শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
আব্দুল্লাহ আলমামুন আশরাফী
ফেসবুক ব্যবহারে সতর্কতার পরিচয় দিন
১৮ নভেম্বর, ২০২১ ২১:২৪:৪৪
প্রিন্টঅ-অ+

ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এই ওয়েবসাইটটি এখন ভীষণ জনপ্রিয়। ফেসবুকে আইডি নেই- এমন মানুষ খুঁজে বের করা মুশকিল। কারো একাধিক আইডি থাকে। নামে-বেনামে আইডির বিশাল সমাহার। সবাই যার যার মত করে তার চিন্তা-চেতনা ছড়িয়ে দিচ্ছে উন্মুক্ত এই প্লাটফর্মটিতে। পক্ষে বিপক্ষে লেখালেখি হচ্ছে দেদারসে। তথ্য যাচাইয়ের বালাই নেই, যার যা মন চাচ্ছে লিখে যাচ্ছে। শেয়ার করছে। প্রয়োজনীয়, অপ্রয়োজনীয় -সব ধরনের ভিডিও আপলোড করছে। 


ফেসবুক থেকে উপকার অপকার দুটোই হচ্ছে। উপকার বলতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ লেখা, আলোচনা, মতামত আমরা সহজেই পেয়ে যাচ্ছি। এতে করে আমাদের জানাশুনার ভান্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে। বড় বড় লেখক গবেষকদের লেখা গবেষণার দ্বারা উপকৃত হচ্ছি। তাদের সাথে "ফ্রেন্ডশীপের" সৌভাগ্য হচ্ছে। তরুণ লেখকদের একটি বড় অংশ এই প্লাটফর্মে লিখে লিখে হাত পাকাচ্ছে। প্রচুর পরিমাণে লেখালেখি হচ্ছে। এই ফেসবুকের কল্যাণে লেখক পাঠকদের মাঝে একটি মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠছে। এগুলো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। 


পক্ষান্তরে অপকারের দিকটাও কম যাচ্ছে না। ফালতু অনর্থক বিষয় ছড়িয়ে দেয়া। কারো বিরুদ্ধে অসত্য বানোয়াট কিছু লেখা হলো। ব্যাস, কোন ধরণের অনুসন্ধান, যাচাই ছাড়াই সেটা শেয়ার করতে থাকা। এটা খুবই দুঃখজনক। কত মানুষের ইজ্জত সম্মান এতে বিনষ্ট হচ্ছে। সামাজিক মর্যাদা ভুলুণ্ঠিত হচ্ছে। তার ব্যাপারে মানুষের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে ভুক্তভোগীর জন্যে সমাজে চলাফেরা করাই দুর্বিসহ হয়ে পড়ে। পরিবার সমাজ সব ক্ষেত্রেই তার জন্যে ভীষণ সংকট দেখা দেয়। অনেকেই এসব কারণে আত্মহননের মত ভয়ংকর সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নিয়ে নেয়। 


যেটা অন্যায়, যেটা নেতিবাচক সেটাকে আপনি অবশ্যই অন্যায়, নেতিবাচক বলে অভিহিত করবেন। এটা আপনার নৈতিক দায়িত্ব। একটি সুস্থ সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে এর কোন বিকল্প নেই। কালজয়ী জীবনাদর্শ ইসলামের মৈলিক সৌন্দর্যের অন্যতম দিক এটি। কিন্তু একজন নির্দোষ মানুষকে দোষী বানিয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলো, ফেসবুকে কিছু লিখলো, ব্যাস, কোন অনুসন্ধান যাচাই ছাড়াই আমি সেটা শেয়ার শুরু করে দিলাম। নিজেও লিখলাম। এটা যে কতটা দুঃখজনক, কত কষ্টদায়ক তা কাউকে বলে বুঝাতে হয় না। এটা যে কতটা নৈতিক অবক্ষয় তা ভাষায় ব্যক্ত করা অসম্ভব। ইসলাম এই ভয়াবহ অবক্ষয় রোধে কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে। সূরা হুজুরাতে এ বিষয়ে বেশ কিছু দিক নির্দেশনা রয়েছে। 


কোন কোন নীচু মানসিকতার লোক ফেসবুকে অশ্লীল কন্টেন্ট শেয়ার করে বসে। নোংরা ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে টাইমলাইনে রীতিমতো দুর্গন্ধ ছড়ায়। এ জাতীয় দুষ্ট প্রকৃতির লোকদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের লেশও থাকে না। এরা সমাজটাকে ধ্বংস করতে চায়।


তাই আসুন, আমরা কোন কিছু লেখা, শেয়ার করা, কমেন্ট করার আগে সর্বোচ্চ নৈতিকতার পরিচয় দেই। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করি। সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মান মর্যাদা নিশ্চিত করে একটি আদর্শ সুখময় সমাজ গড়ে তুলি। 


লেখক : ইমাম ও শিক্ষক


 

আরো পড়ুন