শিরোনাম :

  • বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে ‘৮ থেকে ১০ ঘণ্টা’ ঢাকায় বিদ্যুৎ স্বাভাবিক ‘রাত ৮টার মধ্যে, চট্টগ্রামে ৯টায়’দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুমআফগান ক্রিকেট বোর্ডের সিইওকে বিদায় দিল তালেবান
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে ইভিএম ইস্যুতে ছাড় দেয়ার ইঙ্গিত ইসির
আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ :
০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৭:০৮:২৮
প্রিন্টঅ-অ+

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে ইভিএম এর মতো ইস্যুতে ছাড় দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। কোনো কারণে ইভিএম প্রকল্প বাস্তবায়ন করা না গেলে ব্যালটে ভোট হবে বলে জানিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেন, আমরা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। সক্রিয় অংশগ্রহণমূলক চাই। কেন চাই? সক্রিয় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হলে ভারসাম্য সৃষ্টি হয়। দলগুলোই সারাবিশ্বে এ ভারসাম্য সৃষ্টি করে। সবার প্রতি আন্তরিকভাবে উদাত্ত আহ্বান থাকবে আপনারা আসেন, সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখেন ও সহায়তা করেন।


সোমবার দুপুরে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, বিএনপি দেশের অন্যতম প্রধানতম রাজনৈতিক দল। তারা যেটা চাচ্ছে সে ব্যাপারে আমাদের কোনো রকম বাধা নেই। আমরা কাউকে ধরে-বেঁধে নির্বাচনে আনবো না।


বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে নির্বাচনটা অধিক অংশগ্রহণমূলক হবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন,  এখন বিএনপির যে রাজনৈতিক কৌশল, আমরা কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের কৌশলের ওপর হস্তক্ষেপ করবো না, করতে পারি না, সে এখতিয়ারও আমাদের নেই। কিন্তু আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত রয়েছে, সে দায়িত্বের পথে আমরা এগিয়ে যাবো। কাল যদি আমাকে উচ্ছেদ করে দেন, হবে। সেটার জন্য আমি তো মর্মাহত হবো না।


রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, ইসি একা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারবে না। দলগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। ইসির ওপর ছেড়ে দিলে একার পক্ষে সম্ভব না-ও হতে পারে, যদিও আমরা চেষ্টা করবো।


ইভিএম ইস্যুতে ছাড়ের ইঙ্গিত দিয়ে কাজী হাবিবুল বলেন, ইভিএম নিয়ে আমরা খুব খুঁটিনাটি কাজ করছি। ইভিএমের মধ্যে কোনো ধরনের কারচুপি, এটা-সেটা করা সম্ভব কি না, আমরা তা খতিয়ে দেখছি। কারচুপির বিষয় কিন্তু এখনো পাইনি। ব্যক্তি শনাক্তকরণের পর আঙুলের ছাপ দিলেই ছবি ভেসে আসবে। এরপর ব্যালট ওপেন হবে। ৪০ সেকেন্ড থাকবে। এর মধ্যেই ভোট দিতে হবে।


সিইসি বলেন, ইভিএমে ভোট নেওয়ার ক্ষেত্রে একটা অসুবিধা কেউ কেউ লক্ষ্য করেছেন। সেটা হলো- একজন ভোটার বুথে দাঁড়িয়ে থাকার সময় অন্য কেউ যদি ওই ভোটারকে বলেন- ‘আপনি যান, ভোটটা আমি দিয়ে দেবো’- সেই সংকটের বিষয়টিও আমাদের মাথায় আছে। এজন্য আমরা সিসি ক্যামেরা দেবো। আমরা কিন্তু কঠিন দায়িত্ব অর্পণ করবো প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ওপর। কেউ যদি বৈধ বা অবৈধভাবে ভোট বাধাগ্রস্ত করে তবে তাৎক্ষণিক ভোট বন্ধ করে ওই ব্যক্তিকে বের করে দেওয়া হবে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিজে না পারলে পুলিশ ডেকে বের করে দেবেন। তিনিও পারলেন না, পুলিশও পারলো না, তখন ওই কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হবে।


ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে আজ দুইটি দলের সাথে সংলাপে বসার তারিখ নির্ধারণ ছিল ইসির। জেপি ছাড়া অপর রাজনৈতিক দল হলো বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি। এদিন সকালে ইসির সাথে সংলাপ শেষে জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলের ভূমিকা রয়েছে। বৈষম্যমূলকভাবে ১৫০ আসনে নয়, ৩০০ আসনের কিছু কেন্দ্রে ইভিএম এর পক্ষে জাতীয় পার্টি (জেপি)।


তিনি বলেন,আজকে দুটি দলের সঙ্গে সংলাপ হলো। এ অর্থে সংলাপ শেষ হলো। সিদ্ধান্ত গ্রহণে যেন সহায়ক হয় সেজন্যই সংলাপ করেছি। সংলাপ করে আমরা লিখিত আকারে সিদ্ধান্ত জানিয়েছি তাদের। ইভিএম নিয়েও বৈঠক করেছি। ইভিএম নিয়ে একটা সিদ্ধান্তও নিয়েছি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। আমরা আমাদের নিজস্ব বিবচেনায় দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে ৩০০, ১০০, ১০ বা ২০টি নয়, আমরা একটা যৌক্তিকভাবে ব্যালট পেপারে ১৫০ আসন ও ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দলগুলোর লিখিত বক্তব্য আছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইভিএম নিয়ে অনেকের বিশ্বাস আছে, অনেকের নেই। তবে আমাদের সিদ্ধান্ত আদৌ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কি না, সেটা নির্ভর করবে পর্যাপ্ত ইভিএম মেশিন পাওয়া না পাওয়ার ওপর। কারণ, এ মেশিনের বেশিরভাগ পার্টস আসবে বিদেশ থেকে।


কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমরা শুধু দলকে নয়, সরকারকেও সংলাপ থেকে আসা মতামত জানিয়েছি। কেননা, দলগুলো কী বলছে তা সরকারেরও জানা উচিত। সরকার কিন্তু কোনো দলের নয়। সেই বিভাজনটাকে মাথায় রেখে আমরা সরকাকে জানিয়েছি। অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় বিরোধীদলগুলো। সেটাও আমরা জানিয়েছি। ভোটার তালিকা আগামী বছর মার্চ মাসে চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করবো। রোডম্যাপ দুই সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্তভাবে জানাতে পারবো।


এর আগে ২৮টি রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ করে নির্বাচন কমিশন। তখন আমন্ত্রণ জানানো হলেও না আসার ঘোষণা দেয় বিএনপিসহ ৯ দল।

আরো পড়ুন