শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
মসজিদ-মন্দির ও সম্প্রীতির শিক্ষা
মুস্তাকিম আল মুনতাজ
২১ অক্টোবর, ২০২১ ২১:২৯:২৫
প্রিন্টঅ-অ+

ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম। আর মুসলামনরা শান্তিকামী। ইসলাম নিজেদের মতো অন্যদেরও ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ করে। ইসলাম মানুষকে নিজের কিংবা দেশ ও দশের জন্য ভূমিকা পালনেও ত্যাগ স্বীকারের প্রেরণা জোগায়। ফলে বিশ্ববাসীর জীবনধারায় প্রশান্তি আনয়ন করে এবং হানাহানি, অশান্তি, হিংসা, বিদ্বেষ দূর করে। ইসলামের শিক্ষা হলো মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। সাদা-কালো সব মানুষই আল্লাহর বান্দা। আর সমগ্র মানব জাতি একমাত্র মহান আল্লাহর সৃষ্টি। যে সৃষ্টিকে মহান আল্লাহ তা’য়ালা নিজেই আশরাফুল মাকলুকাত তথা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজীব বলে ঘোষণা করেছেন। 


সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রাদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও দুশো বছরের অধিকাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নির্দশন বহন করে আসছেÑমৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন ৫নং কালাপুর ইউনিয়নের ভৈরবগঞ্জ বাজারের উত্তরপাশের্^ অবস্থিত; মাজদিহি জামে মসজিদ ও তার পাশে অবস্থিত ভৈরব মন্দির। যা শত বছর ধরে দুই ধর্মের মানুষ স্বীয় ধর্মালয়ে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন। কোন ধর্মের কেউই অন্য ধর্মের প্রার্থনায় ব্যঘাত ঘটবে, এমন কাজ করেন নি। ফলে উভয় ধর্মের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণে এলাকায় গড়ে ওঠেছে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। মন্দিরের চূড়া আর মসজিদের মিনার একই সঙ্গে সহঅবস্থানে আছে দীর্ঘদিন। এ যেন অমলিন বন্ধুত্বের এক নির্দশন।


মাজদিহি জামে মসিজিদের মুসল্লিরা জানান, প্রায় দুশো বছরে এই মসজিদ মন্দিরকে ঘিরে দুই ধর্মের মধ্যে কোন তিক্ততার ঘটনা ঘটেছে, আজ অবধি এমন ইতিহাস নেই। মসজিদের ইমাম মাওলানা জাফর আহমদ জানান, ১৬ বছর ধরে এখানে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করে আসছি। এই দীর্ঘ সময়ে কোনোদিনও উভয় ধর্মের লোকদের মধ্যে মনঃক্ষুণ্নতার সৃষ্টি হওয়ার কোনো ঘটনা দেখিনি। মসজিদ পরিচালানা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন বলেন, “মসজিদ-মন্দির আমাদের পাশাপাশি। তবুও আমাদের কোনো ধরণের সমস্যা হয় নি। আমরা সুখে-শান্তিতে একসাথে দীর্ঘদিন যাবত হিসেবে বসবাস করে আসছি।”


ভৈরব মন্দিরের পুরোহিত জন্মজয় ভট্টাচার্য বলেন, এখানে উভয় ধর্মের মধ্যে এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরাজমান রয়েছে। আমরা অনেক রাত পর্যন্ত মাঝে মাঝে কীর্তন করি শুধু নামাজের সময়ে আমাদের বাদ্য যন্ত্রের আওয়াজ নিয়ন্ত্রণে রাখি, যেন তাদের ধর্ম পালনে সমস্যা না হয়। নির্দ্বিধায় বিগত ২৫-৩০ বছর ধরে এখানে পূজা পার্বণ করে আসছি। বাঁধা বিপত্তি তো দূরের কথা বরং পূর্জাচনায় মুসলিম বন্ধুরা আমাদের সহায়তা করেন।” ভৈরব মন্দিরের সভাপতি গৌরা দেব বলেন, “আমাদের মধ্যে কোন দ্বিধাধন্ধ কিংবা ধর্মীয় কাজ করতে কোনো ধরণের বাঁধা নাই। আমরা মুসলিম ভাইদের প্রতি সহানুভুতিশীল, তারাও আমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। যখনই মসজিদ আজান হয়, আমরা আজান মেনে আমাদের ধর্মীয় কাজ সম্পাদন করে থাকি।”


স্থানীয় কালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মজুল জানান, “লোকমুখে প্রচলিত আছে, প্রায় ২০০ বছর আগে এখানে মন্দিরটি স্থাপন করেছিলেন পূণ্যদত্তের পরিবার। এরপর এ মন্দিরকে কেন্দ্র করেই এক সময় এখানে বাজার গড়ে ওঠে। যা এখন ভৈরবগঞ্জ বাজার নামে পরিচিত। আর ১৯৪৭ সালের দিকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও মাজদিহি চা বাগান কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে মন্দিরের পাশেই নির্মিত হয় মাজদিহি জামে মসজিদ। এরপর থেকে দুই ধর্মের মানুষরা এখানে কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে নিজ জি ধর্মকর্ম পালন করে যাচ্ছেন।”


শুধু ভৈরবগঞ্জবাজারেই নয়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এমন অনেক স্থাপনা রয়েছে, যা এই উপজেলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিচয় বহন করে আসছে। শ্রীমঙ্গল ভৈরবগঞ্জ বাজারের মসজিদ ও মন্দির বিশ্বের সাম্প্রদায়িক ভাবনা দূর করবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।  


লেখক: আলেম ও প্রাবন্ধিক

আরো পড়ুন