শিরোনাম :

  • রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
ড. মুনীরউদ্দিন আহমদ
সুস্থ জীবনের জন্য চাই সচেতন প্রয়াস
২১ জানুয়ারি, ২০২২ ১৬:০০:২৭
প্রিন্টঅ-অ+

একটু সুস্থ চিন্তা, একটু স্বাস্থ্যসচেতনতা আর একটু মানসিক দৃঢ়তা যদি আমাদের একটি সুস্থ, সুন্দর ও সুখী জীবনযাপনের নিশ্চয়তা বিধান করতে পারে, তাহলে আমরা তা করি না কেন? আসলে আমরা হয়তো ওরকমই। দাঁত থাকতে দাঁতের মূল্য বুঝি না।


গুটিকয়েক নিয়ম মেনে চললে জীবনকে আমরা সত্যি সুস্থ-সুন্দর রাখতে পারি। অস্বাভাবিক জীবনযাপন ও নিয়ম না মানার কারণে আমরা নানা রোগে আক্রান্ত হই। অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে দৌড়াতে হয়, হরেক রকম ওষুধে অভ্যস্ত হয়ে পড়তে হয়। অসুস্থ হলে জীবন স্বাভাবিক নিয়মে চলে না। সর্বক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, জীবনের সুখ-শান্তি নষ্ট হয়, টাকা-পয়সার অপচয় হয়। জীবনে নেমে আসে চরম কষ্ট আর দুর্ভোগ।


ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে আমার এ লেখায় কিছু পরামর্শ উপস্থাপন করব। যুক্তিসংগত ও ভালো মনে হলে আপনারাও তা অভ্যাস করতে পারেন। আমি বিশ্বাস করি, পরামর্শগুলো মেনে চললে অবশ্যই সুফল পাবেন। তবে হতাশার কথা হলো, এ রকম আশার বাণী শোনার পরপরই অনেকেই প্রায়ই ঝটপট নিচের নিয়মগুলো মেনে চলার শপথ নিয়ে ফেলেন। কিন্তু মানসিক দৃঢ়তার অভাবে শেষ পর্যন্ত এসব অভ্যাস অনেকের জন্য আর পালন করা হয়ে ওঠে না।


সুস্থ শরীরের জন্য সুষম খাবারের ভ‚মিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো খাবারই বেশি খাওয়া ঠিক নয়। পরিমিত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। আমরা প্রায় সকলেই ভাজা-পোড়া, তৈলাক্ত খাবার বেশি পছন্দ করি। এসব খাবার খেতে সুস্বাদু হলেও স্বাস্থ্যসম্মত নয় বলে বেশি করে ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়া উচিত।


পরিশ্রমের কারণে আমাদের শরীরে পানিশূন্যতার সৃষ্টি হয়। তাই ভারী কাজের পর পর্যাপ্ত পানি পান করা দরকার। সচরাচর আমাদের দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেসব খাবার পরিবেশিত হয়, তা খেতে সুস্বাদু হলেও মোটেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বিশেষ করে ৪০ থেকে ৪৫ বয়সোর্ধ্ব মানুষের জন্য। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, স্থুলতা ও ক্যান্সার জাতীয় প্রাণঘাতী রোগ থেকে বাঁচতে হলে বিয়েশাদি ও অন্যান্য সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে ঘি, মাখন, ডালডা, চর্বি বা প্রচুর তেলসমৃদ্ধ পোলাও, রোস্ট, বিরিয়ানি, খাসি ও গরুর গোশত খাওয়া কমাতে হবে। জাংকফুড স্বাস্থ্যকর নয়। এসব খাবারে পুষ্টি কম, চর্বি বেশি। এ ছাড়া এসব খাবারে রয়েছে প্রচুর লবণ, চিনি, মেয়নেজ সোডিয়াম গøুটামেট ও ট্রাটাজিন জাতীয় বিতর্কিত খাদ্যোপকরণ। অন্যান্য দরকারি খাবারের মতো জাংকফুডে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ ও আঁশ কম থাকে। ম্যাকডোনাল্ড, বার্গারকিং, কেন্টাকি ফ্রায়েড চিকেন, পিৎজা, হ্যামবার্গার, ফ্রেঞ্চফ্রাই জাংকফুডের কিছু উদাহরণ। জাংকফুডে প্রচুর চিনি ও চর্বি থাকে বলে এমন খাবার খেলে ওজন বেড়ে যাওয়াসহ উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, ক্যান্সারের মতো বহু জটিল রোগের উৎপত্তি হতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাবার সুস্থ জীবনের জন্য অপরিহার্য। খাবার হতে হবে কম ক্যালরিযুক্ত ও বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ।


