শিরোনাম :

  • রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
সিরিজ বোমা হামলার ১৭ বছর ও আজকের ভাবনা
সাধন চন্দ্র মজুমদার এম.পি
১৬ আগস্ট, ২০২২ ১৬:২৮:৩৩
প্রিন্টঅ-অ+

২০০৫ সালে আজকের দিনে বাংলাদেশে একযোগে ৬৩টি জেলায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। বি.এন.পি-জামায়াত জোট তখন ক্ষমতায়। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তদানিন্তন ক্ষমতাসীন সরকারের মদদেই বোমা হামলা হয়েছিল, মুন্সীগঞ্জ বাদে সবকটি জেলায়। প্রত্যেকটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জমায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এই ভয়ংকর কর্মটি করে। সংগঠনটি নিষিদ্ধ হলেও বি.এন.পি-জামায়াতের কাছে ছিল প্রসিদ্ধ কামেলদার সংগঠন। দুর্ভাগ্য জাতির, যে দেশটি অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা নিয়ে জন্ম লাভ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে সেই দেশটিকে সাম্প্রদায়িক জঙ্গীবাদের দেশে পরিণত করেছিল স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি।


 ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট ইতিহাসের মহানায়ক একটি জাতি রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স-পরিবারে হত্যা করে স্বাধীনতার চেতনাকে ধ্বংস করে দেশকে উল্টোপথে পরিচালিত করতে থাকে। ২১টি বছর চিহ্নিত অপশক্তি দেশটিকে শাসন শোষণের পাশাপাশি জঙ্গী চাষের উর্বর ভূমি হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করে। স্বাধীনতা বিরোধীরা নানা নামে সংগঠন গড়ে তোলে গোটা দেশেই জঙ্গীবাদের বীজ রোপণ করে। জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতা বিরোধীদের রুখে দিয়ে ১৯৯৬ সালে ১২ জুনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসতে সক্ষম হন। সঠিক পথে নিয়ে আসতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। সীমাহীন আবর্জনার স্তুপ জমে থাকা বঙ্গ জননীর শীতল বক্ষ পরিস্কার করতে বহুমাত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দেশ এগিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু আবর্জনায় রোপিত বীজ ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত হয়ে ৫ বছরের মধ্যেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়। ২০০১ সালের ১লা অক্টোবরের পাতানো নির্বাচনে বি.এন.পি জামায়াত জোটকে ভূমিধ্বস সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়ে স্থায়ীভাবে জঙ্গী রাষ্ট্রের গোড়া পত্তন করা হয়। বি.এন.পি-জামায়াত ক্ষমতায় বসেই শুরু করে তান্ডব। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ওপর ভয়ংকর নির্যাতন চালাতে থাকে। সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় ক্রমাগত নির্যাতনের শিকার হয়। লুটপাট অগ্নি সংযোগ, নারীর ওপর নিপীড়ন ছিল বি.এন.পি-জামায়াতের নিত্যদিনের কর্মকান্ড। এ সমস্ত খবর বিশ্ব গণমাধ্যমেও স্থান পায়। বি.এন.পি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে দেশবাসী অসহায়ত্ববোধ করতে থাকে। তাদের শাসনকাল ছিল অন্ধকার যুগ। অসংখ্য বোমা হামলা সহ নানারকম হামলা সংগঠিত হয় সে সময়।


২০০৫ সালে একযোগে ৬৩টি জেলায় বোমা হামলা ঘটিয়ে জঙ্গীবাদের শক্তির জানান দেয়। ঢাকার ৩৪টি সহ সারাদেশে ৪শ স্পটে প্রায় ৫শত বোমার বিষ্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ২ জন নিহত ও প্রায় দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়। হাইকোর্ট, সুপ্রীম কোর্ট, দূতাবাস এলাকা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, প্রেসক্লাব ও সরকারি-আধা সরকারি বিভিন্ন ভবনে বোমা বিষ্ফোরণ করে জঙ্গীরা। একই সাথে এতগুলো বোমা বিষ্ফোরণের ঘটনা ইতিহাসে বিরল। কেন সেদিন তারা বোমা মেরেছিল সে প্রশ্নের উত্তর খুবই পরিষ্কার। কষ্টের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করে তুলতেই তাদের এ অপকর্ম। এ সব কিছুকেই বি.এন.পি-জামায়াত জোট সমর্থন করেছে। এই হামলা প্রগতিশীল শক্তির প্রতি ভয়ংকর থ্রেট হিসেবেই বিবেচিত।


রক্তের দাম দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে কলংকিত করা হয়েছিল বোমা হামলা করে। স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মা শাশ্বত, উজ্জ্বল, পবিত্র এবং বলিষ্ঠ; এই শাশ্বত বাংলাদেশ সমগ্র পৃথিবীর প্রাণে সাড়া জাগিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমে। বাংলাদেশের আবেদন ছিল সর্বত্র। এ যেন এমন এক মুদ্রা যা সব দেশেই চলে। পৃথিবীর সব প্রান্তের অণূভূতিশীল মানুষই বাংলাদেশকে শ্রদ্ধা করতো স্বাধীনতার পর পর। কিন্তু সেই বাংলাদেশের বুকে যে কলংকের দাগ দেয়া হয়েছে তা মুছে ফেলতে আমাদের কতই না সংগ্রাম করতে হয়েছে; আজও ষড়যন্ত্র হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যহত আছে। আমাদের বাঙালি জাতির অমর আত্মার বিশুদ্ধতা ও শক্তিমত্তার জন্যে সমগ্র বিশ্ব শ্রদ্ধা করলেও সে শ্রদ্ধায় যবনিকাপাত ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের। পঁচাত্তর পরবর্তী বহুকাল রাষ্ট্রীয় শরীরের দুরবস্থা বিরাজমান ছিল। আমরা বিশ্বের কাছে করুণার পাত্র হয়ে উঠেছিলাম। সুদীর্ঘ অচলবস্থার কারণে স্বাধীন বাংলাদেশের সামনে পর্বত প্রমাণ সমস্যার বোঝা দৃশ্যমান হয়েছিল। বি.এন.পি-জামায়াত জোট সেই বোঝা বাঙালি জাতিকে উপহার দিয়েছিল। রাষ্ট্রের সামনে প্রকান্ড চ্যালেঞ্জ তৈরি হলে আমাদের নেত্রী তা মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে থাকেন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে। বোমা হামলার ১৭ বছর পর আজ এমন এক ভবনার জায়গায় দেশকে উপস্থাপন করা হয়েছে সে ভাবনা কেবলই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভাবনা। আমাদের অতীত ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ সৌভাগ্যের ওপর থাকবে প্রচন্ড বিশ্বাস, কাজের মধ্যে সৃষ্টি হবে ঐকান্তিক ইচ্ছা। অনর্থক কথাবার্তা, কোলাহল, স্বার্থপরতা, নিন্দা প্রবণতা ও নিরন্তর অসন্তোষ প্রকাশের পরিবর্তে পরস্পরে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে সেবার সুযোগ তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সর্বাত্মক অগ্রগতি আজ সুনিশ্চিত। 


লেখক : খাদ্যমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

আরো পড়ুন