শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
ইয়াছিন নিজামী ইয়ামিন
আমাদের শক্তি প্রার্থনা
২৮ এপ্রিল, ২০২২ ২১:১৭:২৪
প্রিন্টঅ-অ+

আল্লাহ তাআলা কোনো মানুষকেই স্বয়ংসম্পূর্ণরূপে সৃষ্টি করেননি। কিছু খুঁত, কিছু ত্রুটি, কিছু অভাব রেখে দিয়েছেন, যাতে মানুষ ঔদ্ধত্য ও খোদা-বিমুখিতা প্রকাশ না করে। কিন্তু মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ! নিজের সীমাবদ্ধতা, নিজের ত্রুটি, নিজের হীনতার কথা জেনেও সে অহংকার প্রদর্শন করে, দুর্বলদের উপর দাপট দেখাতে চেষ্টা করে। অথচ এগুলোর কোনোটি আল্লাহ তা'আলার কাছে পছন্দনীয় নয়। আল্লাহ পাক চান মানুষ সবকিছুতেই, যে কাজে সক্ষম কিংবা অক্ষম, সর্বাবস্থায় বান্দা তার কাছেই ফিরে আসবে, সাহায্য প্রার্থনা করবে। বান্দার চাওয়াটা মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে খুবই প্রিয়। তাইতো আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, কোনো মুমিনের দোয়া আল্লাহ বৃথা যেতে দেন না। এর ফল হয়তো সে দুনিয়াতে পাবে কিংবা আখেরাতের প্রয়োজনে তা আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত থাকবে। আল্লাহ পাক মানুষ সৃষ্টি করার পেছনে এটিও একটি বড় কারণ যে, সে পাপ কর্মে লিপ্ত হবে আবার অনুধাবনের সাথে সাথে আল্লাহর কাছে ফিরে আসবে। কেননা শুধুমাত্র ইবাদতের জন্য তো ফেরেশতাগণই যথেষ্ট ছিল। তারা দিনরাত খোদার এবাদতে লিপ্ত। তাই হাদীসে এসেছে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন, সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন! যদি তোমরা পাপ না করো [এবং ক্ষমা না চাও], তাহলে আল্লাহ তাআলা তোমাদের নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে এমন একটি উম্মাতকে আনয়ন করবেন, যারা পাপ করবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আর আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দিবেন।(মুসলিম শরীফ)।


দু'আ আল্লাহর নিকট খুবই পছন্দনীয় একটি আমল। [সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ১৪৮১]। নামাজ, রোজার মতো দুআও একটি ইবাদত। তাই আল্লাহ তা'আলা কাছে কোনো কিছু চেয়ে দুআ করার পর সে দু‘আ কবুল হলে তো ভালো। কিন্তু যদি কবুল না-ও হয়, তাহলেও এর সওয়ার পাওয়া যাবে। যেহেতু দুআ একটি স্বতন্ত্র ইবাদাত। এর সওয়াব ও প্রতিদানের সঙ্গে তা কবুল হওয়া বা না হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। সুরা মুমিনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো’। 


মানব জীবনে দুঃখ-দুর্দশা, বালা-মুসীবত, বিপদাপদ, শয়তানের ধোঁকা, দুশমনের ষড়যন্ত্র, অভাব-অনটন, দুশ্চিন্তা, ঋণের চাপ, ক্লান্তি, রোগ-ব্যাধি এবং বিভিন্ন রকমের ফিতনা-ফাসাদ এসেই থাকে। এগুলো মানব জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। আমাদের ব্যক্তিগত কিংবা সাংসারিক জীবনেও কতশত বিপদ দুর্যোগ হতাশা ও অপ্রাপ্তি নিয়ে আমাদের দিনানিপাত করতে হয়। তাই পেয়ারে হাবীব রাসূল (সাঃ) উম্মাতকে শিখিয়ে গেছেন যে, যখন তুমি কিছু প্রার্থনা করবে তখন আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করবে; যখন সাহায্য চাইবে তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে। [জামে তিরমিযী, হাদীস:–২৫১৬]। প্রথম আসমানে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রতি রাতে যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ কিংবা অর্ধেক কেটে যায়, তখন আল্লাহ দুনিয়ায় এসে বলতে থাকেন, কোনো প্রয়োজন প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি তাকে তার প্রয়োজন পূরণ করে দিবো; কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব ; কোন তওবাকারী আছে কি, আমি তার তওবা কবুল করব ; দু’আ করার মতো কেউ আছে কি, আমি তার দু’আয় সাড়া দেবো। [মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৯৫৮৯]।   


