শিরোনাম :

  • রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
মোবাইল গেমিং অ্যাপের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা
খাটের তলা থেকেই উদ্ধার সতের কোটি টাকা!
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৮:০৯:০৩
প্রিন্টঅ-অ+

অনলাইন ডেস্ক : মোবাইলে গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার তদন্ত করতে গিয়ে অভিযুক্তের ঘর থেকেই মিললো প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকা। ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার গার্ডেনরিচ এলাকায়।


দেশটির এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এর রাতভর তল্লাশিতে অভিযুক্ত ওই ব্যবসায়িকে আটক করেন দেশটির কেন্দ্রীয় সংস্থার বাহিনী। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত খবর অনুসারে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে গার্ডেনরিচ-সহ কলকাতার ছ’টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে ইডি। টানা প্রায় সাড়ে ১৪ ঘণ্টা অভিযান শেষে শুধু গার্ডেনরিচে আমিরের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে নগদে ১৭ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা। এ ছাড়া, তাঁর নিউটাউনের অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে আরও কয়েক কোটি নগদ এবং মিলেছে আরো বিপুল সম্পত্তির এমনটাই জানিয়েছে ইডি সূত্র।


একটি মোবাইল গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের তদন্তে নেমে গার্ডেনরিচের শাহি আস্তাবল গলি, পার্ক স্ট্রিট, মোমিনপুরের বন্দর এলাকা, নিউটাউন-সহ শহরের ছ’টি জায়গায় অভিযান শুরু করেছিল ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থাটির আধিকারিকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন সিআরপিএফ জওয়ানেরা। অভিযানের সময় সিআরপিএফ জওয়ানদের আমিরের বাড়ির বাইরে মোতায়েন রাখা হয়। ভিতরে চলতে থাকে চিরুনি তল্লাশি।


মুলত: শনিবার সাতসকালেই গার্ডেনরিচের শাহি আস্তাবল গলিতে আমিরের দোতলা বাড়িতে পৌঁছে যান ইডির আধিকারিকেরা। সাদামাটা ওই দোতলা বাড়িতে তল্লাশি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেরিয়ে আসে অসংখ্য প্লাস্টিকের থলেতে মোড়া নোটের বান্ডিলের পর বান্ডিল। সূত্রের খবর, দোতলায় একটি ঘরের খাটের তলা থেকে অসংখ্য বান্ডিলে মোড়া ৫০০ টাকার ব্যাঙ্কনোট বার হতে থাকে। অনেকগুলি প্লাস্টিকের থলিতে সেগুলি মুড়ে খাটের তলায় রাখা ছিল। ওই থলিগুলিতে ২,০০০ টাকার বেশ কিছু বান্ডিলও রাখা ছিল। থরে থরে সাজানো টাকার বান্ডিল গুনতে একটা সময়ে আসেন স্টেট ব্যাঙ্কের কর্মীরা। আনা হয় নোট গোনার আটটি যন্ত্রও। এক সময় দেখা যায় যে আমিরের বাড়ির দরজার বাইরে এসে দাঁড়িয়েছে ১০টি স্টিলের ট্রাঙ্ক ভরা ট্রাক। রাতের দিকে আরও কয়েকটি স্টিলের ট্রাঙ্ক আনা হয় আমিরের বাড়িতে। গার্ডেনরিচে আমিরের বাড়ি ছাড়াও, তাঁর নিউটাউনের অফিসেও শনিবার হানা দিয়েছিল ইডি। সেখান থেকেও বেশ কয়েক কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। এমনটাই জানা গিয়েছে ইডি সূত্রে।


শনিবার এই তল্লাশি অভিযানের মাঝেই একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে ইডি। তাতে ইডি জানায়, গার্ডেনরিচের ব্যবসায়ী নিসার আহমেদ খানের ছেলে আমিরের বিরুদ্ধে পার্ক স্ট্রিট থানায় একটি প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করা হয় চলতি বছরের গোড়ায়। সেই পুরনো মামলার তদন্তে নেমে শনিবার সকালে আমিরের বাড়ি ও অফিসে অভিযান শুরু করেছিল তারা।


একটি মোবাইল গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে বহু গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে আমির-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পার্ক স্ট্রিট থানায় একটি এফআইআর করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ইডি। ওই এফআইআরে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪৬৮, ৪৭১, এবং ৩৪ ধারায় প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ-সহ একাধিক অভিযোগ যোগ করা হয়েছে।


ইডির দাবি, ‘ই-নাগেটস’ নামে একটি মোবাইল গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা হাতিয়ে নিতেন আমিররা। গ্রাহকদের টাকা হাতানোর জন্যই ওই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছিল। ওই অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকেরা গোড়ায় মোটা অঙ্কের কমিশন পেতেন। অ্যাপটির মাধ্যমে নিজেদের ওয়ালেটে সেই টাকা পেয়ে যেতেন গ্রাহকেরা। যা থেকে অনায়াসে সেই টাকাও তুলতে পারতেন তাঁরা। এ ভাবেই গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জনের পর আমিররা তার ফায়দা তুলতেন বলে ইডির দাবি। আরও মোটা কমিশনের লোভে গ্রাহকেরা বড়সড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করলে আচমকাই টাকা তোলার সুযোগ বন্ধ হয়ে যেত বলে অভিযোগ। অ্যাপের ‘সিস্টেম আপগ্রেড’-সহ নানা অজুহাত দেখিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হত বলে দাবি। ফলে ওই অ্যাপের সার্ভার থেকে সমস্ত প্রোফাইল সংক্রান্ত তথ্যও মুছে যেত। ইডির আরও দাবি, সেই সময়েই গ্রাহকেরা টের পেতেন যে, তাঁরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। শনিবার তল্লাশিতে আমিরের বাড়ি থেকে যে নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে তাতে একাধিক ভুয়ো অ্যাকাউন্টের খোঁজও পাওয়া গিয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ইডি।

আরো পড়ুন