শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
হযরত বেলালের নবীপ্রেমে
সাখাওয়াত রাহাত
২১ অক্টোবর, ২০২১ ২১:২৪:৫৯
প্রিন্টঅ-অ+

হজরত বেলাল রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু। রাজকন্যার গর্ভজাত সন্তান হয়েও জন্মসূত্রে ছিলেন ক্রীতদাস। ভাগ্যবান সাহাবি যারা প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণ করেন; তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম। ইসলাম গ্রহণের অপরাধে (!) তাকে সহ্য করতে হয়েছে অমানবিক নির্যাতন। তবুও ইসলামের ওপর ছিলেন অবিচল। তার মনিব নরাধম উমাইয়া ইবনে খলফ তাকে খালি গায়ে মরুভূমির উত্তপ্ত বালিতে শুইয়ে যখন বুকের ওপর ভারী পাথরের চাপা দিত, তখন তার মুখ থেকে শুধু একটা শব্দই বের হতÑ ‘আহাদ’ (আল্লাহ তায়ালা এক-অদ্বিতীয়)।


তার এই ত্যাগের প্রতিদানও তিনি পেয়েছেন যথার্থভাবে। আবু বকর সিদ্দিক রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু কর্তৃক দাসত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার পর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বরকতময় সাহচর্যেই বেশিরভাগ সময় কাটতো তার। ছিলেন তাঁর একান্তসঙ্গী। হয়েছেন ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন। নিয়োগ পেয়েছেন মদিনা তথা ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের প্রথম কোষাধ্যক্ষ হিসেবে। নবীজীর সব সামরিক অভিযানে তিনি তাঁকে সঙ্গ দিয়েছেন। নবীজীর বর্শা বহনকারী হওয়ার সম্মাননা অর্জন করেছেন। মেরাজের রাতে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতে তার খড়মের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। তার প্রতি ইঙ্গিত করে অবতীর্ণ হয়েছে পবিত্র কুরআনের একাধিক আয়াত। বেলাল রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু প্রাণের চেয়েও বেশি ভালবাসতেন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। নবীজীর তিরোধানের পর তাই মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েন তিনি। প্রিয়তমকে দেখা ছাড়া মদিনায় অবস্থান করা তার জন্য ভীষণ কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। ফলে সন্তাপী মনে তিনি পাড়ি জমান শামে।


নবীপ্রেমে ব্যাকুল বেলাল একরাতে স্বপ্নে দেখলেনÑ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলছেন, ‘বেলাল! কতদিন হয়ে গেল তুমি আমার সঙ্গে দেখা করো না!’ হন্তদন্ত হয়ে তিনি ঘুম থেকে উঠলেন। এরপরই সওয়ারীর পিঠে আরোহন করে মদিনা অভিমুখে রওনা দিলেন। নবীজীর কবরের পাশে এসে তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। বুকের জমানো ব্যথা উপশম করতে মাথাকে কবরের উপর মারতে লাগলেন। তাকে রওজায়ে আতহারের পাশে দেখতে পেয়ে নবীজীর দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহুমা ছুটে এলেন। তারা তার সাথে কোলাকুলি করলেন। তাকে একটিবার আজান দেওয়ার অনুরোধ করলেন। তিনি তাদের অনুরোধে সাড়া দিলেন। বিদ্যুৎবেগে এ খবর ছড়িয়ে পড়লো শহরের অলিগলিতে। তার সুললিত কণ্ঠে আবারও আজান শোনার আশায় মদিনাবাসীর তনুমনে বয়ে গেল আনন্দের হিল্লোল। নবীজীর যুগে যেখানে দাঁড়িয়ে তিনি আজান দিতেন, সেখানে দাঁড়িয়েই তিনি আজান শুরু করলেন। তার কণ্ঠে ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি শুরু হতেই পুরো মদিনা যেন কেঁপে উঠলো। নবীযুগের চিরচেনা সেই আজানের সুর কানে বাজতেই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লো। হাবিবের স্মরণে ঢুকরে কাঁদতে লাগলো।


তিনি আজান শুরু করলেও শেষ করতে পারলেন না। ‘আশাহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’ পর্যন্ত পৌঁছেই কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে পড়ে গেলেন। সংজ্ঞা হারালেন। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলো তার মানসপটে জীবন্ত হয়ে উঠছিল। কাফেরদের কর্তৃক নবীজীর ওপর হওয়া বিভিন্ন অত্যাচার সহ্য করার করুণ চিত্র তার চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠছিল। সাইয়্যেদুনা বেলাল রাদিআল্লাহু আনহু যখন অন্তিম শয়ানে, তখন তার স্ত্রী তাকে হারানোর কথা চিন্তা করে চোখের জলে বলতে লাগলেনÑ কী যাতনার কথা! কী দুঃখময় পরিস্থিতি! তাকে অবাক করে দিয়ে প্রতিউত্তরে বেলাল রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু বললেনÑ কী আনন্দের কথা! কী সুখময় পরিস্থিতি! আগামীকাল আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করব ইনশাআল্লাহ।


নবীজীর প্রতি তাঁর ভালোবাসার সাগর থেকে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দুয়েক ফোঁটা দান করুন। রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু ওয়ারাদু আনহু।


লেখক : আলেম গবেষক


 

আরো পড়ুন