শিরোনাম :

  • রাজধানীর উত্তরখানে আগুনে একই পরিবারের ৮ জন দগ্ধ ভারতে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় তিতলিবাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনরায়কে ঘিরে ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আজ
পকেট ছুরি দিয়ে নিজের পা কাটলেন কৃষক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
২১ মে, ২০১৯ ১৩:৫২:২৩
প্রিন্টঅ-অ+


কুর্ট কাসেরের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না। কোনো বিকল্প সিদ্ধান্ত নেয়ারও সময় ছিল না। ৬৩ বছর বয়সী এই কৃষক মেশিন দিয়ে তার খামারে শস্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ করছিলেন। এক সময় তিনি মেশিনের ওপরের দিকের অংশে উঠে যান। সেখানে শস্য প্রক্রিয়াকরণ মেশিনের একটি ব্লেড অনবরত ঘুরছিল। হঠাৎ সেই মেশিনে তার বাম পা আটকে যায়।

মেশিনের ধারালো ব্লেডের সামনে তিনি হামাগুড়ি দিয়ে পা বের করে আনার চেষ্টা করেন। মেশিনের ব্লেড ঘুরছে আর কাসের প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন ব্লেড থেকে পায়ের দূরত্ব বজায় রাখার জন্য। মেশিন কখন বন্ধ হয়ে যাবে অবাক বিস্ময়ে সেই চিন্তা করতে থাকেন তিনি। কিন্তু মেশিন বন্ধ হয়নি এবং তার বিপদের কথাও তখন কারো কানে পৌঁছায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নেব্রাস্কা এলাকার একটি খামারে গত ১৯ এপ্রিল এ ঘটনা ঘটে। তবে ধারালো সেই ব্লেড থেকে নিজের পা রক্ষা করতে পারলেও মর্মান্তিক পরিণতি নিজ হাতে বরণ করেন কাসের। পকেটে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে নিজ হাতেই তার বাম পা কেটে মেশিন থেকে নিজেকে রক্ষা করেন।

ভয়াবহ সেই দিনের কথা স্মরণ করে সোমবার নেব্রাস্কার এই কৃষক দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টকে বেলন, ‘আমি সেই সময় নিজেকে বলা কথা এখনও স্মরণ করতে পারি, এটা ভালো কিছু নয়। এটা খারাপ।’

‘আমি সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে পড়ে যাই এবং আটকে পড়া পা বের করে আনার জন্য চেষ্টা করতে থাকি। কিন্তু কোনোভাবেই পা বের করে আনা যাচ্ছিল না।’ তিনি জানতেন নির্জন এই খামারে কেউ তাকে সহায়তার জন্য এগিয়ে আসবেন না।

‘আমি জানতাম না কারো দৃষ্টিগোচর হতে কত সময় ধরে অপেক্ষা করতে হবে। আমি জানতাম না, কতক্ষণ আমার চেতনা থাকবে।’

খামারে তিনি একাই ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা এই লড়াইয়ের মাঝে কাসের মোবাইল ফোনের জন্য প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে দেন, কিন্ত পকেটে মোবাইল ছিল না। সেদিনের কথা চিন্তা করে তিনি বলেন, তিনি পকেটছুরি বের করেন এবং এই দুর্ঘটনার অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেন। মেশিনে আকটাবস্থা থেকে নিজেকে উদ্ধার করার জন্য দীর্ঘ চেষ্টার পর সেই পকেটছুরি দিয়ে হাঁটুর নিচের অংশ কেটে ফেলতে সক্ষম হন।

নেব্রাস্কার এই কৃষক বলেন, এরপরই কেবল আমি সেখান থেকে বেঁচে ফিরি। কাসের সেখান থেকে মুক্ত হওয়ার পর হামাগুঁড়ি দিয়ে খামারের অফিস কক্ষে যান। সেখানে তার ছেলেকে ডাকেন তিনি। তার ছেলের ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযানের প্রশিক্ষণ নেয়া ছিল।

পরে পাশের একটি হাসপাতোলে নেয়া হয় কাসেরকে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর হেলিকপ্টারে করে নেব্রাস্কার লিঙ্কন এলাকার ব্রায়ান ট্রমা সেন্টারে নেয়া হয় তাকে। এই হাসপাতালেই কাসেরের এক মেয়ে ট্রমা নার্স হিসেবে কর্মরত।

ব্রায়ান ট্রমা সেন্টারের পরিচালক ও চিকিৎসক স্ট্যানলি ওকোসান বলেন, কৃষক কাসের পায়ে সেই সময় গুরুতর জখম এবং ময়লা ছিল। যে কারণে মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা তাকে দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার পর অপারেশন রুমে নিয়ে যান।

স্ট্যানলি বলেন, যদিও কাসের তার পা মারাত্মকভাবে কেটে ফেলেছিলেন। তারপরও চিকিৎসকরা কাসেরের বাম পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে গোড়ালির আগের মাঝের অংশে যথাযথভাবে অপারেশন করেন। গত ১৫ বছরের ধরে শল্য চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন স্ট্যানলি; কিন্তু কখনই তার এ ধরনের অপারেশনের অভিজ্ঞতা হয়নি।

কাসের বলেন, ‘তার এই নির্মম গল্পের আশার বাণী হচ্ছে, কোনো না কোনোভাবে একজন হলেও এই গল্প থেকে সাহস পাবেন।’

‘সময় নিন এবং ভাবুন; তাড়াহুড়ো করবেন না।’ মার্কিন এই কৃষক বলেন, ‘তিনি সামান্য ভেঙে পড়েছেন। কিন্তু তিনি আনন্দিত যে এখনো বেঁচে আছেন এবং আবারও হাঁটতে পারবেন।’

 



আমার বার্তা/২১ মে ২০১৯/রিফাত


আরো পড়ুন