শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
‘বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের সুর’
মাওলানা মাদানীর জীবনীগ্রন্থ
আমিনুল ইসলাম কাসেমী
০৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:১৯:২১
প্রিন্টঅ-অ+


প্রেমিকার কাছে প্রেমপত্র লেখে প্রেমিক। মনের মাধুরী দিয়ে সাজিয়ে ভালবাসার কথা লিখে যায়। যা স্মৃতিতে অম্লান থাকে। ডায়েরির পাতা ভরে যায়। দিস্তা দিস্তা কাগজ শেষ হয়ে যায় তবুও যেন শেষ হয় না। এই দুনিয়ায় বহু কবি-সাহিত্যিকের লিখনীতে ফুটে উঠেছে প্রেমকাহিনী। নিজের জীবনের ঘটনা প্রবাহ থেকে নেওয়া। কখনো কাল্পনিক বিষয়ও লেখকদের কলমে চলে আসে, যা বাস্তবের সাথে মিল নেই। আবার দেশের অবস্থার আলোকেও বহু কাহিনী লেখা হয়। তবে কিছু কিছু লেখক আছে যারা কল্পনাপ্রসূত কিছু লেখে না। বরং বাস্তব জীবনের চিত্রটি পাঠকদের সামনে তুলে ধরে। যেখানে কোন রঙঢঙ নেই। কোন মিথ্যার আশ্রয় নেই। বাস্তব সত্য কথাটা তাঁর লেখায় চলে আসে। যাতে মানুষের জন্য রয়েছে খোরাক। পাঠকদের জন্য রয়েছে বড় শিক্ষা। সেসব ঘটনা প্রবাহে মানুষের জীবন বদলে যায়।

এমনই একজন লেখক আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ.। তিনি যেমন যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ছিলেন, তেমনি ছিলেন একজন তুখোড় কলম সৈনিক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সুপণ্ডিত তিনি। সেই মহান ব্যক্তি তাঁর প্রিয় উস্তাদ, শায়খুল আরব ওয়াল আজম, কুতবুল আলম সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ.-কে নিয়ে যে একটি লেখা দাঁড় করেছেন, সেটা যেন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। প্রিয় উস্তাদের সংগ্রামী জীবন, আত্মশুদ্ধির মেহনত এবং তাঁর দরস-তাদরিসসহ যত প্রকার খেদমত এ জাতির জন্য করেছেন, তার বর্র্ণনা কাজী সাহেবের কলমে উঠে এসেছে। বইটির নাম দিয়েছেন ‘বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের সুর’, যার প্রথম খণ্ডই ছয়শত পৃষ্টার অধিক। আবার দ্বিতীয় খণ্ডতেও বিশাল সমহার।

শাইখুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানী। তিনি ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের লড়াকু সৈনিক। যার জীবনটা সংগ্রাম-সাধনায় কেটেছে। ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর সীমাহীন অবদান। আবার তিনি ছিলেন দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান মুহাদ্দিস। রাজপথে সংগ্রামের সাথে সাথে হাদীসের মসনদে বসে ‘কলাল্লাহ ও কলার রাসূল’ এর দরস দিয়েছেন। হাজারো ইলম পিপাসু ছাত্রের পিপসা নিবারণ করেছেন। সেই সাথে তিনি ছিলেন ইলমে তাসাউফের ময়দানের মহা সম্রাট। কুতুবে রব্বানী রশিদ আহমাদ গাঙ্গুহী রহ.-এর আজাল্লে দরজার খলিফা। এ ময়দানে তিনি চলেছিলেন বিরামহীন।

আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ ছিলেন শাইখুল ইসলাম মাদানীর খাস শাগরেদ। প্রিয় উস্তাদের প্রতি ছিল গভীর শ্রদ্ধা-ভালবাসা। প্রেম ছিল সীমাহীন। দারুল উলূম দেওবন্দ প্রিয় উস্তাদের সোহবতে কাটিয়েছেন বেশ কয়েক বছর। আপাদামস্তক মাদানীর খাস ভক্ত-অনুরক্ত বনেছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত হযরত মাদানীর গুণকীর্তন করতে দেখা যেত। সেই ১৯৫২ সনে যখন দেওবন্দে কাজী সাহেব ভর্তি হন, সেই থেকে ২০১৩ সন পর্যন্ত মাদানী সাহেবের চিন্তা-চেতনার ধারক-বাহক। বিন্দু পরিমাণ তাঁর দর্শন ত্যাগ করেননি তিনি। তিনি হযরত মাদানীকে স্বপ্নপুরুষ মনে করতেন। ছাত্রজীবনে তাদের বাড়িতে থাকা মাসিক মোহম্মাদী পত্রিকাতে মাদানী রহ.-এর সংগ্রামী জীবনের কথা পড়ে তাঁর একান্ত ভক্তে পরিণত হন। এরপর তাঁর সেই প্রেম-ভালবাসার টানে দেওবন্দে পাড়ি জমান। সেখানে তাঁর সাহচর্য এবং বিশেষ দীক্ষা লাভ করে খাঁটি আশেক বনে যান।

জনাব কাজী সাহেব সেই আবেগময় ভালবাসা দিয়ে নিজের প্রিয় উস্তাদের জীবনালেখ্য তুলে ধরেছেন তাঁর কলমে। আসলে কাজী সাহেব তো বাংলা সাহিত্যের একজন দিকপাল। তাঁর এত সুন্দর উপস্থাপনা, রচনাশৈলী এবং শব্দের গাঁথুনি এত চমকপ্রদ, যেটা খাঁটি প্রেমিক ছাড়া লেখা সম্ভব নয়। বইটির পরতে পরতে এত আকর্ষণ রয়েছে, যা পাঠকমাত্রই অনুভব করতে পারবেন।

সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব শাইখুল ইসলাম মাদানী। সমকালিন রাজনীতিবিদদের সাথে কিছু মতবিরোধ ছিল। সে সময়ে ব্যাপক সমালোচনাও হয় তাঁকে নিয়ে। বইটি পড়লে বর্তমান প্রজন্মের মানুষের সেসব জমে থাকা আপত্তি-অভিযোগ দূর হবে। এক নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে মানুষ; বিশেষ করে দেওবন্দী হালকার আলেমদের জন্য রয়েছে বিশাল খোরাক।

মোটকথা, আমি মাদানী চরিতের বহু বই পড়েছি। সংগ্রহ করেছি অনেক। বুক সেলফের অনেক জায়গা দখল করে আছে সে সব বই। তবে আমার দেখা শ্রেষ্ঠ মাদানী চরিত আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ’র লেখা ‘বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের সুর’। বইটি সব আলেমদের পড়া উচিত। সংগ্রহে রাখার মত বই। বইটি প্রকাশ করেছেÑ মাকতাতুল ই’তিসাম, ১০৩৬/১ মালিবাগ, চৌধুরীপাড়া, ঢাকা-১২১৭ । এখন দেশের অধিকাংশ লাইব্রেরিতে পাওয়া যায়।  

লেখক : মুহতামিম, নিজামিয়া মাদরাসা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ি।



 


আরো পড়ুন