জৈব খাবার শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী। জৈব খাদ্য বলতে বোঝায়, যা কীটনাশক ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ছাড়াই উৎপাদন করা হয়। আমাদের খাবারে কম করে হলেও অর্ধেক হতে হবে জৈব শাকসবজি ও ফলমূল। বাকি খাদ্যের মধ্যে থাকতে হবে অর্গানিক ভুসিসমৃদ্ধ শস্য, বাদাম, বিভিন্ন ধরনের বিচি ও তেল। সবচেয়ে ভালো তেল হলো তিসি বিচির তেল, জলপাই থেকে প্রাপ্ত তেল, যাকে আমরা অলিভ অয়েল বলে থাকি। সয়াবিন তেলই আমরা বেশি খাই অন্যান্য তেলের দাম বেশি বলে। পরিশোধিত বা পরিমার্জিত শর্করা, চিনি, সাদা রুটি, ময়দা, কেক, কুকিজ, পিৎজা ও পেস্ট্রি বর্জন করে অঙ্কুরিত ও সমপূর্ণ পেস্তা বা আটা খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা একান্ত বাঞ্ছনীয়। খাসি ও গরুর মাংস কম খেতে হবে। প্রোটিন হিসেবে মাছ ও মুরগির মাংস উৎকৃষ্ট। মাংসের চেয়ে শরীরের জন্য মাছ ভালো। ট্রান্সফ্যাট হৃদরোগ সৃষ্টির সহায়ক। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী।


কাঁচা লবণ খাওয়া ছেড়ে দেওয়া দরকার। অর্গানিক ডিম, দুধ ও দই স্বাস্থ্যকর খাবার। ভিটামিন-সি, বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন-ই, সেলেনিয়াম ও পলিফেনোল শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। সব অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের উৎকৃষ্ট উৎস ফলমূল, শাকসবজি ও সবুজ চা। মনে রাখবেন, ওষুধ কম্পানি কর্তৃক উৎপাদিত ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের চেয়ে প্রাকৃতিক ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অনেক বেশি কার্যকর ও সস্তা। কোমল পানীয়তে চিনি ও ক্যাফেইনের উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষকে ওজন অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়াসহ বহু রোগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


পেপসি, কোকাকোলা জাতীয় পানীয় প্রচÐ এসিডিক হয় ফসফরিক এসিডের উপস্থিতির কারণে। শিশুদের জন্য এসব পানীয় ভীষণ ক্ষতিকর; যদিও বাচ্চারা তা খুবই পছন্দ করে। সবার মনে রাখা দরকার, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও শরীরের ওপর অত্যাচারের কারণে আমাদের সবারই কোনো না কোনো সময় অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।


এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ক্ষতি হওয়ার আগেই সাবধান হলে জীবন হবে সুস্থ, সুন্দর ও উপভোগ্য। অজ্ঞতা, অসচেতনতা, অবহেলা ও ছোটখাটো ভুলের জন্য আমরা অনেক সময় বড় ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ি। খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে খুব ভালো করে হাত ধুয়ে নিন। পচা, বাসি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বর্জন করুন। সম্ভব হলে ঘরের বাইরের খাবার না খাওয়াই উত্তম। বাইরে খেতেই যদি হয় তবে খাবারের মান যাচাই করুন। বাজারে প্রচলিত ময়লা টাকা-পয়সায় বিভিন্ন ধরণের জীবাণু থাকে। টাকা-পয়সা লেনদেনের পর হাত ভালো করে না ধুয়ে খাবার মুখে দেবেন না। ঘন ঘন হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। প্রতিবার খাবারের আগে হাত ভালো করে ধুয়ে হাতের পানি পরিষ্কার টিস্যু বা টাওয়েল দিয়ে মুছে ফেলুন।


এ সতর্কতা পালন করলে আপনি বহু মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা পাবেন। সালাদ খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা আবশ্যক। সালাদ অনেক সময় জীবাণু সংক্রমণের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।


যদি কেউ নিয়মিত ব্যায়াম করে, প্রয়োজনীয় ঘুমসহ পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেয় ও বদ-অভ্যাস ত্যাগ করে, তবে তার হৃদরোগের ঝুঁঁকি ৮০ শতাংশ, ডায়াবেটিস ৯০ শতাংশ ও ক্যান্সারের ঝুঁঁকি ৫০ শতাংশ কমে যায়। সুস্থ জীবনের জন্য ব্যায়ামের বিকল্প নেই। অলস জীবন মানেই অসংখ্য রোগের আশঙ্কা। প্রতিদিন দুই মাইল বা তিন কিলোমিটার হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রথমদিকে অল্প দূরত্ব টার্গেট করে হাঁটা শুরু করা দরকার। আস্তে আস্তে দূরত্ব ও হাঁটার গতি এমন পর্যায়ে বাড়ানো উচিত, যাতে হৃৎস্পন্দন বাড়ে। হাঁটার জন্য নরম ও হালকা-পাতলা জুতা ব্যবহার করলে হাঁটায় গতি ও আরাম পাওয়া যায়। বাইরে খোলামেলা জায়গায় দূষণমুক্ত বাতাস ও সূর্যের আলোয় হাঁটার উপকারিতা ও আনন্দই আলাদা।


এতে সারা দিনের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি, অবসাদ ও দুশ্চিন্তা দূর হবে। ব্যায়াম করলে রাতের ঘুম ভালো হয়। হাঁটা ছাড়াও সাইকেল চালানো, সাঁতার কাঁটা অথবা জিমনেসিয়ামে ব্যায়াম করা যেতে পারে। প্রতিদিন ৩০ মিনিট দ্রæতবেগে হাঁটলে আপনার শরীরের ওজন ঠিক থাকবে, রক্তচাপ, সুগার লেভেল কমে আসবে, রক্ত সঞ্চালন বাড়ার কারণে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সতেজ থাকবে, মেটাবলিক প্রক্রিয়া ভালো কাজ করবে। প্রতিদিন হাঁটতে না পারলে সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন হাঁটা চাই। আলস্য, কর্মব্যস্ততা বা অন্য কোনো অজুহাতে আপনি যদি হাঁটার অভ্যাস ত্যাগ করেন বা অনিয়মিত হয়ে পড়েন, তবে আপনি আপনার লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে পারবেন না।


২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটার জন্যÑ এটা খুব বেশি সময় নয়। তবে কেউ রোজা রাখলে এবং হাঁটা কষ্টকর মনে করলে না হাঁটাই ভালো। জোর করে হাঁটতে গেলে শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যেতে পারে।


রোগাক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সঠিক ওষুধ সঠিক মাত্রায় সঠিক সময়ে গ্রহণ করুন। সব রোগের জন্য ওষুধের প্রয়োজন হয় না। আমরা বিনা প্রয়োজনে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করে শরীরের ক্ষতি সাধন করি। তবে তার অর্থ এই নয় যে প্রয়োজনে আমরা ওষুধ সেবন করব না। বহু ক্ষেত্রে মানুষের জীবনে এমন সব রোগের উৎপত্তি হয়, যা নিয়ে হেলাফেলা করলে জীবন বিপন্ন হতে পারে। আপনি যদি ইতোমধ্যে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েন, তবে দুশ্চিন্তা না করে জীবনকে সহজভাবে গ্রহণ করুন ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হোন। জটিল রোগে আক্রান্ত বহু রোগী নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন ও লাইফস্টাইল পরিবর্তন করে খুব সুস্থ থাকেন। আপনি যদি শরীর ও মনের প্রকৃত চাহিদা ও সমস্যা বোঝেন, তাহলে শরীর ও মন আপনাকে সুস্থ-সুন্দর জীবনের প্রতিশ্রæতি দেবে।


১৮৭৯ সালে বিদ্যুৎ আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত মানুষ গড়ে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা ঘুমাত। বিদ্যুৎ আবিষ্কারের কারণে মানুষের কাজ, কর্মচাঞ্চল্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, ঘোরাফেরা, আনন্দ-উল্লাস তথা মানসিক চাপ বহুগুণ বেড়ে গেল। ফলে ঘুম কমে গেল। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মানবদেহে শক্তি উৎপাদন, গøুকোজ মেটাবলিজম কমে যায় ও বয়োবৃদ্ধি বা এইজিং প্রক্রিয়া বেড়ে যায়। শরীরে শক্তি সংরক্ষণ, কোষপুঞ্জ তৈরি ও মেরামত, শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন, মস্তিষ্ককে কোষের ধ্বংসাবশেষ থেকে পরিষ্কার রাখার জন্য পর্যাপ্ত ও নিরুপদ্রব ঘুমের একান্ত প্রয়োজন। শরীর তার ক্ষয়পূরণ ও মেরামত করে ঘুমের ডেল্টা পর্যায়ে, যা সাধারণত সকালের গভীর ঘুমের সময় সংঘটিত হয়ে থাকে।


ভরা পেটে ঘুমাতে গেলে ভালো ঘুম হয় না। আর ঘুমানোর কাছাকাছি সময়ে রাতের খাবার খেলে সর্বোচ্চ পরিমাণে গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। রাতে বেশি পানি পান করলে বারবার টয়লেটে যেতে হয় বলে ঘুমের বিঘœ ঘটে। এটাও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।


পানি মানে জীবন। আমাদের শরীরের ৭২ শতাংশ ওজন আসে পানি থেকে। এমনকি হাড়ের এক-চতুর্থাংশ, পেশির তিন-চতুর্থাংশ ও মস্তিষ্কের ৮৫ শতাংশ হলো পানি। আমাদের রক্ত ও ফুসফুসের ৮০ শতাংশ পানি দিয়ে গঠিত। জীবনের জন্য অক্সিজেনের পরই পানির স্থান। অনেকেই মনে করেন, কফি, চা ও সোডা থেকে তারা পর্যাপ্ত পানি আহরণ করেন। চা ও কফিতে রয়েছে ক্যাফেইন, যা সাধারণত ডাইইউরেটিক হিসেবে কাজ করে। ডাইইউরেটিকের কাজ হলো শরীর থেকে পানি বের করে দেওয়া। শরীরের ওজনের সঙ্গে পানি পানের পরিমাণের একটি সুসম্পর্ক রয়েছে। কারো শরীরের ওজন যদি ১২০ পাউন্ড হয়, তার জন্য প্রতিদিন ৬০ আউন্স পানি দরকার হবে, যা সাধারণত আট কাপ পানির সমান। পরীক্ষায় দেখা গেছে, পানিস্বল্পতার কারণে শরীরের শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা বহুলাংশে কমে যায়। বেশি পানি পান করলে শরীর থেকে অতি সহজে বর্জ্য পরিষ্কার হয়ে যায় এবং কোষে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি ঢুকতে পারে। প্রতিদিন আট থেকে ১০ গøাস পানি পান করলে ৮০ শতাংশ ভুক্তভোগীর পিঠ ও গিঁটের ব্যথা সেরে যায়। শরীরে ২ শতাংশ পানিস্বল্পতা দেখা দিলে সাময়িকভাবে স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে পারে। ফলে সাধারণ অঙ্কসহ কম্পিউটার মনিটরে মনঃসংযোগে বিঘœ ঘটতে পারে। প্রতিদিন পাঁচ গøাস পানি পান করলে মলাশয়ের ক্যান্সার-ঝুঁঁকি ৪৫ শতাংশ, স্তন ক্যান্সারের ঝুঁঁকি ৭৯ শতাংশ ও বøাডার ক্যান্সারের ঝুঁঁকি ৫০ শতাংশ কমে যায়। সুস্থ থাকার জন্য শরীরে পর্যাপ্ত পানির উপস্থিতি অপরিহার্য। তাই আমাদের সবার প্রচুর পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের মতো অনুন্নত দেশে প্রতিবছর লাখ লাখ লোক পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয় দূষিত পানি ব্যবহার ও পান করার কারণে।


রোদ বা সূর্যালোক উপভোগ করুন। কারণ সূর্যালোক সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা ছাড়া শরীরে ভিটামিন-ডি তৈরি হয় না। আর ভিটামিন-ডি’র ঘাটতি হলে শরীরের ক্যালসিয়াম বিশোষণে বিঘœ ঘটে। ক্যালসিয়াম শরীরের জন্য খুব প্রয়োজনীয় একটি উপকরণ। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট সূর্যস্নান করা দরকার। সূর্যালোক উপভোগ করার ভালো সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। আপনার দাম্পত্যজীবন সুন্দর ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলুন। দাম্পত্যজীবনের অশান্তি মানুষের শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্যে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ছোটখাটো ভুলভ্রান্তি ও খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে অহরহ দাম্পত্য কলহ মানুষের সুখ-শান্তি কেড়ে নেয়। যে সুখী নয়, সে সুস্থও নয়।


সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস রাখুন। আমাদের শরীর শুধু রক্ত-মাংসে গড়া কোনো বস্তু নয়। আমাদের শরীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মন বা আত্মা। আবেগ-অনুভ‚তি আমাদের শরীরের ওপর ভীষণ প্রভাব ফেলে। বস্তুজগতে কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মাৎসর্য, অসূয়া বা ঈর্ষা ও প্রতিহিংসা আমাদের দুঃখ, কষ্ট, অশান্তি, অসুস্থতা ও ধ্বংসের মূল কারণ। সৃষ্টিকর্তা সবাইকে সুস্থ জীবন দান করুনÑ এই কামনা করি।


লেখক : অধ্যাপক, ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরো পড়ুন