শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
আইনপ্রণেতা, নেতা, সিভিল প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের
উচ্ছৃঙ্খলতায় অসন্তোষ
মাস্তানদের চেয়েও খারাপ ভাষা ব্যবহার করেছেন ইউএনও : হাইকোর্ট
মেহ্দী আজাদ মাসুম
২৫ জুলাই, ২০২২ ১১:২৭:৩১
প্রিন্টঅ-অ+

জাতীয় সংসদে আইন প্রণীত হয়। আইন প্রণয়োন করেন সংসদ সদস্যরা। এই সংসদ সদস্যদের হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক ও সাধারণ মানুষ। দেখভালের দায়িত্ব পাওয়া স্থানীয় নেতাদের হাতেও আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তারা মূলত জনগনের সেবক হলেও পদায়িত হয়েই ভুলে যান তার কর্তব্য আর দায়িত্ববোধ। গাড়ি, সুন্দর বাসস্থান ও নিরাপত্তা রক্ষ্মী পেয়েই সাধারণ মানুষকে আর মানুষ বলে মনে করেন না অনেক ক্ষেত্রেই। দেখাগেছে, স্যার সম্মোধন না করলে তারা ক্ষুব্ধ হন। কর্ম এবং আচরণে বিব্রত করেন রাষ্ট্রকে। একই অবস্থা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। নির্বাচিত হয়ে চেয়ারে বসেই ভুলে যান যাদের ভোটে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। অসহায়-নিরীহ মানুষরা এদের হাতে মার খান। তবে ব্যাতিক্রম যে নেই, তা নয়। দেশের অনেক স্থানে এর বিপরিত চিত্রও দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সেবকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন অনেক আইনপ্রনেতা, নেতা, সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিরা। এমন চিত্রের বিপরিতে থাকা দায়িত্বশীলরা তাদের হীন-মানষিকতার কর্মে শিরোনাম হচ্ছেন গণমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, গণতন্ত্র এবং সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চা থাকলে দায়িত্বশীলদের পদের দায় এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতো বিবেককে। থাকতো জবাবদিহিতাও।


এদিকে টেকনাফে সাংবাদিকের সঙ্গে ইউএনও’র অশালীন আচরনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আর সংসদ সদস্যর ঘুষির বিচার চেয়ে আন্টিমেটাম দিয়েছে উপজেলা পরিষদ এসোসিয়েশন। কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, এমনকি দলীয় নেতা-কর্মী থেকে সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে আলোচনার শীর্ষে আছেন ক্ষমতাধর বেশ কয়েকজন আইনপ্রনেতা (এমপি)। রাজশাহী-১ আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী একজন কলেজ অধ্যক্ষকে অপদস্ত করে আলোচনায় আসেন দেশব্যাপী। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই জাতীয় সংসদ ভবনের এলইডি হলে দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যানকে ঘুসি মেরে সমালোচনার ঝড় তোলেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল। গত ১৬ জুলাই দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে ঘুসি মেরে তিনি হাসপাতালে পাঠান বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনভাবে গত এক বছরে অর্ধডজন এমপি মানুষ পিটিয়ে নানা সময়ে খবরের শীরোনাম হয়েছেন। 


নড়াইল সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে লাঞ্ছনার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, এই অধ্যক্ষকে লাঞ্চণার পেছনে ছিলেন নড়াইলের একজন এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান। গত ২২ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রামের উলিপুরে ইউপি নির্বাচনের সময় বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ তুলে এক মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক ফিরোজ আলমকে লাঞ্ছিত করেন নির্বাচিত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। এ ঘটনায় ওই শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। গত ১৫ জুন আড়াইহাজারে চেয়ারম্যান ফাইজুল হক ডালিমের হাতে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবল চন্দ্র ঘোষ লাঞ্চিত হন। বিষয়টি নিয়ে আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়।