তাছাড়া হাদিসের ভাষ্য মতে দু'আকে বলা হয়েছে ইবাদতের মূল। সাহাবী হযরত নোমান ইবনে বশীর রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘দুআ হচ্ছে ইবাদতের উৎস’। এ কথা বলার পর তিনি একটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন, যার অর্থ:- তোমাদের প্রভু বলেছেন, ‘তোমরা আমার কাছে দুআ কর, আমি তোমাদের দুআ কবূল করবো।’ [তিরমিযী, হাদীস: ২৯৬৯; মুসনাদে বাযযার, হাদীস: ৩২৪৩] । 


কেউ যদি কোনো মানুষের কাছে কিছু চায়, তাহলে সে বিরক্ত হয়, নাখোশ হয়। কিংবা প্রথম এক-দুই বার খুশিমনে দিলেও পরে তার অবস্থা পাল্টে যায়। কিন্তু আল্লাহর কাছে কিছু না চাইলেই বরং তিনি অসন্তুষ্ট হন। বান্দা তাঁর কাছে প্রার্থনা করবে, চাইবে। আর তিনি বান্দার প্রার্থনা শুনবেন। সে প্রার্থনায় সাড়া দেবেন। এতেই তিনি সন্তুষ্ট। বরং তাঁর কাছে যে বান্দা যত বেশি চায় তার ওপর তিনি ততো বেশি খুশি হন। হাদীস শরীফে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর কাছে দু’আর চেয়ে প্রিয় কোনো কিছু নেই’। [জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৩৭০]। আরেক হাদীসে আছে-যে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে না, আল্লাহ তার ওপর অসন্তুষ্ট হন। [জামে তিরমিযী, হাদীস:-৩৩৭৩]।


আরেকটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো। কেননা তিনি তাঁর কাছে কিছু চাওয়াকে পছন্দ করেন’। [-জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৫৭১]। সাহাবী জাবির রা. এর বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন কাজের কথা বলব, যা তোমাদেরকে তোমাদের শত্রু থেকে রক্ষা করবে এবং তোমাদেরকে পূর্ণ জীবিকা দান করবে। তা হচ্ছে, তোমরা দিবা-রাত্রি আল্লাহর নিকট দুআ করবে। কেননা দু’আ মুমিনে হাতিয়ার।’ [মুসনাদে আবি ইয়ালী মুসলী, হাদীস: ১৮১২]। দু’আর জন্য আলাদা কোনো ভাষা নেই, আলাদা কোনো নিয়ম নেই, আলাদা কোনো অবস্থার প্রয়োজন নেই। সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ডাকা যায়, তাঁর কাছে চাওয়া যায়, মন উজাড় করে প্রার্থনা করা যায়। সাহাবী আবু হুরায়রা রা. এর বর্ণনায় এক হাদীসে পাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর নিকট দুআর চেয়ে প্রিয় অন্য কোন আমল নেই।’ [তিরমিযী, হাদীস: ৩৩৭০ ]। 


মুমিন বান্দা যখন আল্লাহকে ডাকে তখন সে সরাসরি আল্লাহ তা’আলার সঙ্গেই কথা বলে। মহামহিম প্রভুর সঙ্গে একান্তে এ কথোপকথনের তৃপ্তিই আলাদা! দু’আর মধ্য দিয়ে তাই আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সেতুবন্ধ রচিত হয়। দু’আর পর যদি প্রার্থিত বিষয় অর্জিত হয়ে যায় তাহলে তো হলোই, আর বাহ্যত যদি তা নাও হয় তবে পরম দয়াময় প্রভুর সঙ্গে আবারও একান্তে কথোপকথনের সুযোগ পাওয়া যাবে। সুতরাং, ইবাদতে পূর্ণতা আনতে এবং আমাদের জীবন সুখ-স্বাচ্ছন্দ ও কল্যাণ দিয়ে সাজাতে দু’আর বিকল্প নেই।


yasinnizamiyamin123@gmail.com


 

আরো পড়ুন