শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
রাজশাহীতে রাজনীতির মাঠে ভোটের হাওয়া গণমুখী নেতাদের সামনে আনতে মরিয়া আ.লীগ
০৮ মার্চ, ২০২২ ১১:২৭:৩১
প্রিন্টঅ-অ+


আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজশাহীর রাজনীতির মাঠে বইতে শুরু করেছে ভোটের হাওয়া। আওয়ামী লীগের লক্ষ্য ভোটের আগেই দলের জেলা উপজেলা সম্মেলনের মধ্য দিয়ে গণমুখী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসা।

আগামী নির্বাচনের আগেই সংগঠনের তৃণমূলকে শক্তিশালী করে দলের জনপ্রিয়তা বাড়ানো। তাই দল গোছাতে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বশীল নেতারা। তৃণমূল নেতারাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংসদ নির্বাচনের।

বলা হচ্ছে, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে ২০২৩ সালের শেষ অথবা ২০২৪ সালের শুরুতে। তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলকে প্রস্তুত করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। প্রথম পর্যায়ে কমিটি হালনাগাদ করতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সম্মেলন। ত্যাগী নেতাদের নেতৃত্বে এনে, আগামী বছর থেকে সরকারের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ তুলে ধরতে শুরু হবে প্রতিনিধি সভা ও জনসভা।

আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, আমরা তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় থাকা ত্যাগী নেতাদের সামনে নিয়ে আসতে চাই। যারা দুঃসময়ে দলকে আঁকড়ে থেকেছেন। সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মধ্য দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তাদের মূল্যায়ন করতে চাই। এলক্ষ্যে জনসভা, প্রতিনিধি সভা, সম্মেলন এরই মধ্যে শুরু করে দিয়েছি। এরই মধ্যে পাবনা, নাটোর, নওগাঁ সম্মেলন হয়ে গেছে। পর্যায়ক্রমে রাজশাহীসহ বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনও শেষ করা হবে।  

মূলত এর মধ্যে দিয়েই আমরা আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী ও গণমুখী করতে চাই। যাদের গ্রহণযোগ্যতা আছে তাদের দলের নেতৃত্ব দিয়ে আরও সামনে আনতে চাই। কারণ আগামীতে যে দুঃসময় আসছে তা মোকাবিলা করতে অভ্যন্তরীণভাবে দলকে আরও শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন ওই নেতা।  

এদিকে বিগত একাদশ সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসনের মধ্যে জোটগতভাবে ক্ষমতাসীনরা নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছিল ৩২টি আসন। এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তাই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে জোরেশোরে। প্রথমেই তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে চাইছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তাই চলতি বছরের শুরু থেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন প্রতিটি বিভাগের দায়িত্বশীল আওয়ামীলীগ নেতারা।

সে লক্ষ্যে প্রথমেই দলীয় কাউন্সিলকে প্রধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ দারা।  

তিনি বলেন, প্রথমেই আমরা জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনগুলো শেষ করতে চাই। আমাদের যে কাউন্সিলগুলো অসম্পন্ন রয়েছে সেগুলো শেষ করতে চাই। জেলা থেকে শুরু করে একবারে ওয়ার্ড পর্যন্ত কাউন্সিল হবে। এরই মধ্যে জেলা আওয়ামীলীগ থেকে এই ধরনের চিঠি সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে পৌঁছে গেছে। তাদেরকে দলীয় কাউন্সিলরে মধ্য দিয়ে প্রতিটি কমিটি ঠিক করে ফেলতে বলা হয়েছে।

একই নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন, পাশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওদুদ।  

তিনি বলেন, আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরে দল গোছানোর কাজে অনেকটায় সফল হতে পেরেছি। আমরা মনে করি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর সুফল মিলবে। চাঁপাইনাববগঞ্জ এখন আওয়ামীলীগের ঘাঁটি। এখানকার সব আসনেই নিরঙ্কুশ জয় আসবে।

আর দলের গ্রহণযোগ্য নেতাকর্মীদের সম্মেলনের মাধ্যমে সামনে নামালে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতায় জয় সুনিশ্চিত বলে মনে করেন জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুর রহমান রকেট।  

তিনি বলেন, আওমামী লীগ গণমুখী ও সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক দল। তাই আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা দলকে আরও সুসংগঠিত করতে চাই। এতে উত্তরের প্রতিটি জেলায় আওয়ামী লীগ যেমন আরও শক্তিশালী হবে তেমনি জয়ের ধারাবাহিকতাও রক্ষা করা যাবে। পরপর একটানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় অধিষ্ঠ থাকা দলটি সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, বিবাদ-মনোমালিন্য নিরসন, ত্যাগীদের সামনে আনার কাজই এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।

আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম থেকেও একই বার্তা মিলেছে বলে জানিয়েছেন, দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনর মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।  

তিনি বলেন, প্রেসিডিয়ামের বৈঠক থেকে সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের সমস্যা যত দ্রæত সম্ভব সমাধানের তাগিদ দেয়া হয়েছে। যেগুলো সম্মেলন এখনও হয়নি বা যেখানে যেখানে সমস্যা রয়েছে সেগুলো দ্রæতই মিটিয়ে ফেলতে হবে। এজন্য দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে বলা হয়েছে।


আরো পড়ুন