শিরোনাম :

  • ১১০ উপজেলা-পৌরসভা-ইউপিতে ভোট শুরু ধর্মঘটে উবার চালকরা ১১ নারী কর্মকর্তাকে শাড়ি উপহার দিলেন অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রাম-মদিনা সরাসরি ফ্লাইট ৩১ অক্টোবর পুলিশের ওপর হামলা : নব্য জেএমবির দুই সদস্য গ্রেফতার
নারীরা পারিবারিক ও সামাজিক বঞ্চনা-নির্যাতনের শিকার : আইনমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৬ জুন, ২০১৯ ১৮:২১:১০
প্রিন্টঅ-অ+


আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় আমাদের সংবিধান নারী-পুরুষকে সমঅধিকার দিলেও সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীরা প্রায় প্রতিনিয়ত পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিকার হন।

আর এই নির্যাতন হচ্ছে আমাদের কাঙ্ক্ষিত জাতীয় উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। তাই প্রথমবার সরকার গঠন করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বাধা দূর করতে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। যার মধ্যে অন্যতম পদক্ষেপ ছিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আধুনিকায়ন।

রোববার (১৬ জুন) দুপুরে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটদের (পিপি) বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন আদালতের ৪৪ জন প্রসিকিউটর অংশ নেন।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকও বক্তৃতা করেন।

মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পূর্বের ৫৪টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ২৯ জেলায় আরও ৪১টি ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করে সেগুলোতে বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নতুন এসব ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের মনে নতুন করে আশা জেগেছে যে, তারা স্বল্প সময়ে, স্বল্প ব্যয়ে ও সহজে ন্যায় বিচার পাবেন।

তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় আমরা তাদের এই নতুন আশা পূরণ করতে সক্ষম হব। আ খুশির খবর হলো, বিগত এক বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে নতুন করে মামলা জট তৈরি হয়নি বরং বিচারাধীন ১ হাজার ৮৩১টি মামলা কমেছে।

গত দুই বছরের মামলার পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালের মার্চ মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮২টি। ২০১৯ সালের একই সময়ে এসে সেখানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫১টি।

আনিসুল হক বলেন, আমাদের মামলাজট কমিয়ে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য মাত্রায় আনতে হবে এবং এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে। আমরা ন্যায়বিচার পেতে কাউকে বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরতে দেখতে চাই না। কারণ বিলম্বিত বিচারে বিচারপ্রার্থীরা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন তেমনি ন্যায়বিচার পাওয়ার পথও সংকুচিত হয়। অপরাধীর পার পেয়ে যাওয়ার পথ সুগম হয় এবং তারা নতুন করে অপরাধ করতে উৎসাহিত হয়। এতে সমাজের অন্যরাও অপরাধ করতে দ্বিধাবোধ করে না।

অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া থেকে পার পেয়ে যাওয়ার পরিণাম যে কত ভয়াবহ তা সমাজে ক্রমবর্ধমান ধর্ষণের পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়। বর্তমানে সমাজের শিক্ষিত লোকের মাধ্যমেই এই ঘৃণিত কাজ বেশি চলছে।

বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে প্রসিকিউটরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদেরকে অবশ্যই আদালতের সময় ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সব নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। আদালতে সঠিক সময়ে সাক্ষী হাজিরসহ নির্ধারিত তারিখে সাক্ষী পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে সচেষ্ট হতে হবে। সর্ব অবস্থায় আদালতের নির্দেশনা পালন করে আদালতের মামলা ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে হবে। তাছাড়া মামলা জট কমানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

একবিংশ শতাব্দীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিচার বিভাগকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যেই অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এসডিজি এবং ভিশন ২০২১ এর লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য আইন মন্ত্রণালয় বিচার বিভাগকে সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। আমরা উচ্চ আদালতের মতো অধঃস্তন আদালতেও একটি প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন করার কথা ভাবছি। খুব সহসাই আমরা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার আলোকে পদক্ষেপ নেব।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থীরা আপনাদের কাছ থেকে যেন সবরকম সহোযোগিতা পায় সে বিষয়ে সজাগ থাকবেন। সরকার দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সেজন্য আদালত অঙ্গণে দুর্নীতি সংক্রান্ত সকল প্রথাগত কর্মকাণ্ড পরিহার করে সততা, স্বচ্ছতা এবং সাহসিকতার সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।



আমার বার্তা/১৬ জুন ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন