শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
রাকিব হাসান
সুন্দর নাম আল্লাহর জন্য
২৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ২০:০৭:০৬
প্রিন্টঅ-অ+

সুন্দর নাম আল্লাহর জন্য


রাকিব হাসান


 


মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আমরা আল্লাহকে স্রষ্টা হিসেবে মেনে নিয়েছি। স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে গভীর সম্পর্ক তৈরি করতে হলে অবশ্যই আল্লাহকে জানতে ও চিনতে হবে। আল্লাহর নাম-পরিচয় কুরআন ও হাদিসে এসেছে। মুসলমানদের জীবনে ইমানের গুরুত্ব অপরিসীম। দৃঢ় ইমান ধারণ করা যেমন জরুরি তেমনি কুফর থেকে বেঁচে থাকাও একান্ত জরুরী। ইমানের পরিচয় বিখ্যাত সেই হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি, যা হাদিসে জিবরাইল নামে পরিচিত। সেখানে মানুষের রূপ ধারণ করে জিবরাইল আ. ইসলামের মৌলিক বিষয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য রাসূল সা. এর নিকট আগমন করে কিছু প্রশ্ন করেন। জিবরাইল আ. এর দ্বিতীয়  প্রশ্নই ছিলো, ‘আমাকে ইমান সম্পর্কে বলুন।’ রাসূল সা. উত্তরে ছয়টি বিষয় উল্লেখ করেন। প্রথমেই আল্লাহ প্রতি ইমানের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ প্রতি ইমানের অর্থ আল্লাহ একত্বে বা তাওহীদে বিশ্বাস করা। আল্লাহর প্রতি ইমান আনয়ন করাকে  তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। ক. তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত; খ. তাওহীদুর রুবূবিয়্যাত; গ. তাওহীদুল ইলাহিয়্যাহ।


তৃতীয় প্রকারের যে তাওহীদ তা মূলত মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলির সাথে সম্পর্কিত। নাম ও গুণাবলির মাধ্যমেই মহান আল্লাহকে যথাযথভাবে চেনা যায় এবং প্রতিপালকের মহান ক্ষমতা সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। বান্দাহ বিপদে-আপদে সুখে-দুঃখে সবসময় এই সব গুণবাচক নাম ধরে আল্লাহকে ডাকে। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব।’ (সূরাহ মুমিন, আয়াত : ৬০)। আল্লাহ আরো বলেন, ‘বলে দাও, তোমরা আল্লাহ বা রহমান যে নামেই ডাকো না কেন, সব সুন্দর নাম তো তাঁরই।’ ( সূরাহ বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১১০)। তাঁর রয়েছে অসংখ্য গুণবাচক নাম। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব, তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকবে। যারা তাঁর নাম বিকৃত করে, তাদের বর্জন করবে। শিগগিরই তাদের কৃতকর্মের ফল দেওয়া হবে।’ (সূরাহ আরাফ, আয়াত : ১৮০)। কুরআন সুন্নাহ থেকে আমরা বিভিন্ন নাম জানতে পারি যার সংখ্যা অনেক। তবে আমাদের মাঝে ৯৯টি নামের কথা প্রচলিত আছে। যেমনÑ ‘আর রাহীম’, ‘আল কুদ্দুস’, ‘আল জাব্বার’, ‘আল গাফফার’Ñ এরকম সুন্দর ও মহিমান্বিত অসংখ্য নাম রয়েছেÑ যেসব নাম ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করার মাধ্যমে একজন বান্দাহ তার রবের নৈকট্য হাসিল করতে পারে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের মুসলিম সমাজে অপসংস্কৃতি চর্চার ফলে একজন মুসলিম আল্লাহ গুণবাচক নামগুলো শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করলেও অন্তরে ভয়ভীতি ও আশা-আকাক্সক্ষা জাগ্রত খুব কমই হয়। কারণ আমাদের নাটক-সিনেমা, কৌতুক ও বিনোদন জগতে অভিনয় চরিত্রে বাড়ির দারোয়ানের নাম রাখা হয় জব্বার, কৌতুক অভিনেতার নাম হয় কুদ্দুস ইত্যাদি। এছাড়াও মোখলেস ও মফিজ নামটি শুনলেই হাসি পায় এবং আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে বোকা চরিত্র অথচ নামটি আরবি ‘এখলাস’ শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থÑ একনিষ্ঠভাবে এবাদত করা বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করা হয়। আল্লাহর নিকট এখলাস ছাড়া কোনো আমলই গ্রহণযোগ্য নয়। আর সেই নামকেই আমরা ফান বানিয়েছি।


আরেকটি নাম হচ্ছে মফিজ। এটি একটি আরবি নাম, যার অর্থ সফলকাম হওয়া। সাধারণত পরকালের সফলতা বোঝাতেই মফিজ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। ম্যাজিক টুথ পাউডারের কল্যাণেই আমরা এই নাম নিয়ে ঠাট্টা করে থাকি। অথচ আমরা কে না চাই পরকালে সফল হতে? পরকালের সফলতা নিয়ে যদি ঠাট্টা করি, তবে কি আসলেই আমরা পরকালে সফল হতে পারবো?


 


লেখক : শিক্ষার্থী, আল ফিকহ এ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া


সফৎধশরন১০১৪৩@মসধরষ.পড়স


 

আরো পড়ুন