শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার পেছনে সরকারের ইচ্ছা, অনিচ্ছা বিরাট ভূমিকা পালন করে: রুমিন ফারহানা
২৩ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:৫০:১০
প্রিন্টঅ-অ+

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার পেছনে সরকারের ইচ্ছা, অনিচ্ছা বিরাট ভূমিকা পালন করে। স্থানীয় নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। কারণ স্থানীয় নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হয় না, জাতীয় নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হয় বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা।


নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতীক হয়ে উঠেছেন বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন একটা ইউনিক বিষয়। এটা অন্য নির্বাচনের সঙ্গে মিলিয়ে তুলনা করা যায় না। ২০১১ সাল থেকেই এ নির্বাচনটি যতটা না দলীয় বা প্রতীকের নির্বাচন তার থেকে অনেক বেশি হচ্ছে এটা একটি বিশেষ গোষ্ঠী, পরিবার বা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নির্বাচন। ২০১১ সাল থেকে আমরা সেই প্রবণতাটাই দেখছি। আজ দুপুরে সিপিডির এক ভার্চুয়াল সংলাপে এসব কথা বলেন রুমিন ফারহানা।


রুমিন ফারহানা বলেন, সেলিনা হায়াৎ আইভী কোন প্রতীকে দাঁড়াচ্ছেন বা কোন দলের প্রার্থী হচ্ছেন তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আইভী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তাঁর অবস্থান নিজ দলের অত্যন্ত প্রভাবশালী সাংসদের বিরুদ্ধে। এসব কারণে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে দেখা যায় সেখানকার মানুষ তাদের স্থানীয় সমস্যা, নগরের কতটুকু উন্নতি হলো, আইভী গত কয়েক বছর টানা মেয়র থেকে কী কী সমস্যার সমাধান করতে পারলেন, নতুন কী সমস্যা আছে সেগুলো নিয়ে যতটুকু আলাপ করে তার চেয়েও অনেক বেশি আলাপ করে ওসমান পরিবার নিয়ে। আইভী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কতটুকু শক্তভাবে দাঁড়াতে পারছেন সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ হয়। নারায়ণগঞ্জে প্রতীকের নির্বাচন না হয়ে ব্যক্তি বনাম সন্ত্রাসের নির্বাচন হয়েছে।


সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনে কারা বসে আছে তার চেয়েও বেশি নির্ভর করে সরকারের ইচ্ছা, অনিচ্ছার ওপর। ১৯৯১ সালে রউফ কমিশন একটি দারুণ ভোট উপহার দিয়েছিল। সেই রউফ কমিশন থাকা অবস্থায়ই কিন্তু আমরা দেখেছি মাগুরার মতো অতি বিতর্কিত একটি নির্বাচন হতে। সুতরাং কমিশনে কারা আছে তার চেয়েও বেশি নির্ভর করছে সরকারে কারা আছে বা সরকার কী ধরনের ইচ্ছা পোষণ করছে।


এই নির্বাচন থেকে একটা বিষয় খুবই পরিষ্কার যে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের মতো পর্যায়ে আমরা এখনো পৌঁছাইনি বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারাহানা। তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে ঘিরে আশঙ্কা যেমন ছিল, আশার দিকও ছিল। সরকার চেয়েছিল এই নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করতে। সরকার চেয়েছিল এই নির্বাচন সুষ্ঠু হোক। কারণ সব দিকেই সরকারের লাভ। সরকার জানত যে সেলিনা হায়াৎ আইভী এমন একজন প্রার্থী যার হারবার কোনো সম্ভাবনা নেই বা খুবই কম। এ ছাড়া এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে সরকার দেখাতে চাইবে সামনে যে জাতীয় নির্বাচন আসছে তা দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু হতে পারে।

আরো পড়ুন