দুই বছর আগে (২০২০ এর ১৪ মার্চ) মধ্যরাতে কুড়িগ্রামের সেই সময়ের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সুলতানা পারভীনের নির্দেশে বাংলা ট্রিবিউনের (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি আরিফুলকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে জেল-জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে সাজা দেয়া হয়। এ ঘটনায় দেশের গণমাধ্যম কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে সাংবাদিক আরিফ মুক্তি লাভ করেন। আর শাস্তির মুখোমুখি হন সুলতানা পারভীন।


গত শুক্রবার কক্সবাজারের টেকনাফে উপহারের ঘর নির্মাণের বিষয়ে ঢাকার একটি অন-লাইন নিউজ পোর্টালে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কায়সার খসরু ঐ পোর্টালে স্থানীয় সাংবাদিকের  সঙ্গে অশালীন-অসংযত আচরণ করেন। তিনি সাংবাদিক সাইদুল ফরহাদকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে। ইউএনও’র অশালীন বক্তব্য নিয়ে হিলটাউন সার্কিট হাউসে জরুরি বেঠকে বসেন জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন।


এ দিকে ইউএনও’র অশালীন বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল রোববার আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকের সঙ্গে  ইউএনওর অশোভন আচরণের বিষয়টি নজরে আনলে হাইকোর্ট বলেন, ‘এটা কোনো ভাষা হতে পারে না; মাস্তানদের চেয়েও খারাপ ভাষা ব্যবহার করেছেন। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির মুখে এমন অশালীন শব্দ কাম্য নয়। ইউএনওর ভাষা খুবই আপত্তিকর, দুঃখজনক; এটা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো রং হেডেড পারসন ছাড়া এ রকম ভাষায় কথা বলতে পারে না।’ বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, ‘সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তারা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। তারাও যদি কোনো অপরাধ করেন, তাহলে সে বিষয়ে প্রেস কাউন্সিল আছে। সেখানে অভিযোগ দেয়ার সুযোগ আছে; আইন আছে। এভাবে গালিগালাজ তো কেউ করতে পারেন না।’


গত বছর সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ইউএনও শফি উল্ল্যাকে ‘স্যার’ সম্বোধন না করায় একজন সাংবাদিকের উপর চড়াও হয়েছিলেন তিনি। ভাই বলে ডাকায় তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে তিনি সিলেট মিরর পোর্টালের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। তিনি বলেন, ‘ইউএনওকে ভাই ডাকা যাবে না। আপনি জানেন না, না জানলে ন জেনে নিন, একজন ইউএনওকে স্যার বলতে হয়।’ পরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদের মধ্যস্ততায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।


গত ৮ জুলাই মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনা লায়লাকে ‘স্যার’ না বলে ‘আপা’ ডাকায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। তার (ইউএনও) নির্দেশে একজন ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহত করে পুলিশ। উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের জায়গীর বাজার বাস স্ট্যান্ডে এমন ঘটনা ঘটে। পরে জেলাপ্রশাসকের মধ্যস্থতায় বিষয়টির সমাপ্তি ঘটে। কোন প্রকার শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি রুনা লায়লাকে।


৭ জুলাই রাজশাহী-১ আসনের (গোদাগাড়ী-তানোর) সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে উপজেলার রাজাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে প্রকাশ্যে কিল-ঘুসি ও হকিস্টিক দিয়ে পেটানোর অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে শিক্ষক সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল থেকে সংসদ সদস্য ফারুকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি ওঠে। অবশ্য নিজের কৃতকর্ম ঢাকতে ১৪ জুলাই অধ্যক্ষকে পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন আলোচিত-সমালোচিত সংসদ সদস্য। সংবাদ সম্মেলনে ওই অধ্যক্ষ দাবি করেন, সাংসদ ওমর ফারুক তাকে পেটাননি। ধাক্কাধাক্কি হয়েছিলো মাত্র।


