শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে কাদের-হাছানদের: রিজভী
১৬ মার্চ, ২০২২ ১৬:২৬:২০
প্রিন্টঅ-অ+

জনগণের নয়, মন্ত্রী-এমপিদের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।


তিনি বলেন, ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে তো হাছান মাহমুদের, ওবায়দুল কাদেরের। বেড়েছে যুবলীগ-ছাত্রলীগের। সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বাড়েনি। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বাড়লে টিসিবির ট্রাকের পেছনে এত বড় লাইন হতো না।


দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বুধবার (১৬ মার্চ) দুপুরে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে রাজধানীর শাহবাগে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের সামনে লিফলেট বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।


জনগণের ক্রয়ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে- ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী এমপিদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী এসব কথা বলেন। মন্ত্রীরা জনগণের সঙ্গে রসিকতা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিএনপিকে নিয়ে অনেক ছবক দিচ্ছেন। কেন উনি (প্রধানমন্ত্রী) ক্ষমতা ছাড়ছেন না? কেন উনি গদি ছাড়ছেন না? কারণ উনি (শেখ হাসিনা) ক্ষমতা থেকে সরে গেলে আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ দলটির সিনিয়র নেতারা দখল করবেন।


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, জনগণকে ক্ষুধা, দারিদ্র্যের মধ্যে ফেলে দিয়ে সরকার এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে যে দেশে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি দেখা দিয়েছে।


তিনি বলেন, জনগণ খেয়ে পরে বাঁচলো কি না এটা তাগিদ দেওয়ার কোনো কিছু মনে করে না সরকার। দেশে আজ যদি নির্বাচিত সরকার থাকতো, তাদের একাউন্টিবিলিটি থাকতো তাহলে যেভাবেই হোক এটা নিয়ন্ত্রণ করতো।


বিএনপির এ নেতা বলেন, আজ গণমাধ্যমে আসছে মানুষ দুপুর বেলা ভাতের বদলে পাউরুটি ও কলা খেয়ে থাকছে। একেবারে দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।


‘জনগণকে ক্ষুধা-অনিদ্রায় রেখে শুধু নিজের ও নিজের লোকদের ভালো করছেন। নিজের লোকেরা বিদেশে টাকা পাচার, ডুপ্লেক্স বাড়ি করার ব্যবস্থা করছেন। আর দেশের মানুষ কোনো রকম ভাবে কলা-রুটি খেয়ে বেঁচে থাকে, তাও আবার সরকারি চাকরিজীবী ও মধ্যম আয়ের মানুষ। আগে যারা মেসে থাকতেন তার একটা ডিম ভেজে ভাত খেতেন। সেই ডিম ভেজে খাওয়ার মতো সামর্থ্য এখন মধ্যম আয়ের মানুষের নাই। নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বাদই দিলাম।’


আওয়ামী লীগের উদ্দেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এরা দুর্ভিক্ষের বিলাসবহুল দেখতে চায়। নিজেরা ভালো থেকে দুর্ভিক্ষের বিলাসবহুল রূপান্তর করতে চায়। তাদেরতো খাবারের অভাব নাই। তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছে রাস্তা, ফুটপাত, ডাস্টবিন থেকে খাবার তুলে মানুষ খেয়েছে। এখন সেই পরিণতি আমরা আবার দেখছি।


‘বিএনপির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে’- মন্ত্রীদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিদিন হামলা-মামলার শিকার হচ্ছে। সিন্ডিকেট আর গোটা মাফিয়া চক্র সব তারাই। ক্যাসিনো, জুয়া সমস্ত সিন্ডিকেটের মালিক তারা। এই তারা কারা তাদের নামও তো আপনাদের গণমাধ্যমে এসেছে। সুতরাং এগুলো তারা বিভ্রান্ত করার জন্য বলেন। কিন্তু মানুষ বিভ্রান্ত হয় না, তারা আরও হাসির পাত্র হন। আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা যখন কথা বলেন তখন তারা হাসির পাত্র হন।


লিফলেট বিতরণকালে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, যুবদল মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক গোলাম মওলা শাহিন, সদস্য সচিব খন্দকার এনামুল হক এনাম, যুগ্ম-আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম নয়ন, মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ হাসান জ্যাকি, সদস্য সচিব আলামিন হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন