শিরোনাম :

  • তিন অতিরিক্ত এসপিসহ সাত এএসপিকে বদলি বিশ্ব মানবাধিকার দিবস আজ এনআরসির বিরুদ্ধে জোট বাঁধার আহ্বান মমতার ধর্ষক রাম রহিমের সঙ্গে দেখা করলেন হানিপ্রীত
শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায়'র ৯৫ তম প্রয়াণদিবস আজ
সাহিত্য ডেস্ক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:৩১:০৭
প্রিন্টঅ-অ+


আজ ১০ সেপ্টেম্বর ১৯২৩ সালের আজকের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন শিশুতোষ সাহিত্য রচনায় এক অনবদ্য সুসাহিত্যিক সুকুমার রায়। তিনি একাধারে লেখক, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক, রম্যরচনাকার, প্রাবন্ধিক ও নাট্যকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর বাবা জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ও মা বিধুমুখী দেবী ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের মেয়ে। সুবিনয় রায় ও সুবিমল রায় তাঁর দুই ভাই। এ ছাড়াও তাঁর ছিল তিন বোন।

সুকুমার রায় ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় এক ব্রাহ্মপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর পৈত্রিকনিবাস ময়মনসিংহের মসুয়া গ্রাম।

সুকুমার রায় কলকিতা সিটি স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাস করে প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যয়নকালে নাটক অভিনয় ও ছোটদের হাসির নাটক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন   " ননসেন্স ক্লাব "।

ক্লাবের মুখপত্র ছিল " সাড়ে-বত্রিশ ভাজা "। রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানে অনার্সসহ বি.এস. সি. ডিগ্রি লাভ করে ফটোগ্রাফি ও প্রিন্টিং টেকনোলজিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ১৯১১ সালে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুপ্রসন্ন স্কলারশিপ পেয়ে ইংল্যান্ড গমন করেন। ম্যাঞ্চেস্টার স্কুল অফ টোকনোলজি থেকে ১৯১৩ সালে  প্রথম স্থান অধিকার করে এফ. আর. পি. এস. ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে প্রত্যাবর্তন করে পিতার ব্যবসা - প্রতিষ্ঠান ইউ. আর.  অ্যান্ড সন্স কোম্পানিতে যোগদান করেন। ১৯১৫ সালে পিতার মৃত্যুর পরে উক্ত প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নিযুক্ত হন। এসময় " মানডে ক্লাব " প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৫ থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত " সন্দেশ " পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

সুকুমার রায়ের চিত্রশিল্পেও বিশেষ অবদান রয়েছে। তাঁর রচিত সকল গ্রন্থে নিজের অঙ্কিত ছবিগুলো অতুলনীয়। প্রাসঙ্গিক চিত্র উপস্থাপন করার ফলে  হয়ে উঠেছে চিত্তাকর্ষক ও হৃদয়গ্রাহী।

উল্লেখ্যযোগ্য গ্রন্থ : তাঁর রচিত আবোল-তাবোল(১৯২৩), হ-য-ব-র-ল (১৯২৪), পাগলা দাশু"(১৯৪০), বহুরূপী(১৯৪৪), খাইখাই (১৯৫০)

প্রভৃতি গ্রন্থগুলি বাংলা শিশুতোষ সাহিত্যের অমর সৃ্ষ্টি। তিনি একজন সুগায়ক ও সুঅভিনেতা গিসেবেও খ্যাত। অস্কার পুরস্কার প্রাপ্ত বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় (১৯২১-১৯৯২) সুকুমার রায়ের সুযোগ্য পুত্র।

শিশুসাহিত্যের এই অমর স্রষ্টা ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ১০ সেপ্টেম্বর কালাজ্বরে (লেইশ্মানিয়াসিস)  আক্রান্ত হয়ে মাত্র সাঁইত্রিশ বছর বয়সে কলকাতায় পরলোকগমন করেন। সুকুমার রায় নিজে,  তাঁর পিতা এবং পুত্র তিন প্রজন্মই বাংলা সাহিত্যের অমর ব্যক্তিত্ব। আজ এই মহান মনীষীর ৯৫ তম প্রয়াণ দিবসে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। তথ্য সুত্রঃ উইকিপিডিয়া  



আমার বার্তা/১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮/বীথি











 


আরো পড়ুন