শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
প্রেমের টানে নবীর দেশে
আমিনুল ইসলাম কাসেমী
২১ অক্টোবর, ২০২১ ২১:২৬:৪৪
প্রিন্টঅ-অ+

করোনার থাবায় বিপর্যস্ত বিশ্ব। স্তবির হয়ে যায় সব কিছু।  এমনকি পবিত্র খানায়ে কাবার তাওয়াফ পর্যন্ত সাময়িক বন্ধ হয়। পরে খোলা হয়েছিল সীমিত আকারে। হজ-ওমরার কার্যক্রম বিদেশীদের জন্য বন্ধ ছিল। টানা দু- বছর কেউ হজে যেতে পারেনি। তেমনি ওমরার দ্বারও খোলা ছিল না। করোনার কারণে সব কিছু বন্ধ থাকায়  বহিরাগত আর কেউ মক্কা- মদিনায় হাজির হতে পারেনি। আলহামদুলিল্লাহ, বিগত ১০ আগস্ট থেকে সৌদি সরকার বিদেশীদের জন্য ওমরার অনুমতি দিয়েছে। মানুষ আবার দলে দলে জমা হতে শুরু করেছে পবিত্র ভূমিতে। করোনায় দু’বছর হজ- ওমরা বন্ধ থাকায় মনটা ছটফট করছিল। কবে ‘লাব্বাইক’ বলতে বলতে বায়তুল্লাহ-তে পৌঁছাবো।  পেয়ারা হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজার পাশে গিয়ে দাঁড়াবো। সত্যি মহান আল্লাহ তায়ালার মেহেরবাণীতে সেই মাহিদ্রক্ষণ চলে এল। করোনার এই সময়ে বায়তুল্লাহ সফর এর তারিখ নির্ধারণ হয়ে গেল। ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ বিমানের সন্ধ্যাকালীন ফ্লাইট। ঢাকা এয়্যারপোর্টের যাবতীয় কাজ সেরে চেপে বসলাম বিমানে। অবশ্য করোনা টেস্টে নেগেটিভ সার্টিফিকেট তো কাছেই রাখতে হয়েছে। পাসপোর্ট ভিসা এবং টিকার ডবল ডোজের সাথে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট তো অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব ঘাটেই সেটা দেখাতে হয়েছে। কিছুটা বিড়ম্বনা হলেও পেয়ারা হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালবাসার কাছে ওসব তো ছিল তুচ্ছ। ঝামেলা যতই হোক তবুও তো পেয়ারা হাবীবের শিয়রে গিয়ে দাঁড়াতে চাই।


ঢাকা থেকে বিমান উড়াল দিল। ৩৩০০০ হাজার ফুট উপর  দিয়ে মাত্র ছয় ঘণ্টা দশ মিনিটে পৌঁছে গেল জেদ্দা বিমান বন্দরে। বিমান থেকে নামার সাথে সাথে গায়ে নবীর দেশের হাওয়া লেগে গেল। কী যে এক অনুভূতি। হৃদয়ে যেন প্রশান্তি বয়ে আনল। জেদ্দা বিমান বন্দরের কার্যক্রম সেরে বাসে করে মদীনার পানে ছুটে চললাম। বড় আনন্দময়। এক আলিশান বাস। অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের দিকে। দুই সিটে মাত্র একজন বসতে হল। করোনার কারণে এক সিট ফাঁকা রেখেই যাত্রী উঠানো হচ্ছে। এমনিতে নামী- দামী বাস। এরপরে যাত্রী সংখ্যা সীমিত। আরামদায়ক ভ্রমণে রুপান্তরিত হল। রাতের আঁধার চিরে ভোর বেলায় মদীনায় পৌঁছে গেলাম। সূর্যের কিরণে ঝিকিমিকি করতে লাগল প্রিয় মদীনা শহর। মনে হচ্ছে সেই নুরানী মনজিল আরো চকচক করছে। হৃদয় জুড়ানো দৃশ্যে মনটা ভরে উঠল। সফর সঙ্গীরা পেয়ারা হাবীবের শানে দুরুদ সালাম পড়তে লাগলেন। দরুদ শরীফের বরকতে আরো প্রেম- ভালবাসায় উদ্বেলিত হতে লাগল সবাই।


চোখ জুড়ানো মদীনার হোটেল। করোনার কারণে কপাল খুলেছে সবার। এত সুন্দর হোটেলে তো বাংলাদেশীদের তেমন দেখা যায়নি। এবার রওজার পাশে মারকাজিয়াতে স্থান হয়েছে হাজিদের। অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে থাকার সৌভাগ্য হয়। আরো মজার বিষয়, রওজায় সালাম দিতে কোন ভীড় নেই। ঠিক রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়তে কোন ধাক্কা- ধাক্কি নেই। নিরিবিলি পরিবেশে সবাই ইবাদত করতে পারছে। কোন সমস্যা হলে সৌদি কোম্পানীর লোকেরা সহযোগিতা করছে। আপনি সৌদি যে কোম্পানীর মাধ্যমে ভিসা করে ওমরায় গিয়েছেন, তারাই সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়াচ্ছে। নির্বিঘ্নে ইবাদতের সুযোগ করে দিচ্ছে। পাঁচদিন মদীনাতে থাকার পরে মক্কার উদ্দেশে রওনা। সেখানেও সৌদি কোম্পানীর প্রাণখোলা সহযোগিতা। পূর্বের থেকে তারা ওমরা করার কাগজপত্র হাতে তুলে দিল। যাতে মক্কায় পৌঁছে দেরী করতে না হয়।


যুলহুলায়ফা (মদীনার মীকাত) থেকে ইহরাম বেঁধে নিলাম। লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত হতে লাগল আকাশ-বাতাস। অনেকদিন পরে ইহরাম বাঁধছি। তাই তো আবেগ- উচ্ছ্বাস এর ঘাটতি ছিল না। লাব্বাইক, লাব্বাইক, বলতে বলতে মক্কায় চলে  আসলাম। মক্কার রাস্তা- ঘাট অনেকটা ফাঁকা। কেননা, এখনো সব দেশ থেকে ওমরার অনুমতি মেলেনি। বাংলাদেশীদের উপর আল্লাহর খাছ অনুগ্রহ। খুব তাড়াতাড়ি ওমরার অনুমতি মিলেছে। তাই তো তাওয়াফের স্থান (মাতাফ) খালি। সামান্য লোকজন তাওয়াফ করছে। অত্যন্ত প্রেম-ভালবাসা নিয়ে নিরিবিলি পরিবেশে ওমরার কাজ সেরে নিলাম। এটাই মনেহয় সবচেয়ে শান্ত-নিরিবিল সময়। ইতঃপূর্বে বহুবার হজ-ওমরার সফর করার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু এমন সুন্দর শান্ত এবং ইবাদতঘন পরিবেশ পাওয়া যায়নি। বর্তমান বাংলাদেশের মানুষের মাঝে ভীতি কাজ করছে। করোনাকালে কীভাবে বায়তুল্লাহ সফর করব? তাদের জন্য সুপরামর্শ। কোন ভয় নেই। চলে আসুন সফরে।অত্যন্ত নিরিবিলি পরিবেশে মন ভরে ইবাদত করতে পারবেন। সরকার যখন অনুমতি দিয়েছে, আর দেরী করা নয়। সফরে রওনা হোন। আল্লাহ তায়ালা মদদ করবেন ইনশাআল্লাহ।


লেখক : মুহতামিম, নিজামিয়া মাদরাসা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ি


 

আরো পড়ুন