শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
চিঠি
ইসলাম প্রচারের সার্থকতা
সায়েদ আফ্রিদী
২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ২০:৩১:৪৭
প্রিন্টঅ-অ+

বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। মুসলমানদের নানান উৎসবের মধ্যে শীতকালীন সময়ে ওয়াজ মাহফিল একটা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। ওয়াজ-মাহফিলের প্রধান উদ্দেশ্য মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষকে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শিক্ষা দেওয়া। তাদের ধর্মের প্রতি অনুগত করে তোলা। এছাড়াও বিভিন্ন ফতুয়া দেওয়া যেগুলোর মাধ্যমে মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষ ইসলামের সঠিক ব্যবহার এবং সঠিক চর্চা করতে পারে। 


ওয়াজ মাহফিল করার জন্য স্বাভাবিকভাবেই দূর-দূরান্ত থেকে বক্তার আমন্ত্রণ করা হয়। যারা নিদিষ্ট একটা সময় শ্রোতাদের নিয়ে ইসলামিক আলোচনা করে। ইসলাম শিক্ষা এবং ইসলামের খুঁটিনাটি বিভিন্ন তথ্য জানা এবং বোঝার বড় একটা গেদারিং ওয়াজ-মাহফিল। যেখানে হাজার হাজার মানুষের জনসমাগম হয়।


ইসলামীক বড় বড় স্কলাররা সবসময় বলেন একজন বক্তার প্রধান উদ্দেশ্য হলো শ্রোতাদের নিয়ে ধর্মীয় আলাপ আলোচনা করা। যেখানে অহেতুক কোন কথাবার্তা থাকবে না। থাকবে না তেমন হাসি তামাসার আলোচনা-সমালোচনা। এবং ওয়াজ-মাহফিলের মাধ্যমে কোনভাবেই অপরকে ছোট করা, অতিরিক্ত সমালোচনা করা যাবে না। এমনকি বিভিন্ন ফতোয়া নিয়ে তর্ক-বিতর্ক না করে সবাইকে সঠিক পরামর্শ দেওয়া।


তবে বর্তমান সময়ে উল্লেখযোগ্য ওয়াজিনদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা চলছে। কে কাকে কোন সময় হেয় প্রতিপন্ন করে কথা বলবে এটাই তাদের টার্গেট থাকে। কাকে কখন নিচু করে কথা বলবে এসবের একটা ট্রেন্ড চলছে বর্তমান সময়ে। দেখা যায় একজন বক্তার দীর্ঘ সময়ের একটা বক্তব্যে কোন ছোটখাটো ভুল হয়েছে। যেটা সাধারণ শ্রোতা ওইভাবে লক্ষ করেনি। অথচ অপর বক্তা এসে এটাকে নিয়ে বিভিন্ন তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে। 


ওই অনাকাক্সিক্ষত বক্তব্য কেটে মাইকের সামনে সবাইকে শুনিয়ে বিভিন্ন যুক্তি, তর্ক-বিতর্ক করে। শুধুই এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেকে আবার ওয়াজ মাহফিলে অযথা বিভিন্ন অশ্লীল শব্দ চয়ন করে এবং বিভিন্ন অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। পাশাপাশি নানান গুজব এবং ভিত্তিহীন তথ্য উপাত্ত নিয়ে ওয়াজ করে যেগুলো সত্যিকার কোন ভিত্তি নেই।


যারা ওয়াজ-মাহফিল আয়োজন করে তাদের এসব বিষয়ে আরো সতর্ক হতে হবে। অতিথি হিসেবে যাকে দাওয়াত দেওয়া হবে তাকে যাচাই বাছাই করে দাওয়াত দিতে হবে। শুধু পরিচিতি দেখেই বক্তা আমন্ত্রণ করলে হবেনা। বরং যারা ইসলামের সঠিক প্রচার করে এবং যাদের এ বিষয়ে ডিগ্রি আছে তাদের মাধ্যমে বক্তার আসনে অলংকৃত করতে হবে। এছাড়াও মান্ধাতার আমলের মতো ঘণ্টার পর ঘন্টা আলোচনা না করিয়ে বক্তাদের কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর আলোচনা সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে। এতে শ্রোতা সঠিক বিষয়টা বুঝবে এবং নানান অনাকাক্সিক্ষত বিষয়ের তেমন অবতারণা হবেনা। যেসব আলোচনার মাধ্যমে সমাজের ভালো হয় এবং ইসলামের সঠিক জ্ঞান অর্জন করা যায় সেসব বিষয়বস্তুুর উপর গুরুত্ব দেওয়ার কোন বিকল্প নেই।


লেখক : শিক্ষার্থী : ঢাকা কলেজ 


 

আরো পড়ুন