সরকারি কর্মকর্তা, দলীয় নেতা-কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ পিটিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে আলোচনায় আসেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন। মানুষ পেটানোয় সিদ্ধহস্ত এই সংসদ সদস্য ২১ মে জেলার পাথরঘাটার হরিণঘাটা বাজারসংলগ্ন সøুইসঘাট এলাকায় সালিশি বৈঠক ডেকে এক মাছ ব্যবসায়ীকে চড়থাপ্পড় মারেন। ফোরকান মিয়া নামের ওই মাছ ব্যবসায়ী বাকিতে মাছ না দেয়ায় শাস্তি হিসেবে নিজেই চড়থাপ্পড় দেন সাংসদ। ফোরকানের অভিযোগ, তিনি বরগুনার সংরক্ষিত (নারী) আসনের এমপি সুলতানা নাদিরার সমর্থক। নাদিরার সমর্থক হওয়ার কারণেই তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে মেরেছেন শওকত হাচানুর রহমান রিমন।


গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সংসদ সদস্যের মোটরসাইকেল বহরকে সাইড না দেয়ায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও মাছ ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করেন বরগুনা-২ আসনের সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমন। নির্যাতনের শিকার মাছ ব্যবসায়ী নজরুল ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বিএফডিসি মৎস্য পাইকার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক। এর আগেও সরকারি কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল এমপি রিমনের বিরুদ্ধে। 


গত ১৯ মে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দীন কলেজের দুই সহকারী অধ্যাপককে পেটানোর অভিযোগ ওঠে ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের বিরুদ্ধে। লাঞ্ছিত দুই শিক্ষক হলেন পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন ও গণিতের সহকারী অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন। শিক্ষক পেটানোর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জেলাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন কলেজ অধ্যক্ষ ড. মাহাবুবুর রহমান। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ডেমরা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের এক দলিল লেখককে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, চেয়ার দিয়ে মারধর করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর মাথা লক্ষ্য করে পানির গ্লাস ছুড়ে মারেন সংসদ সদস্য। গালাগালের পাশাপাশি হত্যার হুমকিও দেন তিনি। ভুক্তভোগী দলিল লেখকের নাম আনোয়ার হোসেন। তিনি ডেমরা সাবরেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প-ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক। 


কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি সম্প্রতি টেকনাফে দলের বর্ধিত সভায় তিন নেতাকে পিটিয়ে আলোচনায় আসেন। মারধরের শিকার নেতারা হলেন- টেকনাফ পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. ইউছুফ মনো, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক মো. ইউছুফ ভুট্টো ও উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক। নেতাদের পেটানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা গেছে, বদির সঙ্গে তার ভাই আবদুস শুক্কুর ও কয়েকজন নেতা মিলে তাদের পেটাচ্ছেন। এ ঘটনায় দলের ভিতরেও বাইরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।


সাভারের আশুলিয়ায় হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজের গভার্নিং বডির সভাপতির ভাইসতার হাতে খুন হন কলেজের কলেজ শাখার রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক উৎপল কুমার সরকার (৩৫)। গত ২৫ জুন দুপুর ২টার দিকে ওই কলেজ মাঠে শিক্ষককে স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক মারধর করে ওই শিক্ষার্থী। পরে ২৭ জুন এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই এখন কারাগারে রয়েছেন।


গত ১৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে বৈঠক চলাকালে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে কিল-ঘুসি মারার অভিযোগ উঠে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের বিরুদ্ধে। এতে উপজেলা চেয়ারম্যান আহত হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।


সুশীল সমাজের প্রতিনিধি : দায়িত্বশীলদের আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আক্রমনের বিষয়ে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান আমার বার্তাকে বলেন, গণতন্ত্র এবং সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চা থাকলে দায়িত্বশীলদের পদের দায় এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত থাকতো। জাগ্রত থাকতো তাদের বিবেক। থাকতো জবাবদিহিতাও। তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেন। আকবর আলি খান বলেন, সরকারের ওপর জনগণের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে সেটিকে গণতন্ত্র বলা যায় না। যে দেশে জনগণ সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, সেটিই হলো গণতন্ত্র।

আরো পড়ুন