শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
চাই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার সফল বাস্তবায়ন
২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:৪৫:৪৮
প্রিন্টঅ-অ+

শাহিদা আরবী


বাঙালি জাতির দুর্দিনে, যে  মহান নেতার তর্জনীর ইশারা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল,  আশাহত কোটি প্রাণে নতুন করে বুনেছিল স্বাধীনতার বীজ,  যার হাত ধরে পাওয়া স্বাধীনতার লাল সূর্য, বাঙালির সেই অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীনতার কান্ডারীর নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।


প্রিয় মাতৃভূমির স্বীকৃতি অর্জনে যে মহান নেতৃত্বের গৌরবময় ইতিহাস, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর এসেও বাঙালি নিজ সত্বায় ধারণ করে আসছে শ্রদ্ধাভোরে, স্বাধীন দেশে  স্বাধীনতার সেই স্বপ্নের দ্রস্টার এমন নির্মম প্রস্থান, বাঙালি জাতির এক লজ্জার ইতিহাস হয়ে রইবে আজন্ম। তবুও ক্ষণজন্মা এই নেতার সান্নিধ্য পাওয়া, সেও বাঙালি জাতির এক পরম সার্থকতা। এই গর্বের ইতিহাসই বলে দেয় জাতি হিসেবে আমরা কতটা মহিমান্বিত। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ গ্রেফতার হওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার পুরো সময়টি কাটে পাকিস্তান কারাগারে। তবুও কারাগারে সেই অন্ধকার কাষ্ঠেও  দেশরতœ এই নেতা ছিলেন স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর। ক্রমেই নিজমনে নিজের স্বাধীন দেশের জন্য  বানিয়েছেন শত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা। স্বাধীনতা পরবর্তী মাত্র সাড়ে তিন বছরে দূরদৃস্টিসম্পন্ন এই নেতার অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় পাল্টে যেতে থাকে দেশের জনগণের জীবনমান। 


আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের এক অবিছেদ্য অংশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘকাল কারাবরণ কিংবা প্রাণনাশের আশঙ্কা, কোনটাই এই মহান নেতার নেতৃত্বে বাধা হতে পারেনি। বরং কঠিন পরিস্থিতিতেও ভেঙে না পড়ে এগিয়ে গেছেন দৃঢ় প্রত্যয়ে। দেখেছেন দেশকে নিয়ে নতুন কোন স্বপ্ন। আইয়ুব খান তার আতœজীবনী ঋৎরবহফং হড়ঃ গধংঃবৎং -এ উল্লেখ করেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান নয়মাস কারাগারে থাকা অবস্থায় অত্যন্ত আতœবিশ্বাসী ছিলেন স্বাধীনতা লাভের আশায়।  সুতরাং বোঝা যাছে, কারাগারের নির্জন প্রকষ্ঠেও বিনিদ্র রজনী তিনি ভেবেছেন প্রিয় জন্মভূমির স্বাধীনতা নিয়ে। ভেবেছেন স্বাধীন বাংলাদেশেকে অগ্রগামী করার পরিকল্পনাসমূহ। নিস্তেজ হয়ে পড়া একটি জাতিকে টেনে উপরে তুলতে তাঁর পরিকল্পনা ছিল আকাশচুম্বী। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই আকাশচুম্বী স্বপ্নের দ্রস্টার বিয়োগবার্তা যে এত সন্নিকটে,তা কারোরই জানা ছিলনা। তবুও মহান এই নেতার মাতৃভূমিকে নিয়ে সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কিছুটা বাস্তবায়ন বাঙালির ইতিহাসে আজও আলোকবর্তিতার শামিল। যুদ্ধ পরবর্তী খুব দ্রæততম সময়ের মধ্যেই শাসনতন্ত্র প্রণয়ন ও শাসন ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস, বিবিধ উন্নয়ন কর্মকাÐ, প্রশাসনিক বিন্যাসসহ দেশের অর্থনীতিবিদদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু প্রণয়ন করেছিলেন প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ( ১৯৭২-১৯৭৬)।


