শিরোনাম :

  • রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
নোংরা হোক জুতা তাও বাঁচুক দু আনা !
মানিক মুনতাসির
২২ আগস্ট, ২০২২ ২৩:৫৫:০৫
প্রিন্টঅ-অ+


একটা সময় ছিল উত্তরা থেকে মহাখালী আসা-যাওয়ায় বলাকা বাসের নিয়মিত যাত্রী ছিলাম। ভাড়া ছিল ২ টাকা৷ ছাত্র হিসেবে অর্ধেক ভাড়া ১ টাকা দিতাম। এরপর ফার্মগেট টু মতিঝিল ৬ নম্বর কিংবা পল্টন পর্যন্ত ৩ নম্বর বাসে যাতায়াত করতাম। ভাড়া ছিল ৪ টাকা। দিতাম ২ টাকা। আর বিআরটিসিতে উঠলে তো পুরো বাসটাকে নিজেরই মনে হত৷ 



বর্তমানের বাজার দর অনুযায়ী ২০০০ সাল এর আগের সময়টাকে অনেকটা শায়েস্তা খাঁ এর আমলের মতই মনে হয়৷ মাঝের অনেকগুলো বছর বাসে চরতাম কদাচিত। তারও আগে ঠাকুরগাঁও শহরে রিক্সায় করে কলেজ যেতে ২ কিলোমিটার এর ভাড়া দিতাম ২ টাকা। তবে শেয়ারে যেতাম। ৪ টাকা ভাড়া দিতাম দু'জন মিলে। 



এরমাঝে কতগুলো বছর কেটে গেল। আয় বাড়ল। চাকরি বদল। দেশের উৎপাদন বাড়ল। অসম আয় আর অতিমূল্যায়িত উন্নয়নের এক গ্যারাকলে দেশটাকে শোষণ করে একটা গোষ্ঠী বেগম পাড়ায় আয়েশ করছে। আবার চোর, বাটপার, ছেচ্চরদের শোষণে সাধারণ মানুষ আবারো পথে নেমে গেছে। বিশেষ করে লাগামহীন বাজার ব্যবস্থা মানুষকে কঠিন এক পরিস্থিতির মুখে এনে দাঁড় করেছে।



বর্তমান দূর্মূল্যের বাজার আর বাস্তবতা বহু মানুষকে আবার নামিয়ে এনেছে দারিদ্র্য সীমার নিচে। আজকাল আবার বাসে উঠা শুরু করেছি। 



পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরেছি, সেসব দেশের পাবলিক বাস মানেই মানুষের আস্থার জায়গা। যাতায়াতের প্রধান বাহন। ব্যক্তিগত গাড়ী রেখে মেট্রোরেল, বাস ব্যবহার করে নিউইয়র্ক, লন্ডণ, আঙ্কারা, ইস্তাম্বুল, দুবাই, মালয়েশিয়া, ইউরোপের প্রায় সব দেশের মানুষ অফিস-আদালত যাতায়াত করেন। ফলে ঐসব দেশের রাস্তায় রয়েছে দারুণ এক শৃঙ্খলা আর যানবাহনে আছে প্রশান্তিময় অবস্থা। 



আমরা উন্নত (কথিত) হচ্ছি।আয় বাড়ছে কারো কারো। খাচ্ছি বিষ। বাতাসেও বিষ। কোটিপতিও বাড়ছে। প্রাইভেট কার বাড়ছে দেদার। অথচ বেশিরভাগই মানুষই কষ্টে আছে। ধনী -দরিদ্র বৈষম্য প্রকট হচ্ছে । কারো গ্যারেজে গাড়ী রাখার জায়গা নেই। কারো ব্যাংকের হিসাব রাখতে একাধিক সহকারী৷ রাস্তায় হাঁটার জায়গা নাই৷ খানিক পর পর পচা নর্দমা। আসলে আমাদের মন, মগজই পচা, সরা৷ এজন্য কারো হেঁটেই চলতে হয়। ন্যুনতম জীবন যাপনের ব্যয় নির্বাহের ক্ষমতা নেই অনেকেরই। আবার একটা গোষ্ঠী আছে বেহেশতের আরামে।



ফলে পাবলিক বাসে ওঠা মানেই ঘামের গন্ধ। জুতায় অন্যের পায়ের চাপ খাওয়া৷ময়লা হওয়া। সিএনজি (,অটরিক্সার) ভাড়াও বেড়েছে। অগত্যা ময়লা হোক জুতা৷ তাও বাঁচুক দুটো পয়সা। সঞ্চয় কিংবা সাশ্রয় না হউক অন্তত জীবনটা চলুক কোন মতে। তবে আমার অনুভূতি সর্বদাই এক। হউক না সে বিএমডব্লিউ কিংবা মুড়ির টীন (ডাবল ডেকার) ।



লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক


আরো পড়ুন