শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
মুস্তাকিম আল মুনতাজ
মানবসেবায় আল্লাহর সন্তুষ্টি
২০ জানুয়ারি, ২০২২ ২০:২০:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+


:: একজন মুসলমান তার পার্থিব জীবনে যে পন্থা অবলম্বন করে খুব দ্রুত আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করতে পারে, সৃষ্টির সেবা তার মধ্যে অন্যতম। সৃষ্টির সেবা তথা মানবসেবা একজন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এ ইবাদত তাকে কেবল আল্লাহর নৈকট্যশীল বান্দাদের অন্তর্ভুক্তই করে না, বরং তাকে বিশ্ববাসীর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাবান ও অপরিহার্য করে তোলে। যেকোনো বিপদাপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অভাবীর অভাব মোচন করা, সমাজের দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের প্রতি দানের হাত প্রসারিত করা, প্রতিবেশীর সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করা, কারও ঋণের প্রয়োজন হলে তাকে করজে হাসানা তথা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া ইত্যাদি কাজগুলো হচ্ছে সৃষ্টির সেবা।



সৃষ্টির সেবার গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণকর।’ (সূরা বাকারা : ১৮৪)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, তারাই মুত্তাকী, যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান রাখে, নামায কায়েম করে এবং যা তাদের রিজিক দান করি, তা হতে খরচ করে। (সূরা বাকারা : ০৩)। তিনি আরও বলেন, ‘যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত করো, তবে তা কতই না উত্তম। আর যদি দান গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরো উত্তম। আল্লাহ তা’য়ালা তোমাদের কিছু গোনাহ দূর করে দেবেন। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্মের খবর রাখেন। (সূরা বাকারা : ২৭১



হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব কষ্টসমূহ থেকে কোনো কষ্ট দূর করবে, কেয়ামতের কষ্টসমূহ থেকে আল্লাহ তার একটি কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবীকে দুনিয়ায় ছাড় দেবে, আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে ছাড় দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্য করে যায়। (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি)। আরেক হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। রাসুলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ওই ব্যক্তি পরিপূর্ণ মুমিন নয়, যে তৃপ্তি সহকারে আহার করে আর তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে। (মুসতাদরাকে হাকেম, আদাবুল মুফরাদ)



শুধু নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত ইত্যাদি ফরজ বিধানগুলোই সৎকর্ম এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং এগুলোর পাশাপাশি সৃষ্টির সেবা তথা মানবসেবায় আত্মনিয়োগ সৎকর্মের অন্তর্ভুক্ত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমে মুখ করবে। বরং বড় সৎকর্ম হলো, ঈমান আনবে আল্লাহর ওপর, কেয়ামত দিবসের ওপর, ফেরেশতাদের ওপর এবং নবী-রাসুলদের ওপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তারই মহব্বতে আত্মীয়-স্বজন, এতিম-মিসকিন, মুসাফির-ভিখারি ও মুক্তিকামী দাসের জন্য। (সূরা বাকারা : ১৭৭)



আসুন! আল্লাহর আনুগত্য মেনে সৃষ্টির সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করি এবং তার মাধ্যমে ইহণ ও পরকালীন মুক্তির পথ সুগম করি। আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : আলেম, শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

mustakimmuntaj18@gmail.com




 

আরো পড়ুন