে।


৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজাউল বেপারী  বলেন, আমরা অবশ্য প্রতিবন্ধী ইজিবাইক চালক আলমগীর বেপারীকে আমাদের পৌরসভার থেকে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে। সে  যাতে স্হায়ীভাবে কিছু করে খেতে পারে।


মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাইনউদ্দীন  জানান,প্রতিবন্ধী আলমগীর বেপারী যেভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইজিবাইক চালায়। সেটা বড় কষ্টসাধ্য। আমাদের উপজেলা থেকে তাকে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।


 

আরো পড়ুন