শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
লন্ডন থেকে ইউক্রেনের অস্ত্রোপচারে অংশ নেন যে চিকিৎসক
২৫ এপ্রিল, ২০২২ ১১:৫০:১০
প্রিন্টঅ-অ+

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে বিস্ফোরণে আহত এক ব্যক্তির অস্ত্রোপচার চলছে। ইউক্রেনীয় চিকিৎসক ওলেকসান্দার অস্ত্রোপচার করছেন। আর লন্ডন থেকে তাঁকে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক ডেভিড নট। তিনি একজন ট্রমা সার্জন। আহত ওই ব্যক্তির পা যাতে কেটে বাদ দিতে না হয়, সে জন্যই খুঁটিনাটি নানা পরামর্শ দিচ্ছেন নট।


বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ওলেকসান্দার এর আগে কখনোই এমন জটিল অস্ত্রোপচার করেননি। তবে এক সপ্তাহ আগে ইউক্রেনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসক নটকে এ রকম একটি অস্ত্রোপচার করতে দেখেছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা আর ভিডিও কলে নটের নির্দেশনা এটুকু সম্বল করেই রোগীকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।


অস্ত্রোপচার চলাকালে চিকিৎসক ওলেকসান্দার তাঁর স্মার্টফোনে আহত ওই ব্যক্তির ছবি তোলেন। এরপর সেটি পাঠিয়ে দেন চিকিৎসক নটের কাছে। ছবি দেখে নট আরও কিছু পরামর্শ দেন।


নটের নির্দেশনা অনুসারে ধাপে ধাপে অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক ওলেকসান্দার। তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারের সময় ভয় পাচ্ছিলেন ও ধীরে ধীরে পুরো কাজটি করছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।


লন্ডনের সেন্ট ম্যারিস হাসপাতালের চিকিৎসক নট এর আগে আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুদ্ধাহত ইউক্রেনীয়দের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসক নট ইউক্রেনের উত্তর, পূর্ব, দক্ষিণ পূর্ব ও পশ্চিমের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়েছেন। কিছুদিন আগে তিনি লন্ডনে ফিরে গেছেন।


ইউক্রেন থেকে ফেরার পর প্রথম দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চিকিৎসক নট বলেন, শেলের আঘাত ভয়ানক। এটি শরীরের নরম কোষ, হাড়, বাহু , হাত ও পায়ের পাতায় ভয়ংকরভাবে আঘাত করে। এ ধরনের বিস্ফোরণের আঘাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকে। এমনকি অঙ্গহানিও ঘটতে পারে। বারোট্রমা, থার্মোবারিক বা ভ্যাকুয়াম বোমা জাতীয় অস্ত্রের আঘাতে মস্তিষ্ক, ফুসফুসে রক্তপাত হতে পারে। কানের পর্দা ও অন্ত্রে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।


ভিডিও কলে অস্ত্রোপচার সহায়তা করার অভিজ্ঞতা অবশ্য চিকিৎসক নটের কাছে নতুন নয়। সিরিয়ায় যুদ্ধ চলাকালে চিকিৎসক নট লন্ডনে তাঁর কার্যালয় থেকে স্কাইপের মাধ্যমে আলেপ্পোতে অস্ত্রোপচারে সহায়তা করেন। নট বলেন, ইউক্রেনে ১১৫টি হাসপাতালে রাশিয়া শেল ছুড়েছে। যেকোনো যুদ্ধেই হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ওপর হামলা হয়। তিনি বলেন, এটিও যুদ্ধের একধরনের কৌশল।


ইউক্রেনে থাকাকালে নট যুদ্ধাহত ব্যক্তিদের অস্ত্রোপচারের সময় অনেক বেশি চিকিৎসককে অস্ত্রোপচার কক্ষে রাখতেন। চামড়ার গ্রাফটিং, হাড়ের ও ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চিকিৎসা কীভাবে করা হয়, তা হাতেকলমে চিকিৎসকদের দেখাতেন।


ইউক্রেন ছেড়ে চলে যাওয়ার পরও ডেভিড নট ফাউন্ডেশন ও মানবিক ত্রাণবিষয়ক দল ইউওএসএসএম ইন্টারন্যাশনাল যুদ্ধাহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় কাজ করে যাচ্ছে। জটিল অস্ত্রোপচারগুলোতে নট দূর থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে নির্দেশনা দেন।


চিকিৎসক নট বলেন, এ ধরনের অস্ত্রোপচারগুলো খুবই জটিল। অস্ত্রোপচারে কোনো ভুল হলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও অনলাইনে অস্ত্রোপচারে সফলতা আসছে।


ইউক্রেনের চিকিৎসক ওলেকসান্দার বলেন, ‘অভিজ্ঞ একজন চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রোপচার করতে পারাটা যথেষ্ট সৌভাগ্যের। যখন চিকিৎসক বলেন সব ঠিক হয়ে যাবে, তখন এটা সত্যিই আমাদের স্বস্তি দেয়। চিকিৎসক নটের কাছে তাঁরা শিখেছেন কীভাবে রোগীদের প্রাণ বাঁচাতে হয়।’


ওলেকসান্দার আরও বলেন, ইউক্রেনে এ ধরনের যুদ্ধাহত ব্যক্তিদের কীভাবে অস্ত্রোপচার করা হবে, তা শেখাটা খুব প্রয়োজন। কারণ, ইউক্রেনে শেলের আঘাত ও আহত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।


চিকিৎসক নট বলেন, দাতব্য সংস্থা ডেভিড নট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন ¯øাইড ও ভিডিওতে দেখিয়েছেন কীভাবে যুদ্ধাহত ইউক্রেনীয়দের চিকিৎসা দিতে হবে। নট বলেন, তিনি চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচারের খুঁটিনাটি বিষয়ে শেখান। সেই চিকিৎসকেরা আবার অন্যদের প্রশিক্ষণ দেন।


এ মাসের শুরুতে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পূর্ব দনবাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি আসতে পারে। সেখানে হামলায় কয়েক হাজার ট্যাংক, সশস্ত্র গাড়ি, উড়োজাহাজ ও কামান ব্যবহার করা হচ্ছে। চিকিৎসক নট মনে করছেন মারিউপোল শহরের পরিস্থিতি আলেপ্পোর মতো হতে পারে। সিরিয়ার যুদ্ধের মতো কৌশল প্রয়োগ করা হতে পারে মারিউপোলে।


ওলেকসান্দার বলেন, এখন ইউক্রেনে তিনি যাদের চিকিৎসা করছেন এ ধরনের আহত এর আগে দেখেননি। তবে পরিস্থিতি যতই প্রতিক‚ল হোক না কেন, ওলেকসান্দারের মতো ইউক্রেনীয় চিকিৎসকেরা দমে যাননি। তাঁরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান।

আরো পড়ুন