শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
তালেবানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি
৩০ এপ্রিল, ২০২২ ১১:৩৩:২৭
প্রিন্টঅ-অ+

আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেক সাবেক সেনা ও রাজনীতিক। ঈদ উৎসবের পরই অভিযান শুরু হতে পারে। আফগান সেনাবাহিনীর সাবেক জেনারেল সামি সাদাত বিবিসিকে এ কথা বলেছেন।


লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদাত বলেন, তালেবানের আট মাসের শাসনে বহু আফগান মনে করছেন সামরিক পদক্ষেপই সমাধানের একমাত্র পথ। তিনি বলেন, ঈদ উৎসবের পর আগামী মাসে সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। তখন আফগানিস্তানে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।


গত আগস্টে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী ২০ বছরের সামরিক অভিযানের ইতি টেনে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার মাত্র ১০ দিনের মধ্যে কট্টর ইসলামপন্থীরা গোটা দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়।


সাবেক জেনারেল সাদাত বলেন, আফগানিস্তানকে তালেবানের হাত থেকে মুক্ত এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পুনর্বহালে তিনি ও অন্যরা তাঁদের সামর্থ্যের সবকিছু করবেন। নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে না দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যতক্ষণ না আমাদের স্বাধীনতা পাই, আমাদের মত প্রকাশ করতে না পারি; আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।’


নারী অধিকারের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপসহ তালেবান ক্রমশ কীভাবে কঠোর শাসন চাপিয়ে দিচ্ছে, তা তুলে ধরেন সাবেক এই জেনারেল। তিনি বলেন, তাদের কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা থামানো এবং নতুন ইতিহাস সূচনার এখনই সময়।


সাবেক জেনারেল সাদাত বলেন, তালেবান তাদের কর্মকাÐে পরিবর্তন আনে কি না, এ জন্য শুরুতে তিনি এক বছর সময় দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো আপনি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে দেখবেন, জনগণকে নির্যাতন, হত্যা, গুমের মতো নতুন কিছু ঘটনা তালেবান ঘটাচ্ছে।’


এসব বিষয়ে তিনি কী করতে যাচ্ছেন, এ নিয়ে প্রতিদিন আফগানদের কাছ থেকে শত শত বার্তা পাচ্ছেন বলেও দাবি করেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।


কিন্তু ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে বিধ্বস্ত একটি দেশে অনেক আফগান যুদ্ধে ক্লান্ত। তারা দেশ ছাড়তে মরিয়া। চরম অর্থনৈতিক সংকটে বেঁচে থাকতে তারা হিমশিম খাচ্ছে। যুদ্ধে ক্লান্ত দেশটির লাখো মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।


তালেবানের শেষ মাসের আক্রমণের সময় হেলমান্দ প্রদেশে আফগান বাহিনীর নেতৃত্ব দেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদাত। তাঁর বিরুদ্ধে বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।


গত বছরের আগস্টে সাদাতকে আফগান স্পেশাল ফোর্সের প্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়। যেদিন তালেবান কাবুল দখল করে নেয় এবং তাঁর কমান্ডার-ইন-চিফ প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, সেদিন কাবুলে পৌঁছান তিনি।

আরো পড়ুন