স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য বঙ্গবন্ধু প্রণীত প্রথম পরিকল্পনা ছিল মুক্তিযুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুধাবন। কেননা মুক্তিযুদ্ধে শুধুমাত্র ত্রিশ লক্ষ প্রাণই নয়, দুমড়ে মুচড়ে পড়েছিল দেশের অর্থনীতি। সেক্ষেত্রে তিনি ক্ষতির পরিমাণটা অনুমান করে দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। এরই হাত ধরে ১৯৭২ সালে প্রজাতন্ত্রের যে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়, তাতে বঙ্গবন্ধুর অসাধারণ কীর্তিসরূপ স্বাধীনতার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির রূপরেখা অনেকটাই বাস্তব রূপ পেয়েছিল। ১৯৭২ সালের ঐ সময়ে যুদ্ধ বিধস্ত একটি দেশের অর্থনীতি কতটা ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। মাত্র ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল সমগ্র অর্থনীতির আকার। পাশাপাশি রিজার্ভে ছিলনা কোন বৈদেশিক মুদ্রা।  প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও খাদ্যের সংকটের কারণে দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ দরিদ্র ও ক্ষুধার কবলে জর্জরিত ছিল। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর নেওয়া অবকাঠামোগত পরিকল্পনায় দেশের অর্থনীতি আবার  ঘুরে দাঁড়াতে থাকে। সামান্য দেশজ সম্পদ ও আন্তর্জাতিক কিছু সহায়তাকে পুঁজি করেই এগিয়ে যান তিনি। চলমান হতে থাকে দেশের অর্থনীতির চাকা। 


বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, জনগণই প্রজাতন্ত্রের প্রথম ও প্রধান মালিক। বঙ্গবন্ধুর দেশকে নিয়ে  প্রণীত প্রতিটি পরিকল্পনা ছিল জনগণকেন্দ্রীক। তিনি বিশ্বাস করতেন, জনগণের জীবনমান উন্নতি ব্যতীত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কখনই সম্ভব নয়।চিরআকাঙ্খিত স্বাধীন দেশকে সাজাতে সময় পেয়েছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। তবুও ক্ষুদ্র এই সময়ের মধ্যেই দেশের মাথাপিছু আয় ৯৩ ডলার থেকে ২৭১ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছিলেন। তাঁর সুদূরপ্রসারী গণমুখী আদর্শের প্রতিফলন তিনি দেখিয়েছিলেন ১৯৭৪ সালের জাতিসংঘের ভাষণে। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সহচর তোফায়েল আহমেদ বলেন,  শোষিত মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তিই ছিল বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক দর্শন।  মূলত পাকিস্তানিদের শোষণ নিপীড়ন পর্যবেক্ষণ করে ১৯৪৭ সাল থেকেই একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন বুনতে থাকেন তিনি। ১৯৭১ সালে দেশে ফিরেই তিনি চলে যান রেসকোর্স ময়দানে। স্বাধীন দেশের মাটিতে তিনি জণগণের উদ্দেশ্য বলেন এই স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ খেতে না পায়। এই স্বাধীনতা পূর্ণ হবেনা যদি বাংলার মা বোনেরা কাপড় না পায়। অর্থাৎ শুধুমাত্র স্বাধীন দেশ নয়, সর্বস্তরের জণগণের জনমানের উন্নয়নই ছিল তার পাওয়া। 


ফরাসউদ্দিন বলেন বঙ্গবন্ধু কখনো ধনতান্ত্রিক অবাধ বাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন ব্যক্তি খাত থাকবে, কিন্তু একটা কাঠামোগত পরিমন্ডল সেখানে নিয়ামক ব্যবস্থা থাকবে। মুক্তিযুদ্ধে পরবর্তীকালেন খুব ক্ষুদ্র সময়েই তিনি সমুদ্রসীমা আইন, রাস্ট্রপরিচালনায় অত্যাবশক আইন বিনির্মাণ ও অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন। তারই অসামান্য প্রচেস্টায় মাত্র দশ মাসে তৈরী হয় আমাদের সংবিধান। এমনকি সংবিধান প্রণয়নের পাশাপাশি তিনি সংখ্যালঘু সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন ১৯৭২ প্রণয়ন করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে আসা চ্যালেঞ্জসমূহ যেমনঃ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, পাকিস্তান হতে বাঙালিদের ফেরত আনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন, মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত মা-বোনদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, শরণার্থী পুণর্বাসন ইত্যাদি মোকাবেলার জন্য তিনি ছিলেন দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। যুদ্ধপরবর্তীকালে দেশের উন্নতিকল্পে পুর্ণবাসন ও ত্রাণ কমিটি গঠন করা হয়। এ লক্ষ্যে গৃহহীণদের আবাসন সুবিধা, খাদ্য সহায়তা, বিশুদ্ধ সুপেয় পানির ব্যবস্থা, ধ্বংসপ্রাপ্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, অভিভাবকহীন নারীদের আশ্রয় প্রদান সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ যেমন কামার, কুমার, তাঁতী, জেলে  সহ প্রভৃতি পেশার মানুষের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা প্রদান করা হয়। শুধুমাত্র তাদের জীবনমানের উন্নয়নে ১.২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়। 


কৃষিভিত্তিক দেশ হওয়ায় কৃষিখাত নিয়েও বঙ্গবন্ধুর ছিল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। সেই লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে সরকারি উদ্যোগে সার ও কৃষি সরঞ্জাম উৎপাদনে গুরুত্বারোপ রোপ করা হয়। ৩০ জুন ১৯৭২ সালে এক সমবায় ইউনিয়নের সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা এবং সামগ্রিক উন্নত জীবন লাভের আধিকার রাখে। আমার স্বপ্ন এটাই।  তিনি তার স্বপ্ন পূরণেও ছিল অটল। ১৯৭২-১৯৭৩ অর্থবছরে প্রায় ৫০১ কোটি টাকার যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছিল, তার মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকাই ছিল কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নে। রবিশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সেচ ব্যবস্থা উন্নতকরণ, মিল্ক ভিটা প্রতিষ্ঠাসহ বিবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় কৃষির উন্নতিকল্পে। দেশের শিক্ষা খাতকে একেবারে নতুন পরিসরে সাজানোর লক্ষ্যে ১২০.৫ হাজার ডলার ব্যয়ে তিনি সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান করা, যুদ্ধকালীন বকেয়া ফী মওকুফ, দুই শিফটে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়। শুধু এখানেই নয়, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন  সহ ১৯৭২ সালের ২২ মার্চ ইসলামী ফাউন্ডেশন গঠন করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এছাড়াও ৩০ জুন, ১৯৭২ সালে পাশ হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম বাজেট। প্রদান করা হয় কৃষিতে সর্বোচ বরাদ্দ।


এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনায় বহির্বাণিজ্য ও আন্তজার্তিক সম্পর্কেও আসে আশানরূপ উন্নতি। স্বাধীনতা পরবর্তী মাত্র সাড়ে তিন বছর সময়ের মধ্যেই তিনি ১১৬টি দেশের স্বীকৃতি ও ২৭ টি আন্তজার্তিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। এমনকি ১৯৭৪-১৯৭৫ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত পাট ও পাটজাত দ্রব্য বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। যা যুদ্ধবিধস্ত একটি দেশের অর্থনীতিতে ফেলেছিল যথেস্ট ইতিবাচক প্রভাব। 


বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতেন একটি সোনার বাংলার। জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত কাজ করে গেছেন আমরণ। স্বাধীনতা পরবর্তী বিধস্ত দেশকে পুণরুদ্ধানে ছিল তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা।তবে দেশকে ঘিরে শত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন না দেখে অকালেই প্রস্থান ঘটে মহান এই নেতার। কলঙ্কিত হয় পুরো জাতি।  ঘাতকবাহিনীর স্টেনগানের আঘাতে সেদিন সাদা পাঞ্জাবি আর চেক লুঙ্গি  পরিহিত  শেখ মুজিবের নিথর দেহই শুধু মাটিতে লুটিয়ে পড়েনি , লুটিয়ে পড়েছিল লাল সবুজের একটি পতাকা, রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল পুরো বাংলার  মাটি। ঘাতকের একটি বুলেট বঙ্গবন্ধুর তর্জনী ছিন্নভিন্ন করে দিলেও মূর্খ ঘাতক বাহিনীর হয়ত জানা ছিলনা, যে তর্জনীর ইশারায় বাঙালি এক্যবদ্ধ হয়েছিল, সামান্য বুলেটের আঘাত সেই তর্জনীর ক্ষমতার কাছে কতটা তুছ। ইতিহাসের সেই নৃশংস হত্যাকান্ড পরিচালনা শেষে সেদিন তৃপ্তির হাসি হেসে, মেজর বজলুল হুদা কর্ণেল ফারুককে বলেছিলেন অল আর ফিনিসড। কিন্তু না। বঙ্গবন্ধুর দ্ব্যার্থহীন বজ্রকন্ঠের সমাপ্তি সামান্য বুলেটের আঘাতে সম্ভব নয়।তারই পরিপ্রেক্ষিতে  বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাছে দেশের উন্নতি। বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া দেশকে ঘিরে শত পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন ঘটছে তারই সুযোগ্য কন্যা  হাত ধরে। দেশকে ঘিরে বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া সকল অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়েই গড়ে উঠবে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশিত সোনার বাংলাদেশ।


শিক্ষার্থী, ইংরেজি সাহিত্য বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

আরো পড়ুন